প্রকাশ: ২৭ মার্চ ২০২৬, ০৯:১৬ পিএম

নওগাঁর মান্দা উপজেলার ঐতিহাসিক ঠাকুরমান্দা রঘুনাথ জিউ মন্দির প্রাঙ্গণে রামনবমী উপলক্ষে শুরু হওয়া মেলায় নেমেছে মানুষের ঢল। ‘এক ডুবেই চোখের দৃষ্টিশক্তি ফিরে আসে’—এমন বিশ্বাসকে কেন্দ্র করে মন্দিরসংলগ্ন পুকুরে ভিড় করছেন হাজারো মানুষ।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) ভোর থেকে শুরু হয় ১০ দিনব্যাপী শ্রী রামচন্দ্রের জন্মোৎসব ও রামনবমী মেলার মূল আনুষ্ঠানিকতা। প্রতি বছরের মতো এবারও দেশজুড়ে বিভিন্ন স্থান থেকে আগত ভক্তদের উপস্থিতিতে মুখর হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা।
মেলায় প্রতিদিন পূজা, আরতি, প্রার্থনা ও মানতের নানা আয়োজন চলছে। ভক্তরা ধর্মীয় আচার পালনের পাশাপাশি পুকুরে স্নান করে ‘অলৌকিক’ উপকার লাভের আশায় অংশ নিচ্ছেন।
স্থানীয়দের মতে, শতবর্ষ পুরোনো এই মন্দিরকে ঘিরে প্রচলিত আছে একটি জনশ্রুতি—এক অন্ধ ভক্ত এখানে এসে পুকুরে স্নান করার পর দৃষ্টিশক্তি ফিরে পান। সেই ঘটনার পর থেকেই পুকুরটি অলৌকিক হিসেবে পরিচিতি পায় এবং ধীরে ধীরে এটি তীর্থস্থানে রূপ নেয়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, অনেক অভিভাবক প্রতিবন্ধী শিশুদের নিয়ে পুকুরপাড়ে অবস্থান করছেন। সন্তানের সুস্থতা বা দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাওয়ার আশায় তারা ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছেন। কেউ কেউ মানত হিসেবে টাকা-পয়সাও দান করছেন।
এছাড়া নির্মাণাধীন মন্দিরের বিভিন্ন অংশে শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণে বিশেষ পূজার আয়োজন দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করছে, যা উৎসবের আমেজ আরও বাড়িয়েছে।
উৎসবে অংশ নেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার মনোজ কুমার এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. ইকরামুল বারী টিপু। তারা মন্দির পরিদর্শন করে ভক্তদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
ভক্তদের মতে, এই মন্দির শুধু ধর্মীয় স্থান নয়, বরং গভীর বিশ্বাস ও মানতের কেন্দ্র। অনেকেই মনে করেন, এখানে প্রার্থনা করলে মনোবাসনা পূরণ হয়।
মন্দির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই আয়োজন এখন কেবল ধর্মীয় উৎসবেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি একটি বড় সামাজিক ও অসাম্প্রদায়িক মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে।
বিপুল সংখ্যক দর্শনার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বয়ে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন
© thegalaxynews.com
























