প্রকাশ: ১০ এপ্রিল ২০২৫, ০৪:৫১ পিএম

পাকিস্তানে অবস্থানরত আফগান শরণার্থীদের দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া দ্বিতীয় ধাপে প্রবেশ করেছে। ইতোমধ্যে ১১ হাজারেরও বেশি আফগান নাগরিককে পাকিস্তান ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
গত ৩১ মার্চ আফগান শরণার্থীদের স্বেচ্ছা প্রত্যাবর্তনের সময়সীমা শেষ হওয়ার পরপরই, ১ এপ্রিল থেকে শুরু হয় নতুন করে বহিষ্কারের কার্যক্রম। ধারণা করা হচ্ছে, এই ধাপে প্রায় ৩০ লাখ আফগান শরণার্থীকে ফেরত পাঠানোর লক্ষ্য রয়েছে।
পাকিস্তানি গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ১ থেকে ৯ এপ্রিলের মধ্যে ১১,৩৭১ জন শরণার্থীকে দেশ ছাড়তে বলা হয়েছে, যার মধ্যে কেউ স্বেচ্ছায়, কেউ জোরপূর্বক ফেরত গেছেন। শুধুমাত্র ল্যান্ডি কোটাল নির্বাসন শিবিরেই ২,২৪২ জন নিজের ইচ্ছায় নাম নিবন্ধন করেন এবং তোরখাম সীমান্ত দিয়ে আফগানিস্তানে ফিরে যান। একই সময়ে পাকিস্তানের বিভিন্ন এলাকা থেকে ১,৪২৭ জনকে গ্রেফতার করে তোরখামে পাঠানো হয়।
পাকিস্তানের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তোরখাম সীমান্তে আফগান শরণার্থীদের সহায়তায় তালেবান প্রশাসন একটি বিশেষ কমিটি গঠন করেছে, যারা ২৪ ঘণ্টা সেবা দিচ্ছে। খাদ্য, চিকিৎসা, পরিবহন, যোগাযোগ ও নথিপত্র সংক্রান্ত সহযোগিতা তাদের প্রদান করা হচ্ছে।
তালেবান সরকারের অনুরোধ সত্ত্বেও, পাকিস্তান সরকার সময়সীমা বাড়ায়নি। বরং খাইবার পাখতুনখোয়ার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়ুয়া আফগান শিক্ষার্থীদের তথ্য সংগ্রহের নির্দেশ দিয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০০১ সাল থেকে আফগানিস্তানে চলা যুদ্ধ ও তালেবান পুনরাগমনের পর লাখ লাখ আফগান নাগরিক পাকিস্তানে আশ্রয় নেয়। যদিও অনেক পশ্চিমা দেশ ওই শরণার্থীদের পুনর্বাসনের আশ্বাস দিয়েছিল, তারা তা বাস্তবায়ন করেনি, ফলে শরণার্থীরা পাকিস্তানেই থেকে গেছে।
সম্প্রতি দুই দেশের সম্পর্কের অবনতি, সীমান্ত এলাকায় সহিংসতা ও সন্ত্রাসী হামলার পেছনে আফগান ভূমির ভূমিকা থাকার অভিযোগের কারণে পাকিস্তান আফগান শরণার্থীদের ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়। এই প্রক্রিয়া ২০২৩ সালের অক্টোবরে শুরু হয় এবং জাতিসংঘ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর সমালোচনার মধ্যেও তা এখনো চলছে।
আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, গত ১৮ মাসে পাকিস্তান থেকে প্রায় ৮ লাখ ৭৯ হাজার আফগান নাগরিক নিজ দেশে ফিরে গেছে।
অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন
© thegalaxynews.com
























