সিলেট, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (বাসস): দীর্ঘ তিন দশক পর সিলেট-৬ আসনে বিজয় পেয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলটির মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।
গোলাপগঞ্জ ও বিয়ানীবাজার উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে সর্বশেষ ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপি জয়লাভ করেছিল। স্বাধীনতার পর দীর্ঘ সময় ধরে দলটি এখানে বিজয় বঞ্চিত ছিল। এবারের নির্বাচনের মাধ্যমে সেই আক্ষেপের অবসান হলো।
নির্বাচনে এমরান আহমদ চৌধুরী পেয়েছেন ১ লাখ ৯ হাজার ৯১৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি-র প্রার্থী মো. সেলিম উদ্দিন পেয়েছেন ১ লাখ ১ হাজার ৫৬৯ ভোট। ৮ হাজার ৩৪৮ ভোটের ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেন বিএনপি প্রার্থী।
এই জয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। তৃণমূলের কর্মীরা মনে করছেন, প্রার্থী নির্বাচন, দলীয় ঐক্য, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের ইশতেহার এবং ধানের শীষ প্রতীকের প্রতি ভোটারদের সমর্থনই এ বিজয়ের মূল কারণ। তাদের প্রত্যাশা, এ সাফল্য গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজারে দলের সাংগঠনিক অবস্থান আরও শক্তিশালী করবে।
এবারের নির্বাচনে সিলেট-৬ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন অন্তত অর্ধডজন প্রভাবশালী নেতা। শেষ পর্যন্ত এমরান আহমদ চৌধুরীকেই প্রার্থী করা হয়।
এর আগে এ আসনে ছয়বার বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, দুবার জাতীয় পার্টি এবং দুবার স্বতন্ত্র প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী শরফ উদ্দিন খসরু জয় পান।
পেশায় আইনজীবী এমরান আহমদ চৌধুরী পদার্থবিজ্ঞানে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী। তিনি ২০০২ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত জেলা ছাত্রদলের সভাপতি এবং ২০০৩ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহসভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২২ সালে তিনি প্রত্যক্ষ ভোটে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। তিনি সিলেট জেলা ক্রীড়া সংস্থারও সদস্য।
বাসসকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় এমরান আহমদ চৌধুরী মহান আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি তিনি দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান-এর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
বিজয়ের অনুভূতি প্রকাশ করে তিনি বলেন, এই সাফল্যের মাধ্যমে তার দায়িত্ব আরও বেড়ে গেছে। সবার সহযোগিতা নিয়ে গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজারের পিছিয়ে পড়া জনপদকে এগিয়ে নিতে চান তিনি।
সিলেট অঞ্চলের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যোগাযোগ ব্যবস্থা অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় রয়েছে। আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থাকা সত্ত্বেও তা আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত হয়নি। রেললাইনগুলোর অবস্থাও সন্তোষজনক নয়। এসব বিষয়ে দলীয় নেতৃত্ব গুরুত্ব দেবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার পর মাত্র একবার এ আসনে বিএনপি জয় পেয়েছিল এবং তা ছিল স্বল্প সময়ের জন্য। এবার জনগণ দলের প্রতি ভালোবাসা ও আস্থার প্রতিফলন ঘটিয়েছে। সেই আস্থার যথাযথ মূল্যায়ন করাই হবে তার প্রধান দায়িত্ব।

























