প্রকাশ: ৯ জুলাই ২০২৫, ০৪:১৩ পিএম

ইংল্যান্ডের ফার্মেসিতে চালু হচ্ছে এক নতুন পরীক্ষা, যা খাদ্যনালী ক্যান্সারের পূর্ব লক্ষণ শনাক্তে সাহায্য করবে। পরীক্ষাটির নাম ‘স্পঞ্জ অন আ স্ট্রিং’। এটি সরকারের ১০ বছরের স্বাস্থ্য পরিকল্পনার অংশ হিসেবে চালু হচ্ছে।
এই পরীক্ষায় অংশ নেবেন ইংল্যান্ডের শত শত মানুষ, বিশেষ করে যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে বুক জ্বালা বা অ্যাসিড রিফ্লাক্সে ভুগছেন। এই সমস্যাগুলোর কারণে অনেক সময় খাদ্যনালীতে ব্যারেটস নামক একটি অবস্থা তৈরি হয়, যা পরবর্তীতে ক্যান্সারে রূপ নিতে পারে।
পরীক্ষার পদ্ধতি
রোগীদের একটি ছোট ক্যাপসুল খেতে দেওয়া হবে, যা এক গ্লাস পানি দিয়ে গিলতে হয়। ক্যাপসুলটি পেটের মধ্যে গিয়ে প্রসারিত হয়ে স্পঞ্জে পরিণত হয়। স্পঞ্জটি সুতো দিয়ে সংযুক্ত থাকে। পরে সেটি মুখ দিয়ে টেনে বের করে আনা হয়। বের করার সময় স্পঞ্জটি খাদ্যনালীর কোষ সংগ্রহ করে।
এই কোষগুলো পরীক্ষা করে দেখা হয়, রোগীর ব্যারেটস রোগ আছে কিনা। যদি পাওয়া যায়, তাহলে তা খাদ্যনালী ক্যান্সারে পরিণত হওয়ার ঝুঁকি বহন করে।
পরীক্ষার লক্ষ্য
এই নতুন পরীক্ষা খাদ্যনালীর ক্যান্সার প্রাথমিক অবস্থায় শনাক্ত করতে সাহায্য করবে। বর্তমানে ক্যান্সার শনাক্ত হওয়ার সময় অনেকটাই দেরি হয়, ফলে চিকিৎসার সুফল পাওয়ার সুযোগ কমে যায়।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যে প্রতি বছর প্রায় ১০,০০০ মানুষ খাদ্যনালীর ক্যান্সারে আক্রান্ত হন, যাদের মধ্যে ৮০ শতাংশ রোগী দেরিতে রোগ নির্ণয়ের শিকার হন। এই রোগে বেঁচে থাকার হার খুবই কম—প্রতি ৫ জনে মাত্র ১ জন বেঁচে থাকেন।
কোথায় পরীক্ষা হবে
প্রাথমিকভাবে লন্ডন ও পূর্ব মিডল্যান্ডস অঞ্চলে প্রায় ১,৫০০ জন রোগীর ওপর এই পরীক্ষা চালানো হবে। এটি দুই বছর ধরে একটি পাইলট প্রকল্প হিসেবে পরিচালিত হবে।
এই পরীক্ষাটি ইতিমধ্যেই হাসপাতালে ও কমিউনিটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চালু আছে। এখন ফার্মেসিতেও চালু হলে আরও বেশি মানুষ সহজে এটি করাতে পারবেন। এতে এন্ডোস্কোপির মতো আক্রমণাত্মক পরীক্ষার প্রয়োজন কমে আসবে।
যাঁদের জন্য পরীক্ষাটি উপযোগী
এই উদ্যোগে ফার্মাসিস্টরা বিশেষভাবে নজর দেবেন এমন রোগীদের প্রতি যারা নিয়মিত বুক জ্বালাপোড়ার জন্য ওভার-দ্য-কাউন্টার ওষুধ খান, কিন্তু কখনও জিপির (ডাক্তারের) কাছে যাননি। তাঁদের মধ্যেই ব্যারেটস রোগ লুকিয়ে থাকতে পারে।
জীবন রক্ষাকারী উদ্যোগ
হার্টবার্ন ক্যান্সার ইউকে সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা মিমি ম্যাককর্ড বলেন, “খাদ্যনালীর ক্যান্সার একটি ভয়ংকর রোগ, যা স্পষ্ট লক্ষণ ছাড়াই শরীরে গড়ে ওঠে। কিন্তু যদি প্রাথমিক অবস্থায় ধরা পড়ে, তবে রোগী বেঁচে থাকার ভালো সম্ভাবনা থাকে।”
তিনি আরও বলেন, “অনেকেই নিজেরাই ওষুধ কিনে নেন, ফলে তাঁরা চিকিৎসকের নজর এড়িয়ে যান। ফার্মেসিতে সহজ এই পরীক্ষা তাঁদের শনাক্ত করতে সহায়ক হবে।”
এনএইচএস ইংল্যান্ড, বুটস ফার্মেসি এবং সাইটেড হেলথ নামক ডায়াগনস্টিক কোম্পানি যৌথভাবে এই প্রকল্পটি পরিচালনা করছে।
কী হবে যদি রোগ ধরা পড়ে?
যদি ব্যারেটস রোগ ধরা পড়ে এবং সেখানে প্রাক-ক্যান্সার কোষ পাওয়া যায়, তাহলে এন্ডোস্কোপি বা রেডিওফ্রিকোয়েন্সি অ্যাবলেশন নামক পদ্ধতির মাধ্যমে সেই কোষগুলো অপসারণ করা সম্ভব।
স্বাস্থ্যসেবার ক্যান্সার পরিচালক, অধ্যাপক পিটার জনসন বলেন, “এই পাইলট প্রকল্প মানুষকে এমন জায়গা থেকে চিকিৎসা নিতে সাহায্য করছে যেখানে তারা প্রতিদিন কেনাকাটা করে। এটা রোগ নির্ণয়ের প্রক্রিয়াকে অনেক সহজ করে দিচ্ছে।”
সরকারের বক্তব্য
জনস্বাস্থ্যমন্ত্রী অ্যাশলে ডাল্টন বলেন, “এই নতুন পরীক্ষা আমাদের ১০ বছরের স্বাস্থ্য পরিকল্পনার একটি বড় উদাহরণ। এখন স্থানীয় ফার্মেসিতে মাত্র ১০ মিনিটেই জীবন রক্ষাকারী পরীক্ষা করানো সম্ভব। এটি এক যুগান্তকারী পরিবর্তন।”
অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন
© thegalaxynews.com
























