ধর্ম

কোরবানির ইতিহাস ও বিধান

Icon

দ্যা গ্যালাক্সি নিউজ ডেস্ক

প্রকাশ: ২২ এপ্রিল ২০২৫, ০৫:০৪ পিএম

কোরবানির ইতিহাস ও বিধান

কোরবান শব্দটি আরবি থেকে এসেছে, যার আভিধানিক অর্থ হচ্ছে “কাছে যাওয়া” বা “নৈকট্য অর্জন করা”। ইসলামি পরিভাষায়, কোরবানি হলো জ্ঞানসম্পন্ন, প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিমের জন্য একটি ইবাদত, যা ১০ জিলহজ সকাল থেকে ১২ জিলহজ সূর্যাস্তের পূর্ব পর্যন্ত নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পালন করতে হয়। কোরবানির জন্য যে ব্যক্তির নিকট নিসাব পরিমাণ সম্পদ (যেমন সাড়ে সাত ভরি স্বর্ণ বা সাড়ে বায়ান্ন ভরি রূপা অথবা সমপরিমাণ নগদ অর্থ বা ব্যবসার পণ্যের মালিক) রয়েছে, তার জন্য কোরবানি করা ওয়াজিব।

প্রথম থেকেই, পৃথিবীর বিভিন্ন জাতির উপর কোরবানি বিধান ছিল। হজরত মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পর্যন্ত প্রত্যেক নবীর উম্মতের উপর এটি ছিল। মহান আল্লাহ কোরআনে বলেন, “প্রত্যেক উম্মতের জন্য আমি কোরবানির বিধান রেখেছিলাম, যাতে তারা উক্ত পশু জবাই করার সময় মহান আল্লাহর নাম স্মরণ করে, কেননা তিনি চতুষ্পদ জন্তু থেকে তাদের জন্য রিজিক নির্ধারণ করেছেন।” (সুরা হজ, আয়াত ৩৪)

এ আয়াতের ব্যাখ্যায় আল্লামা নাসাফি (রহ.) বলেছেন, আদম (আ.) থেকে মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পর্যন্ত প্রত্যেক জাতিকে মহান আল্লাহ তার নৈকট্য লাভের জন্য কোরবানির বিধান দিয়েছেন। (তাফসিরে নাসাফি ৩/৭৯)

কোরবানি প্রথম শুরু হয়েছিল হজরত আদম (আ.)-এর সময়ে। তার দুই পুত্র, হাবিল ও কাবিল, প্রথম কোরবানি প্রদান করেন। হাবিল পশুপালন করতেন এবং একটি উৎকৃষ্ট দুম্বা কোরবানি দেন। অন্যদিকে, কাবিল কৃষিকাজ করতেন এবং কিছু শস্য ও গম কোরবানি দেন। তারপর, আকাশ থেকে অগ্নিশিখা এসে হাবিলের কোরবানিটি গ্রহন করে এবং কাবিলের কোরবানি অপরিবর্তিত থাকে। এভাবে, হাবিলের কোরবানি আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য হয়।

হজরত ইবরাহিম (আ.)-এর সময়েও কোরবানি একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত ছিল। ইসলামের ইতিহাসে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কোরবানি হল হজরত ইসমাইল (আ.)-কে কোরবানি করার ঘটনা। আল্লাহর নির্দেশে, হজরত ইবরাহিম (আ.) স্বপ্নে দেখেন যে, তিনি তার পুত্র ইসমাইল (আ.)-কে কোরবানি করছেন। ইসমাইল (আ.)-ও পিতার আদেশকে মেনে নেয়। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ ইরশাদ করেন:

“অতঃপর যখন সে তার সাথে চলাফেরা করার বয়সে পৌঁছল, তখন সে বলল, হে প্রিয় বৎস, আমি স্বপ্নে দেখেছি যে, আমি তোমাকে জবাই করছি, অতএব দেখ তোমার কী অভিমত; সে বলল, হে আমার পিতা, আপনাকে যা আদেশ করা হয়েছে, আপনি তাই করুন। আমাকে ইনশাআল্লাহ আপনি অবশ্যই ধৈর্যশীলদের অন্তর্ভুক্ত পাবেন। অতঃপর তারা উভয়ে যখন আত্মসমর্পণ করল এবং সে তাকে কাত করে শুইয়ে দিল। তখন আমি তাকে আহ্বান করে বললাম, হে ইবরাহিম, তুমি তো স্বপ্নাদেশ সত্যিই পালন করলে! এভাবেই আমি সৎ কর্মপরায়ণদের পুরস্কৃত করে থাকি।” (সুরা আস-সাফফাত, আয়াত: ১০২-১০৫)

এই ঘটনা কোরবানির ইতিহাসের অন্যতম মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে এবং মুসলিম উম্মাহর জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতিচিহ্ন। হজরত ইবরাহিম (আ.)-এর সুন্নত অনুসরণ করেই মুসলিমরা প্রতি বছর কোরবানি প্রদান করেন।

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

© thegalaxynews.com

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

ধর্ম থেকে আরো

নামাজের সময়সূচি: ৯ মে ২০২৫

নামাজের সময়সূচি: ৯ মে ২০২৫

কোরআনের দৃষ্টিতে উট: সৃষ্টির এক অপূর্ব নিদর্শন

কোরআনের দৃষ্টিতে উট: সৃষ্টির এক অপূর্ব নিদর্শন

ঋণ পরিশোধ আগে, নাকি কোরবানি?

ঋণ পরিশোধ আগে, নাকি কোরবানি?

টেক্সটাইল বর্জ্য কমাতে টেকসই ইহরাম চালু করছে সৌদি আরব

টেক্সটাইল বর্জ্য কমাতে টেকসই ইহরাম চালু করছে সৌদি আরব

সম্পাদক : মো নুরুজ্জামান মনি

অনুসরণ করুন