প্রকাশ: ২৭ মার্চ ২০২৬, ০৮:৪৪ পিএম

রাশিয়ার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা এড়াতে ব্যবহৃত তেলবাহী ‘ছায়া নৌবহর’-এর বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নিতে ব্রিটিশ জলসীমায় রুশ ট্যাংকারে ওঠার জন্য সশস্ত্র বাহিনীকে অনুমতি দিয়েছে যুক্তরাজ্য সরকার। ডাউনিং স্ট্রিট জানিয়েছে, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে গোপন নৌবহরের কার্যক্রম মোকাবিলা জোরদার করা হবে।
এর আগে রয়্যাল নেভি মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে যৌথভাবে এমন জাহাজ শনাক্ত ও নজরদারিতে অংশ নিয়েছে। সম্প্রতি ভূমধ্যসাগরে একটি নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত রুশ ট্যাংকার চিহ্নিত করতে সহায়তা করে তারা, পরে সেটিতে ফরাসি নৌবাহিনী অভিযান চালায়।
নতুন অনুমোদনের ফলে ব্রিটিশ বাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলো এখন আরও সক্রিয়ভাবে সেইসব পুরোনো তেলবাহী জাহাজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারবে, যেগুলো ভুয়া পতাকা বা জটিল মালিকানা কাঠামোর মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে রাশিয়া থেকে তেল রপ্তানি করে।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার আওতায় ইতোমধ্যে ৬০০টির বেশি জাহাজ রয়েছে। তবে নতুন নিয়ম কেবল যুক্তরাজ্যের নিজস্ব নিষেধাজ্ঞার তালিকাভুক্ত জাহাজগুলোর ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে।
প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার শিগগিরই হেলসিঙ্কিতে অনুষ্ঠিত জয়েন্ট এক্সপেডিশনারি ফোর্স (জেইএফ) সম্মেলনে অংশ নেবেন, যেখানে সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং রাশিয়াকে মোকাবিলার কৌশল নিয়ে আলোচনা হবে। ফিনল্যান্ড, সুইডেন ও এস্তোনিয়াসহ জোটের অন্যান্য সদস্য দেশ ইতোমধ্যে বাল্টিক সাগরে সন্দেহভাজন জাহাজের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে।
যদিও এই উদ্যোগের লক্ষ্য রাশিয়ার অর্থনীতি দুর্বল করা এবং ইউক্রেনে তাদের যুদ্ধ প্রচেষ্টায় বাধা সৃষ্টি করা, মস্কো সতর্ক করেছে—এ ধরনের পদক্ষেপ সরাসরি সংঘাতের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। একজন জ্যেষ্ঠ রুশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রয়োজনে এসব জাহাজ রক্ষায় রুশ নৌবাহিনী মোতায়েন করা হতে পারে।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হিলি আগেই নিষেধাজ্ঞাভুক্ত জাহাজের বিরুদ্ধে সামরিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছিলেন এবং জব্দ করা তেল বিক্রির অর্থ ইউক্রেনকে দেওয়ার প্রস্তাব দেন।
তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারিতে ইংলিশ চ্যানেল ও বাল্টিক সাগরে ভুয়া পতাকা ব্যবহারকারী অন্তত ২৩টি জাহাজ শনাক্ত হয়েছে, যেগুলোর অনেকই রাশিয়ার তেল রপ্তানির সঙ্গে যুক্ত। এসব তেল মূলত চীন, ভারত ও তুরস্কে পাঠানো হয়।
স্টারমার বলেছেন, তেলের দাম বাড়লে রাশিয়া লাভবান হবে—এই হিসাবেই তারা ছায়া নৌবহর ব্যবহার করছে। তাই এসব কার্যক্রমে নজরদারি বাড়িয়ে শুধু ব্রিটেনের নিরাপত্তা নয়, রাশিয়ার যুদ্ধ অর্থায়নের পথও সীমিত করার চেষ্টা চলছে।
এর আগে যুক্তরাজ্য যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা করে আটলান্টিক মহাসাগরে একটি রুশ-সংশ্লিষ্ট ট্যাংকার আটক করেছিল, যা নাম পরিবর্তন করে চলাচল করছিল। ভবিষ্যতে এ ধরনের অভিযান আরও বাড়ানোর পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।
কোনো জাহাজে অভিযান চালানোর আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সেটির অবস্থা যাচাই করবে এবং প্রয়োজনীয় সুপারিশ দেবে। জব্দের পর জাহাজের মালিক, পরিচালক ও নাবিকদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের অভিযোগে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন
© thegalaxynews.com
























