প্রকাশ: ৩০ মে ২০২৫, ০৯:১৮ পিএম

সাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে উপকূলীয় দ্বীপ জেলা ভোলায় দেখা দিয়েছে বৈরী আবহাওয়া। এর ফলে বৃহস্পতিবার ও শুক্রবারের ঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে জেলার দুর্গম চরাঞ্চলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অন্তত ৫ হাজার ২০০টি ঘরবাড়ি, এর মধ্যে ২০৪টি ঘর পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে।
ভোলার চরফ্যাশনের ঢালচর, চর পাতিলা এবং কুকরীমুকরী এলাকার ক্ষয়ক্ষতি সবচেয়ে বেশি বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মো. আজাদ জাহান। তিনি বৃহস্পতিবার বিকালে ভাঙা বেড়িবাঁধ পরিদর্শন করেন এবং জানান, ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরির কাজ চলছে। ইতোমধ্যে দুর্গত এলাকায় শুকনো খাবার বিতরণ শুরু হয়েছে। তজুমদ্দিন উপজেলায় ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে জেলা প্রশাসন ত্রাণও বিতরণ করেছে।
ঝড়ের কারণে উপকূলীয় এলাকায় পানি ঢুকে পড়েছে লোকালয়ে। ভোলার তজুমদ্দিনে নির্মাণাধীন রিংবাঁধ ও লালমোহন উপজেলার লর্ডহার্ডিঞ্জ ইউনিয়নের সৈয়দাবাদ এলাকায় বাঁধ ভেঙে পড়লে জোয়ারের পানি বসতবাড়িতে ঢুকে পড়ে। পানি উন্নয়ন বোর্ড দ্রুত ওই এলাকাগুলোর বাঁধ মেরামতের কাজ শুরু করেছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আসফাউদদৌলা জানান, লালমোহনের ভেঙে যাওয়া ২০ মিটার বাঁধ মেরামত করা হয়েছে এবং তজুমদ্দিনে রিংবাঁধ নির্মাণ চলছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মুহাম্মদ হাসানুজ্জামান জানান, বৃহস্পতিবার বিকালে মেঘনার পানি বিপৎসীমার ১৩২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় অন্তত দুটি স্থানে বাঁধ ভেঙে যায়।
ঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে শুধু ঘরবাড়িই নয়, চরাঞ্চলে ভেসে গেছে অসংখ্য গবাদিপশু, বিশেষ করে মহিষ। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সহস্রাধিক পুকুর ও ঘেরের মাছ। দুর্যোগের পর স্থানীয়রা ভোলাকে ঝড়-জলোচ্ছ্বাসের হাত থেকে বাঁচাতে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের জোর দাবি জানিয়েছেন।
অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন
© thegalaxynews.com























