প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৫, ০৫:৪৮ পিএম

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ লেবার পার্টির এমপি টিউলিপ সিদ্দিক এখন রাজনৈতিকভাবে গভীর সংকটে রয়েছেন। এক সময় যুক্তরাজ্যের লেবার সরকারের একজন দায়িত্বশীল মন্ত্রী থাকলেও, সাম্প্রতিক দুর্নীতির অভিযোগের জেরে তাকে পদত্যাগ করতে হয়েছে।
বাংলাদেশে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পরপরই টিউলিপের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়। অভিযোগ, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আত্মসাতের সঙ্গে তিনি ও তার পরিবারের আরও চার সদস্য জড়িত। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এই অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে মামলা এবং গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। এছাড়াও, প্লট বরাদ্দে অনিয়ম সম্পর্কেও তদন্ত চলছে।
৪২ বছর বয়সী টিউলিপ সিদ্দিক যুক্তরাজ্যে অর্থনৈতিক অপরাধ প্রতিরোধে দায়িত্বে ছিলেন, যা এখন তার বিরুদ্ধে ওঠা আর্থিক কেলেঙ্কারির অভিযোগকে আরও বিতর্কিত করে তুলেছে। তার এই দ্বৈত ভূমিকা ব্রিটিশ রাজনীতিতেও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
সম্প্রতি অন্তর্বর্তী বাংলাদেশ সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মোহাম্মদ ইউনুসের যুক্তরাজ্য সফরকালে টিউলিপ সাক্ষাতের আবেদন করলেও, উপদেষ্টা তা প্রত্যাখ্যান করেন। পরে এক প্রতিক্রিয়ায় টিউলিপ বলেন, “আমার বিরুদ্ধে কোনো প্রমাণ ছাড়া রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চালানো হচ্ছে।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মন্ত্রিত্ব হারানোর পর টিউলিপ এখন লেবার পার্টির ভেতরে নিজের অবস্থান টিকিয়ে রাখার লড়াইয়ে আছেন। প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমারের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করছেন তিনি, তবে লেবার সরকারের অভ্যন্তরীণ সংকটের মুখে টিউলিপের জন্য নতুন করে জায়গা করে নেওয়া বেশ কঠিন হয়ে উঠছে।
বিশেষজ্ঞদের ধারণা, বাংলাদেশে চলমান দুর্নীতি তদন্তে যদি টিউলিপের বিরুদ্ধে আরও প্রমাণ সামনে আসে, তাহলে তা তার ব্রিটিশ রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে বড় ধরনের ধাক্কা হয়ে দাঁড়াতে পারে। একই সঙ্গে যুক্তরাজ্যের আইনি ও রাজনৈতিক চাপে তার ভবিষ্যৎ কার্যত অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারে।
অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন
© thegalaxynews.com
























