জাতীয়

প্রথম জয়েই সিলেটের ‘জেন্টলম্যান’ ও ‘ম্যাজিকম্যান’র বাজিমাত

Icon

দ্যা গ্যালাক্সি নিউজ ডেস্ক

প্রকাশ: ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০২:১১ পিএম

প্রথম জয়েই সিলেটের ‘জেন্টলম্যান’ ও ‘ম্যাজিকম্যান’র বাজিমাত

খন্দকার আবদুল মুক্তাদির ও আরিফুল হক চৌধুরী। সিলেট বিএনপির দুই কান্ডারি। একজন ‘জেন্টলম্যান’ ও আরেকজনকে ‘ম্যাজিকম্যান’ হিসেবে চিনেন সিলেটবাসী। এবার একই সাথে দুইজন স্থান পেয়েছেন মন্ত্রীসভায়। নির্বাচনে প্রথম জয় পেয়েই সংসদ সদস্য হয়ে মন্ত্রীসভায় স্থান করে নিয়েছেন মুক্তাদির।
আর সিটি করপোরেশনের কমিশনার থেকে মেয়র, সেখান থেকে সংসদ সদস্য হয়েই মন্ত্রীর চেয়ারে আসীন হলেন আরিফুল হক চৌধুরী। এই ‘জেন্টল-ম্যাজিক’ মন্ত্রীত্বে সিলেটে পরিকল্পিত উন্নয়নের ছোঁয়া লাগবে বলে আশাবাদী সিলেটবাসী।
২০১১ সালের দিকে রাজনীতিতে পা রাখেন শিল্পপতি খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। বেছে নেন প্রয়াত বাবা খন্দকার আবদুল মালিকের নির্বাচনী এলাকা সিলেট-১ আসন। ওই আসন থেকে খন্দকার মালিক দুইবার সংসদ সদস্য ছিলেন। রাজনীতির মাঠে নবাগত মুক্তাদির নিয়ে খোদ বিএনপি পরিবারেই ছিল অনেক আলোচনা। কিন্তু অল্প কিছুদিনের মধ্যেই তিনি দল ও সাধারণ মানুষের কাছে নিজেকে একজন ‘জেন্টলম্যান’ হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেন।
দলীয় নেতাকর্মীরা যেমন ভিড়তে থাকেন মুক্তাদিরের পাশে, তেমনি সিলেট সদর ও নগরেও বাড়তে থাকে জনপ্রিয়তা। তার জ্ঞান গভীরতা ও সততা মানুষকে সহজেই মুগ্ধ করে। এর সাথে যুক্ত হয় প্রয়াত বাবা খন্দকার মালিকের ক্লিন ইমেজ ও জনপ্রিয়তা। সবমিলিয়ে অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি সিলেট বিএনপির ‘ছাউনিতে’ পরিণত হন।
২০১৪ সালের নির্বাচনে বিএনপি নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় প্রার্থী হতে পারেননি মুক্তাদির। আর ২০১৮ সালে ‘রাতের ভোট’খ্যাত নির্বাচনে অংশ নিয়ে তিনি পেয়েছিলেন লক্ষাধিক ভোট। সিলেটে চাউর আছে ওই নির্বাচনে মানুষ আরও একঘন্টা ভোট দিতে পারলে ‘রাতের ভোট’ ছাপিয়ে মুক্তাদিরই বিজয়ী হতেন।
রাজনৈতিক পথচলায় খন্দকার মুক্তাদির এখন বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা। বিগত নির্বাচনে তিনি সিলেট-১ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জামায়াতে ইসলামীর মাওলানা হাবিবুর রহমানকে পরাজিত করে বিজয়ী হন। জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী তিনি মন্ত্রীও হয়েছেন। দায়িত্ব পেয়েছেন- বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাঠ মন্ত্রনালয়ের।
অন্যদিকে, আরিফুল হক চৌধুরীর উত্থান সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের হাত ধরে। ছাত্রদল দিয়ে রাজনীতি শুরু করা আরিফ জেলা ও মহানগর বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব পেরিয়ে এখন দলীয় চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা। জনপ্রতিনিধি হিসেবে তার যাত্রা শুরু সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) কমিশনার হিসেবে।
সিসিকের ১৮নং ওয়ার্ডের কমিশনার নির্বাচিত হয়ে সাইফুর রহমানের বদান্যতায় তিনি হয়ে ওঠেন ‘ছায়ামন্ত্রী’। সিলেটের উন্নয়নে রাখেন বড় ভূমিকা। এর ফলস্বরূপ পরবর্তীতে তিনি দুইবার সিসিকের মেয়র নির্বাচিত হন। গত নির্বাচনে সিলেট-১ আসনে মনোনয়ন নিয়ে খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের সাথে ছিল তার তীব্র প্রতিযোগিতা।
একপর্যায়ে আসনটিতে দলীয় প্রার্থী হিসেবে নাম ঘোষণা হয় মুক্তাদিরের। মান-অভিমান নিয়ে আরিফ ছুটে যান বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার বাসায়। খালেদা জিয়া তাকে সিলেট-৪ আসন থেকে নির্বাচন করার নির্দেশ দেন। শহর ছেড়ে সীমান্ত জনপদ সিলেট-৪ (জৈন্তা-গোয়াইনঘাট-কোম্পানীগঞ্জ) আসনে ছুটে যান আরিফ।
বহিরাগত প্রার্থী হিসেবে ওই আসনে আরিফ কতটুকু সুবিধা করতে পারবেন এ নিয়ে অনেকের মাঝেই ছিল সংশয়। কিন্তু অল্প দিনের মধ্যেই ‘ভোটের মাঠে ম্যাজিকম্যান’ হিসেবে পরিচিত আরিফুল হক চৌধুরী জমিয়ে ফেলেন এলাকা। শেষ পর্যন্ত সিলেটে সর্বাধিক ভোট পেয়ে বিজয়ী হন তিনি। কাউন্সিলর থেকে মেয়র, অতপরঃ সংসদ সদস্য হয়ে মন্ত্রীসভায় যুক্ত হন আরিফুল হক চৌধুরী। বর্তমান সরকারের শ্রম ও কর্ম সংস্থান এবং প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন তিনি।

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

© thegalaxynews.com

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

জাতীয় থেকে আরো

নির্বাচনে ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ নিয়ে তারেক রহমানের বক্তব্য

নির্বাচনে ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ নিয়ে তারেক রহমানের বক্তব্য

১৬ দেশে প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধন শুরু

১৬ দেশে প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধন শুরু

২৪ ঘণ্টার মধ্যেই আবারও ভূমিকম্প

২৪ ঘণ্টার মধ্যেই আবারও ভূমিকম্প

আ. লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ: সারাদেশে আনন্দ মিছিল, মিষ্টি বিতরণ

আ. লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ: সারাদেশে আনন্দ মিছিল, মিষ্টি বিতরণ

সম্পাদক : মো নুরুজ্জামান মনি

অনুসরণ করুন