সিলেট

সিলেটে মহালক্ষ্মী ভৈরবী গ্রীবা মহাপীঠে বার্ষিক পূজা সম্পন্ন

Icon

দ্যা গ্যালাক্সি নিউজ ডেস্ক

প্রকাশ: ২৭ মার্চ ২০২৬, ০৯:০১ পিএম

সিলেটে মহালক্ষ্মী ভৈরবী গ্রীবা মহাপীঠে বার্ষিক পূজা সম্পন্ন

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নিকট অতি পবিত্র ৫১ শক্তিপীঠের অন্যতম মহাপীঠ শ্রীশ্রী মহালক্ষ্মী ভৈরবী গ্রীবা মহাপীঠে ‘শ্রীশ্রী মহালক্ষ্মী ভৈরবী দেবী’র বার্ষিক পূজা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এই পূজা অনুষ্ঠান সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ৩০নং ওয়ার্ডের জৈনপুর, দক্ষিণ সুরমায় অবস্থিত মহালক্ষ্মী ভৈরবী গ্রীবা মহাপীঠে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

২৭ মার্চ শুক্রবার মহানবমীতে সকাল ৮টায় শ্রীশ্রী মহালক্ষ্মী ভৈরবী দেবীর বিহিত পূজা, পুষ্পাঞ্জলি প্রদান, চণ্ডীপাঠ, ভোগরাগ; দুপুর ১২/৫০/৩৭ ঘ. মধ্যে পূর্ণাহুতি যজ্ঞ, দুপুর ১টায় মহাপ্রসাদ বিতরণ করা হয়।

মহাঅষ্টমীতে বাৎসরিক পূজার দ্বিতীয় দিনে অন্যান্য কর্মসূচির পাশাপাশি বেলা ১২ ঘটিকায় সিলেটের আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য সতীতীর্থ মহালক্ষী পীঠস্থান শ্রীহট্ট জৈনপুর শীর্ষ বিশেষ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী,প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট রামকৃষ্ণ মিশন ও আশ্রমের মহারাজ শ্রীমৎ স্বামী চন্দ্রনাথানন্দজী,বিশেষ আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হবিগঞ্জ রামকৃষ্ণ মিশন ও সেবা সমিতির অধ্যক্ষ ও সম্পাদক শ্রীমৎ স্বামী বেদময়ানন্দজী মহারাজ,বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেটে নিযুক্ত ভারতীয় সরকারি হাই-কমিশনার শ্রী অনিরুদ্ধ দাস,হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি শ্রী সুদীপ রঞ্জন সেন বাপ্পু,রাজেশ ভাটিয়া সহকারি সচিব ভারতীয় হাই কমিশন সিলেট,বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ সিলেট জেলা শাখার সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা গোপিকা শ্যাম পুরকায়স্থ চয়ন,জিওটে সংস্কৃত কলেজের একটা দিলীপ কুমার দাস চৌধুরী, দীপঙ্কর ভট্টাচার্য সভাপতি হবিগঞ্জ পুরোহিত মন্ডলী ও সিনিয়র সহ-সভাপতি ব্রাহ্মণ পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটি, নিখিল মালাকার সাধারণ সম্পাদক পূজা উদযাপন পরিষদ দক্ষিণ সুরমা।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, শিবব্রত ভৌমিক চন্দন সভাপতি পীঠস্থান পরিচালনা কমিটি, অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন, জনার্দন চক্রবর্তীর মিন্টু সাধারণ সম্পাদক পীঠস্থান পরিচালনা কমিটি,সঞ্চালনায় সহযোগিতা করেন নিপেষ দেব পীযূষ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, আমাদের সিলেট দেশের সবার কাছে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত, এখানে আমরা হিন্দু মুসলমান বৌদ্ধ খ্রিস্টান সবাই একসাথে একে অপরের সাথে ভাতৃত্ব বন্ধনে যুগ যুগ ধরে বসবাস করে আসছি। তিনি আরও বলেন এই মহাপীঠস্থান মন্দিরের উন্নয়নে সিলেট সিটি কর্পোরেশন আগেও সার্বিক সহযোগিতা করেছে, এখনো আপনারা মন্দিরের উন্নয়নের জন্য যে সকল প্রকল্প হাতে নিয়েছেন , সেগুলোতে ও সিলেট সিটি কর্পোরেশন এই উন্নয়নে সার্বিক সহযোগিতা করবে।

প্রধান বক্তার বক্তব্যে সিলেট রামকৃষ্ণ মিশন ও আশ্রমের মহারাজ শ্রীমৎ স্বামী চন্দ্রনাথানন্দজী বলেন, সনাতন ধর্মালম্বী আপনারা সকলেই আপনার দৈনন্দিন ব্যস্ততার মধ্যেও যখনই সময় পাবেন তখনই এই মহাপীঠ স্থানে আসবেন এবং দেবী সম্মুখে বসে আপনি নিজেকে জানার চেষ্টা করবেন, এতে করে স্রষ্টার সাথে আপনার একটি গভীর সম্পর্ক সৃষ্টি হবে। যখনই আপনি স্রষ্টার নৈকট্য লাভ করতে পারবেন তখনই মানুষে মানুষে ভাতৃত্বের সৃষ্টি হবে তখন একটি সুন্দর সমাজ ও একটি সুন্দর দেশ গঠন হবে। তাই সময় পেলেই এই মহাপীঠস্থানে আসবেন।

সুমন চক্রবর্তী’র বৈদিক মন্ত্র মাধ্যমে সভার সূচনা হয় এবং অধ্যাপক রাকেশ রঞ্জন শর্মা’র বৈদিক মন্ত্র উচ্চারণের মাধ্যমে সবার সমাপ্তি হয়। এছাড়া আরো উপস্থিত ছিলেন,দীপক দাস, কৃপেশ পাল,শৈলেন কর, দীপঙ্কর পাল,মিন্টু দাস, রঞ্জিত কর, উজ্জ্বল রঞ্জন চন্দ,লাভলু দেব, পুলক দেব প্রমুখ। ২৮ মার্চ শনিবার দশমী বিহিত পূজা শেষে অনুষ্ঠান।

উল্লেখ্য, সত্য যুগে দক্ষ রাজা কর্তৃক যজ্ঞ অনুষ্ঠানে দেবাদিদেব মহাদেব (জামাতা)-কে আমন্ত্রণ না করায় এবং পতিনিন্দা সহ্য করতে না পারায় দক্ষকন্যা সতীদেবী দেহত্যাগ করলে মহাদেব সেই সংবাদ শুনে মৃত সতীর দেহ কাঁধে নিয়ে প্রলয়নৃত্য শুরু করেন। এ অবস্থা ব্রহ্মাদিসহ দেবগণ উপলব্ধি করে সৃষ্টি রক্ষার জন্য শ্রীশ্রী বিষ্ণুর শরণাপন্ন হলে শ্রীবিষ্ণু তাঁর সুদর্শন চক্র দ্বারা মহাদেবের কাঁধে থাকা সতীদেহকে একান্নটি খণ্ডে খণ্ডিত করে ভূমিতে পতিত করেন এবং মহাদেবকে ধ্বংসলীলা থেকে নিবৃত করেন। সতীদেবীর একান্নটি দেহখণ্ড ভারত, বাংলাদেশ, নেপাল, পাকিস্তান, তিব্বত ও শ্রীলঙ্কার বিভিন্ন স্থানে পতিত হয়। এই একান্নটি দেহখণ্ড যেসব স্থানে পতিত হয় সেইসব স্থান একেকটি পীঠস্থান তথা তীর্থস্থান হিসেবে পরিগণিত হয়ে বিভিন্ন নামে পরিচিতি লাভ করে। সিলেট নগর থেকে ৩ কি.মি. দক্ষিণে সিলেট-ফেঞ্চুগঞ্জ সড়কের পশ্চিম পাশে জৈনপুর গ্রামে সত্য যুগের সেই দিনে সতীদেবীর একান্নটি দেহখণ্ডের একটি দেহাংশ (গ্রীবা) পতিত হয়েছিল। ফলে উক্ত স্থানটি গ্রীবা মহাপীঠ নামে পরিচিতি লাভ করে। এখানে অধিষ্ঠাত্রী দেবীর নাম ‘শ্রীশ্রী মহালক্ষ্মী ভৈরবী’ এবং অনতিদূরে ঈশান কোণে গোটাটিকর গ্রামে ‘সর্বানন্দ ভৈরব’ নামে পীঠরক্ষী মহাদেব শিব অধিষ্ঠিত আছেন।

অতি প্রাচীনকাল থেকে নিত্যপূজাসহ প্রতি বছর শিবচতুর্দশী তিথিতে পীঠ ভৈরব সর্বানন্দ মন্দিরে (শিব বাড়িতে) শিবরাত্রীব্রত ও মেলা অনুষ্ঠিত হয় এবং জৈনপুরস্থ মূল পীঠস্থানে অশোকাযোগে পীঠাধিষ্ঠাত্রী ‘শ্রীশ্রী মহালক্ষ্মী ভৈরবী দেবীর’ ৩দিনব্যাপী বার্ষিক পূজা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে।

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

© thegalaxynews.com

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সিলেট থেকে আরো

চৌহাট্টায় ট্রাকের ধাক্কায় প্রাণ হারালেন মোটরসাইকেল আরোহী

চৌহাট্টায় ট্রাকের ধাক্কায় প্রাণ হারালেন মোটরসাইকেল আরোহী

‘আমি হাফ সিলেটি’—লন্ডনে তারেক রহমান

‘আমি হাফ সিলেটি’—লন্ডনে তারেক রহমান

শাবিপ্রবিতে র‌্যাগিং: ২৫ শিক্ষার্থী বহিষ্কার

শাবিপ্রবিতে র‌্যাগিং: ২৫ শিক্ষার্থী বহিষ্কার

সিলেটের যেসব এলাকায় মঙ্গলবার বিদ্যুৎ থাকবে না

সিলেটের যেসব এলাকায় মঙ্গলবার বিদ্যুৎ থাকবে না

সম্পাদক : মো নুরুজ্জামান মনি

অনুসরণ করুন