সর্বশেষ

এপস্টেইন চক্রের আরও ভয়ংকর তথ্য ফাঁস

Icon

দ্যা গ্যালাক্সি নিউজ ডেস্ক

প্রকাশ: ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৪৪ পিএম

এপস্টেইন চক্রের আরও ভয়ংকর তথ্য ফাঁস

লন্ডনে যৌন অপরাধী Jeffrey Epstein-এর মানবপাচার ও যৌন নিপীড়ন চক্র নিয়ে নতুন করে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে BBC। ‘এপস্টেইন ফাইলস’ নামে পরিচিত বিপুলসংখ্যক ইমেইল, ব্যাংক রেকর্ড ও রসিদের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে তার কর্মকাণ্ডের বিস্তৃত চিত্র।

প্রতিবেদনে বলা হয়, লন্ডনের অভিজাত এলাকা Kensington এবং Chelsea-এ এপস্টেইন চারটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়েছিলেন, যেখানে যৌন নিপীড়নের শিকার নারী ও তরুণীদের রাখা হতো। অন্তত ছয়জন নারী এসব ফ্ল্যাটে অবস্থান করেছেন এবং পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন। তাদের অনেকেই রাশিয়া ও পূর্ব ইউরোপের নাগরিক ছিলেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৫ সালে Virginia Giuffre লন্ডনে মানবপাচারের অভিযোগ তুললেও ব্রিটিশ পুলিশ কোনো তদন্ত শুরু করেনি। এই নিষ্ক্রিয়তার সুযোগ নিয়ে এপস্টেইন দীর্ঘদিন তার অপরাধচক্র পরিচালনা করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

‘এপস্টেইন ফাইলস’-এ আরও জানা যায়, ২০১৯ সালে গ্রেফতারের কয়েক মাস আগ পর্যন্ত তিনি লন্ডনের ফ্ল্যাটগুলোতে থাকা নারীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন। নিজেকে ‘বাড়িওয়ালা’ পরিচয় দিয়ে তিনি উল্টো ওই নারীদের অর্থ সহায়তা করতেন—যার মধ্যে ছিল পড়াশোনার খরচ, আসবাবপত্র কেনা এবং ইংরেজি ভাষা শেখার কোর্সের ব্যয়। বিনিময়ে অনেককে তার চক্রে নতুন নারী সংগ্রহে বাধ্য করা হতো।

তদন্তে উঠে এসেছে, ২০১১ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে Eurostar ট্রেন ব্যবহার করে অন্তত ৫৩ বার নারী পাচার করা হয়েছে ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে। এর মধ্যে ৩৩টি ভ্রমণ হয়েছিল ২০১৫ সালে অভিযোগ ওঠার পর। গ্রেফতারের মাত্র ১৬ দিন আগেও একজন নারীকে লন্ডনে আনা হয়েছিল বলে উল্লেখ করা হয়। এছাড়া শতাধিক ব্যক্তিগত ও বাণিজ্যিক ফ্লাইট ব্যবহারের তথ্যও পাওয়া গেছে।

মানবাধিকার আইনজীবী Tessa Gregory এবং সাবেক ব্রিটিশ গোয়েন্দা কর্মকর্তা Kevin Hyland পুলিশের ভূমিকা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। তারা বলেন, মানবপাচারের মতো গুরুতর অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তদন্ত না করা একটি বড় ব্যর্থতা।

২০২০ সালে আরও একজন নারী অভিযোগ করলেও তা গুরুত্ব পায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে Metropolitan Police দাবি করেছে, তারা আন্তর্জাতিক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে দায়িত্ব পালন করেছে।

এই কেলেঙ্কারিতে ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্য Prince Andrew এবং অভিজাত ব্রিটিশ নাগরিক Claire Hazel-এর নামও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। যদিও প্রিন্স অ্যান্ড্রু শুরু থেকেই কোনো ধরনের অন্যায়ের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।

এদিকে, Jeffrey Epstein-এর মৃত্যু হলেও তার সহযোগীদের অনেকেই এখনও লন্ডনে অবস্থান করছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ভুক্তভোগী ও মানবাধিকার কর্মীরা এখন পুরো ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে একটি স্বাধীন গণতদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

সূত্র: বিবিসি।

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

© thegalaxynews.com

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সর্বশেষ থেকে আরো

ট্রান্সপোর্ট ফর লন্ডনে ২,২০০ জনের বেশি কর্মী বছরে এক লাখ পাউন্ডের বেশি আয় করছেন

ট্রান্সপোর্ট ফর লন্ডনে ২,২০০ জনের বেশি কর্মী বছরে এক লাখ পাউন্ডের বেশি আয় করছেন

প্রাইভেট কারের সাথে সরকারি কর্মকর্তার গাড়ির সংঘর্ষ

প্রাইভেট কারের সাথে সরকারি কর্মকর্তার গাড়ির সংঘর্ষ

যুক্তরাজ্যে ছেলের হাতে পিতার মৃত্যু, মরদেহ এখনো মর্গে

যুক্তরাজ্যে ছেলের হাতে পিতার মৃত্যু, মরদেহ এখনো মর্গে

বীমা নিয়ে প্রতারণা করতে নিজের গাড়িতে আগুন

বীমা নিয়ে প্রতারণা করতে নিজের গাড়িতে আগুন

সম্পাদক : মো নুরুজ্জামান মনি

অনুসরণ করুন