আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ডের আবেদন প্রক্রিয়া সাময়িক স্থগিত, শঙ্কায় বাংলাদেশিরাও

Icon

দ্যা গ্যালাক্সি নিউজ ডেস্ক

প্রকাশ: ২৭ মার্চ ২০২৫, ০৫:০৯ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ডের আবেদন প্রক্রিয়া সাময়িক স্থগিত, শঙ্কায় বাংলাদেশিরাও

শরণার্থী ও আশ্রয়হীনদের জন্য গ্রিন কার্ডের আবেদন সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের একটি প্রজ্ঞাপনে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে। এর ফলে দেশটিতে বসবাসরত বাংলাদেশি অভিবাসীদের মধ্যে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার নতুন নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে অভিবাসন প্রক্রিয়ায় কড়াকড়ি আরোপ করেছেন, যার ফলে ‘গ্রিন কার্ড’ বা স্থায়ী বাসিন্দা হওয়ার আবেদন কিছু সময়ের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ জানিয়েছে, তারা কিছু শরণার্থী ও আশ্রয়প্রাপ্ত ব্যক্তির অভিবাসন প্রক্রিয়া এবং গ্রিন কার্ড আবেদন পর্যালোচনা স্থগিত করেছে, যা বিশেষ করে যুদ্ধ-বিধ্বস্ত বা সংঘাতপূর্ণ দেশ থেকে আসা ব্যক্তিদের জন্য অনিশ্চয়তার সৃষ্টি করেছে।

ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে প্রতারণা রোধ এবং জাতীয় ও জননিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নতুন যাচাই প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে কঠোর নিরাপত্তা যাচাইয়ের মধ্য দিয়ে আগত শরণার্থীদের জন্য আরও এক দফা জটিলতা তৈরি করবে। বাংলাদেশসহ নিরাপত্তা ঝুঁকিতে থাকা দেশ থেকে আগত অভিবাসনপ্রত্যাশীরা এর ফলে বেশি প্রভাবিত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে, এই সিদ্ধান্তটি দেশটিতে বসবাসরত হাজারো বাংলাদেশি পরিবারকে উদ্বিগ্ন করেছে, যারা তাদের আত্মীয়স্বজনদের গ্রিন কার্ড প্রক্রিয়ার জন্য অপেক্ষা করছিলেন। অভিবাসন আইনজীবীরা আশঙ্কা করছেন যে, এই বাধাগুলি যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন সিস্টেমে দীর্ঘসূত্রতা সৃষ্টি করতে পারে এবং ইউএসসিআইসি-এর আয়েও প্রভাব ফেলতে পারে, কারণ এটি একটি ফি-ভিত্তিক সংস্থা।

এছাড়া, ২৬ মার্চ মঙ্গলবার, ট্রাম্প একটি নতুন নির্বাহী আদেশে সই করেছেন, যার ফলে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে নাগরিকত্বের প্রমাণ প্রদান করতে হবে মার্কিন নাগরিকদের। ডাকযোগে ভোট দেয়ার ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। ট্রাম্পের অভিযোগ, ২০২০ সালের নির্বাচনে ব্যাপক জালিয়াতি হয়েছে এবং এর বিরুদ্ধে তিনি কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছেন।

নতুন নির্বাহী আদেশে ভোটারদের ভোট দেয়ার জন্য নাগরিকত্বের প্রমাণ দেখাতে হবে, যেমন জন্ম নিবন্ধন, নাগরিকত্বের সার্টিফিকেট বা পাসপোর্ট। এ আদেশে সই করার সময় ট্রাম্প বলেছেন, “ভুয়া ভোট আর খারাপ নির্বাচনের দিন শেষ হয়ে গেছে। এখনই সময় অসুস্থ পরিবেশ থেকে উত্তরণের।”

এছাড়া, নির্বাহী আদেশে ডাকযোগে ভোটদানের উপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে এবং যেসব অঙ্গরাজ্য এই আদেশ মানবে না, তাদের ফেডারেল তহবিল প্রত্যাহারের হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ৩৪ কোটি জনসংখ্যার মধ্যে ১৪ কোটি ৬০ লাখের পাসপোর্ট নেই। এক গবেষণায় দেখা গেছে, ৯ শতাংশ মার্কিন নাগরিক, যারা ভোট দেওয়ার যোগ্য, অর্থাৎ ২ কোটি ১৩ লাখ মানুষের নাগরিকত্ব প্রমাণের কোনো নথি নেই। বিভিন্ন ভোটাধিকার সংস্থা দাবি করছে, ট্রাম্পের এই নির্বাহী আদেশের কারণে পাসপোর্ট বা অন্যান্য নথি না থাকা ব্যক্তিরা ভোটাধিকার হারাতে পারেন।

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

© thegalaxynews.com

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

আন্তর্জাতিক থেকে আরো

মোসাদের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির দায়ে ইরানে এক ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর

মোসাদের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির দায়ে ইরানে এক ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর

ভিসা স্থগিতের ব্যাখ্যা দিল যুক্তরাষ্ট্র

ভিসা স্থগিতের ব্যাখ্যা দিল যুক্তরাষ্ট্র

লন্ডনে তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের ওপর হামলার চেষ্টা

লন্ডনে তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের ওপর হামলার চেষ্টা

হার্ভার্ডের কাছে ১ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি ট্রাম্পের

হার্ভার্ডের কাছে ১ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি ট্রাম্পের

সম্পাদক : মো নুরুজ্জামান মনি

অনুসরণ করুন