প্রকাশ: ২২ এপ্রিল ২০২৫, ০৪:০৭ পিএম

বাংলাদেশ এখন এমন একটি সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে, যেখানে রাষ্ট্র ও নাগরিকদের মধ্যে নতুন এক সামাজিক চুক্তি গড়ে তোলার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে—বললেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
মঙ্গলবার (২২ এপ্রিল) কাতারের দোহায় আয়োজিত ‘আর্থনা শীর্ষ সম্মেলন ২০২৫’-এর উদ্বোধনী ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, “আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই, যা বিশ্ববাসীর জন্য আশার আলো হয়ে উঠবে। এজন্য দরকার নতুন করে ভাবা, অন্তর্ভুক্তিমূলক সামাজিক কাঠামো তৈরি করা এবং প্রান্তিক মানুষের ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা।”
ড. ইউনূস মনে করেন, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি, সামাজিক ব্যবসা ও মাইক্রোফাইন্যান্স প্রান্তিক জনগণের উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি বলেন, “আমরা এমন একটি চুক্তির কথা বলছি, যেখানে ন্যায়বিচার, মর্যাদা এবং সমান সুযোগ থাকবে সবার জন্য।”
বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তন, ভাঙনধর্মী ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি, এবং প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের ঝড়ের মধ্যে মানবতার সামনে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এই প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেন অধ্যাপক ইউনূস। “এখন সময় সাহসী হওয়ার। এমন একটি পৃথিবী গড়তে হবে, যেখানে দারিদ্র্য কারো স্বপ্ন দেখার পথে বাধা হবে না,” বলেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, “ভবিষ্যৎ আমাদের উত্তরাধিকার নয়, বরং আমরা যেটি তৈরি করি। আমাদের প্রত্যেকের একটি করে দায়িত্ব রয়েছে সেই ভবিষ্যৎ নির্মাণে।”
সম্মেলনে কাতার ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন শেখ মোজা বিনতে নাসের ও ভাইস চেয়ারপারসন শেখ হিন্দ বিনতে হামাদ আল থানির উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান তিনি।
দোহায় শুরু হওয়া এই দুই দিনব্যাপী সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য ছিল—‘আমাদের উত্তরাধিকার গড়ে তোলা: স্থায়িত্ব, উদ্ভাবন ও ঐতিহ্যবাহী জ্ঞান’। এই প্ল্যাটফর্মে ঐতিহ্যবাহী জ্ঞান ও আধুনিক উদ্ভাবনের সংমিশ্রণে ভবিষ্যতের টেকসই উন্নয়ন কেমন হতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা হয়।
অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন
© thegalaxynews.com
























