প্রকাশ: ৫ মার্চ ২০২৫, ০৪:৫১ পিএম

পাপ এবং পূণ্য দুইটি সম্পূর্ণ ভিন্ন রাস্তা। একটির পরিণতি জান্নাতে, অপরটির পরিণতি জাহান্নামে। পাপ মানুষকে আল্লাহ থেকে দূরে নিয়ে যায়, আবার পূণ্য মানুষকে তার রবের নিকটবর্তী করে। কেউ যদি পাপ করে, তবে সে আল্লাহর অসন্তুষ্টি অর্জন করে। কিন্তু যদি সে তওবা করে, তাহলে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করেন এবং তার পথ সোজা করে দেন।
কিছু মানুষ কখনো কখনো পাপ কাজে লিপ্ত হয়, কিন্তু তাদের বিবেক তাদের সঠিক পথে ফিরিয়ে আনে। তারা তওবা করে এবং নিজেদের পাপের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা চায়। আল্লাহ তাদেরকে ক্ষমা করেন, কারণ আল্লাহ তাআলা সবকিছুর উপরে ক্ষমাশীল এবং পরম দয়ালু। মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন, “যারা নিজের উপর জুলুম করার পর তাওবা করবে এবং নিজেকে সংশোধন করবে, নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।” (সূরা মায়িদা: ৩৯)
আল্লাহ তায়ালা আরও বলেন, “হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর কাছে তাওবা করো, বিশুদ্ধ তাওবাহ; সম্ভবত তোমাদের রব তোমাদের পাপসমূহ মোচন করে দেবেন এবং তোমাদেরকে প্রবেশ করাবেন জান্নাতে, যার পাদদেশে নদী প্রবাহিত।” (সূরা আত তাহরিম: ৮)
যারা অশ্লীল কাজ করে ফেললে বা নিজেদের প্রতি যুলুম করলে, তারা আল্লাহকে স্মরণ করে এবং নিজেদের পাপের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে। আল্লাহ ছাড়া আর কে পাপ ক্ষমা করবে? তারা যা করেছে, তাতে তারা অনুতপ্ত হয় এবং পুনরায় সেই পাপ করতে না করার দৃঢ় সংকল্প করে। (সূরা ইমরান: ১৩৫)
হাদিসে আছে, “নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা নিজ হাত রাতে প্রসারিত করেন, যেন দিনে পাপকারী (রাতে) তওবা করে। এবং দিনে তাঁর হাত প্রসারিত করেন, যেন রাতে পাপকারী (দিনে) তওবা করে। এই রীতি সূর্যোদয়ের পূর্ব পর্যন্ত চালু থাকবে।” (মুসলিম: ৭১৬৫)
তাওবার শর্ত এবং পদ্ধতি: তাওবা করার সময় তিনটি শর্ত পূর্ণ করতে হবে:
- পাপ কাজ পুরোপুরি ছেড়ে দিতে হবে।
- নিজ কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত এবং লজ্জিত হতে হবে।
- সে গোনাহ দ্বিতীয়বার না করার দৃঢ় সংকল্প করতে হবে।
এই শর্তগুলো ছাড়া আল্লাহ তাওবা কবুল করবেন না। তাওবা করার কিছু উত্তম পদ্ধতি রয়েছে:
- তাওবার পূর্বে অযু করা।
- নফল নামাজ পড়া এবং আল্লাহর নিকট ক্ষমা চাওয়া।
- অতীতের পাপ মোচনের জন্য দোয়া করা।
তাওবা করার সময়সীমা: অনেকে মনে করেন, মৃত্যুর নিদর্শন উপস্থিত হওয়ার পরই তওবা করতে হবে। কিন্তু, রাসূল (সা.) বলেছেন, “নিশ্চয় আল্লাহ বান্দার তাওবা কবুল করেন মৃত্যুর যন্ত্রণা আসার পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত।” (তিরমিজি: ৩৫৩৭)
তাওবার ফলাফল: তাওবা করার ফলে আল্লাহ বান্দাকে তাঁর আনুগত্যে আসা সহজ করে দেন এবং নেক কাজ করার তাওফীক দেন। গুনাহের পরিণতি হলো, তা মানুষকে আল্লাহর পথে চলতে বাধা দেয়, আর তাওবা করলে সেই পথ পরিষ্কার হয়ে যায়। ইমাম গাজ্জালী (রহ.) তার বিখ্যাত কিতাব “মিনহাজুল আবেদিন”-এ বলেছেন, “গুনাহ মানুষকে বঞ্চিত করার অভিভাবকত্ব করে এবং ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়।”
এছাড়া, তাওবা না করার ফলে অন্তর কালো হয়ে যায় এবং ভাল কাজের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে যায়। সুতরাং, তাওবা না করার পরিণতি খুবই ভয়াবহ এবং তা মানুষকে শিরক ও কুফরের দিকে নিয়ে যেতে পারে।
হাদিসে বলা হয়েছে, “মুমিন যখন কোন পাপ করে, তখন তার হৃদয়ে একটি কালো দাগ পড়ে যায়। অতঃপর সে যদি তওবা করে, পাপ থেকে বিরত হয় এবং ক্ষমা প্রার্থনা করে, তাহলে তার হৃদয় পরিষ্কার হয়ে যায়।” (আহমাদ: ৭৮৯২, তিরমিযী: ৩৩৩৪)
অতএব, একজন মুমিনের উচিত প্রতিদিন তওবা করা, যেমন রাসূল (সা.) নিজে প্রতিদিন ৭০ বার তওবা করতেন। (বুখারি: ৬৩০৭)
উপসংহার: গুনাহ আমাদেরকে আল্লাহ থেকে দূরে সরিয়ে নিয়ে যায়, কিন্তু তওবা আমাদের সেই পথ থেকে ফিরিয়ে আনতে পারে। যদি আমরা আন্তরিকভাবে তওবা করি, তবে আল্লাহ আমাদের পাপ মাফ করে আমাদেরকে সঠিক পথে পরিচালিত করবেন। সুতরাং, আমরা যেন প্রতিদিন তওবা করি এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি, যাতে আমাদের অন্তর পরিষ্কার হয় এবং আমরা জান্নাতের পথে পরিচালিত হই।
অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন
© thegalaxynews.com
























