প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৫, ০৪:৩৯ পিএম

যুক্তরাজ্যের একটি সংসদীয় কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান বর্তমানে দেশটির জন্য রাশিয়ার মতোই বড় হুমকি হিসেবে দেখা দিচ্ছে। এই হুমকির মধ্যে রয়েছে সাইবার হামলা, শারীরিক আক্রমণ ও হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা।
পার্লামেন্টের গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা কমিটি জানিয়েছে, ইরান যুক্তরাজ্যে বসবাসকারী ভিন্নমতাবলম্বী ইরানিদের ওপর আক্রমণ চালাতে সক্রিয়। এমনকি হত্যার চেষ্টাও করা হচ্ছে। যুক্তরাজ্যে ইরানি ভিন্নমতাবলম্বীদের ওপর হুমকি বাড়তে থাকে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে মাহসা আমিনির মৃত্যুর পর, যখন দেশজুড়ে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
কমিটির মতে, যুক্তরাজ্য ইরানের সাইবার গুপ্তচরবৃত্তির একটি প্রধান লক্ষ্য, যেটি শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের পরেই অবস্থান করে। বিশেষ করে দেশের পেট্রোকেমিক্যাল, ইউটিলিটি ও আর্থিক খাতগুলো আক্রমণের ঝুঁকিতে রয়েছে।
প্রতিবেদনটি ২০২৩ সালের আগস্ট পর্যন্ত তথ্য সংগ্রহের ভিত্তিতে তৈরি, তাই মে মাসে ইরান-সম্পৃক্ত সন্ত্রাসী পরিকল্পনায় পাঁচজন গ্রেপ্তার হওয়ার ঘটনা এতে অন্তর্ভুক্ত নয়।
এছাড়াও, প্রতিবেদনে দেখা গেছে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হামাসের আক্রমণ বা ইরানি স্থাপনায় ইসরায়েলি হামলার প্রতিক্রিয়ার মতো সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর প্রভাব এই প্রতিবেদনে নেই।
প্রতিবেদনটি সরকারের নতুন নিষেধাজ্ঞা ও বিদেশি প্রভাব নিবন্ধন ব্যবস্থাকে কেন্দ্র করে তৈরি নীতিমালার আলোচনায় ভূমিকা রাখবে। এর আওতায় ইরানের সঙ্গে যুক্ত কারও যুক্তরাজ্যে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে—না করলে পাঁচ বছর পর্যন্ত জেল হতে পারে।
কমিটি সমালোচনা করে বলেছে, যুক্তরাজ্য সরকারের ইরান সম্পর্কিত নীতিতে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অভাব রয়েছে। ফরেন অফিসে ইরান বিষয়ক দক্ষ জনবল ও ফারসি ভাষাজ্ঞান না থাকায় কার্যকর কৌশল নির্ধারণ ব্যাহত হচ্ছে।
তাদের মতে, ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC)-এর মতো সংস্থাগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ আইনি জটিলতার কারণে কঠিন হয়ে পড়েছে।
কমিটি ইরানকে একটি “বাস্তববাদী ও সুবিধাবাদী” রাষ্ট্র হিসেবে চিহ্নিত করেছে, যারা মূলত নিজেদের শাসন টিকিয়ে রাখার লক্ষ্যে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালায়।
MI5-এর মহাপরিচালক জানান, ২০২২ সালের পর থেকে যুক্তরাজ্যে ইরান-সমর্থিত কমপক্ষে ২০টি ষড়যন্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে, যেগুলো ব্রিটিশ নাগরিকদের জন্য বিপজ্জনক হুমকি হতে পারত।
নিরাপত্তা মন্ত্রী ড্যান জার্ভিস বলেন, ইরানি সরকার আন্তর্জাতিকভাবে ভিন্নমতাবলম্বী, গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের নিশানা করছে এবং ইসরায়েলি ও ইহুদি জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধেও দীর্ঘমেয়াদী আক্রমণের পরিকল্পনা রয়েছে।
আইএসসি চেয়ারম্যান লর্ড বিমিশ বলেন, সরকারের ভেতরে ইরান সম্পর্কিত দক্ষতা ও বোঝাপড়ার অভাব রয়েছে, যার ফলে কার্যকর নীতি গ্রহণে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হচ্ছে।
অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন
© thegalaxynews.com
























