প্রকাশ: ১৪ এপ্রিল ২০২৫, ০৮:৫০ পিএম

উট—মরুর বুকে এক বিস্ময়কর জীব। তার শরীরে লুকিয়ে আছে এমন সব বৈশিষ্ট্য, যা আধুনিক বিজ্ঞানের গবেষকদেরও বিস্ময়ে ফেলেছে। প্রচণ্ড গরম বা শীত, পানি সংকট বা দীর্ঘ পথ পাড়ি—সব কিছুতেই সে অদম্য। আর এ কারণেই কোরআনেও এই প্রাণীর দিকে গভীরভাবে দৃষ্টিপাত করার কথা বলা হয়েছে।
উটের অসাধারণ সহনশক্তি
উট এমন এক প্রাণী, যা ৫৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা থেকে শুরু করে হিম শীতল -১ ডিগ্রিতেও টিকে থাকতে পারে। মরুর উত্তপ্ত বালিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা পা রেখে হেঁটে চলার সক্ষমতা রয়েছে তাদের। তারা দীর্ঘ সময় পানি ছাড়াই বেঁচে থাকতে পারে এবং ক্যাকটাসের মতো কাঁটাযুক্ত উদ্ভিদও অনায়াসে খেয়ে ফেলে।
প্রাণিবিজ্ঞানের সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, অধিকাংশ স্তন্যপায়ী প্রাণীর শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা প্রায় ৩৬-৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রির বেশি হলে শরীরের অভ্যন্তরীণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গ মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কিন্তু উট এক ব্যতিক্রম। দিনের শুরুতে তার শরীরের তাপমাত্রা থাকে ৩৪ ডিগ্রি, যা দিনে বাড়তে বাড়তে ৪১ ডিগ্রি ছাড়িয়ে যায়, তবুও তার শরীরের অভ্যন্তরীণ সিস্টেম অটুট থাকে।
বিশেষ রক্তকণিকার গঠন
উটের রক্তে রয়েছে ব্যতিক্রমী পানিধারণ ক্ষমতা। এক বসায় উট ১০ মিনিটে প্রায় ১৩০ লিটার পানি পান করতে পারে। এই পরিমাণ পানি যদি অন্য কোনো প্রাণীর রক্তে প্রবেশ করতো, তাহলে তাদের রক্তকণিকা স্ফীত হয়ে ফেটে যেত। কিন্তু উটের রক্তকণিকা লম্বা ও নমনীয় হওয়ায় তা ফেটে যায় না বরং পানি শোষণ করে কাজ চালিয়ে যায়।
কুঁজ: শক্তির ভাণ্ডার
উটের পিঠের কুঁজ সাধারণত চর্বি দিয়ে পূর্ণ থাকে। এটি শুধু শক্তির উৎসই নয়, বরং শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণেও ভূমিকা রাখে। প্রয়োজনের সময় এই চর্বি রূপান্তরিত হয় পানি ও শক্তিতে। খাদ্য ও পানি না পেলেও এই সংরক্ষিত শক্তির মাধ্যমে উট টানা ছয় মাস পর্যন্ত টিকে থাকতে পারে।
চোখ ও মুখের বিশেষ গঠন
উটের মুখের গঠনও প্রকৌশলগতভাবে বিস্ময়কর। তাদের মুখে রয়েছে বহু ক্ষুদ্র ও শক্ত ‘আঙুলের’ মতো অংশ, যা কাঁটা সহ উদ্ভিদ চিবাতে সহায়তা করে। ফলে তারা এমন খাবার খেতে পারে যা অন্য প্রাণীদের জন্য সম্ভব নয়।
তাদের চোখেও রয়েছে সুরক্ষার ব্যবস্থা। প্রতিটি চোখে দুটি করে পাপড়ি থাকে, যা ধুলিঝড়েও চোখ খুলে রাখার সুযোগ দেয়। এই বাঁকানো পাপড়ি ধুলা আটকে রাখে এবং চোখকে সুরক্ষিত ও আর্দ্র রাখে।
মানুষের অনুগত এক সঙ্গী
১৮০ থেকে ২৬০ কেজি ওজনের এই বিশাল প্রাণীটি সহজে নিয়ন্ত্রণযোগ্য ও শান্ত স্বভাবের। মরুর প্রতিকূল পরিবেশেও মানুষকে সহায়তা করার ক্ষেত্রে উট অনন্য। তাই একে বলা হয় “মরুর জাহাজ”।
কোরআনে উটের উল্লেখ
আল্লাহতায়ালা কোরআনে বলেন:
“তারা কি উটের দিকে তাকিয়ে দেখে না— কিভাবে তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে?”
📖 সূরা আল-গাশিয়া, আয়াত ১৭
এই আয়াতে আল্লাহ আমাদেরকে আহ্বান করেছেন চিন্তা করতে—উটের গঠন ও ক্ষমতা নিয়ে। যা তাঁর সৃষ্টির নিদর্শনগুলোর অন্যতম। শুধু একটি প্রাণীর মধ্যেই তিনি এমনভাবে জড়ো করেছেন জটিল পরিবেশে টিকে থাকার অসংখ্য বৈজ্ঞানিক কৌশল, যা শুধু তাঁর অসীম প্রজ্ঞারই বহিঃপ্রকাশ।
অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন
© thegalaxynews.com
























