প্রকাশ: ২ জুলাই ২০২৫, ০৪:২৩ পিএম

২০২৪ সালে যুক্তরাজ্যে জন্ম নেওয়া প্রতি ১০ জন নবজাতকের মধ্যে প্রায় ৪ জনের কমপক্ষে একজন পিতা বা মাতা বিদেশে জন্মগ্রহণ করেছেন—এমন তথ্য প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ জাতীয় পরিসংখ্যান দপ্তর (ONS)। এই হার বর্তমানে ৪০.৪ শতাংশ, যা ২০২১ সালে ছিল ৩৫.১ শতাংশ।
এছাড়া, দেশটির ১৭ শতাংশ স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এলাকায় অর্ধেকের বেশি শিশু বিদেশি বংশোদ্ভূত বাবা-মায়ের ঘরে জন্ম নিয়েছে, যা ২০১৬ সালে ছিল ১৩ শতাংশ। পাঁচটি এলাকায় এই হার ৮০ শতাংশ ছাড়িয়েছে। এর মধ্যে শীর্ষে রয়েছে লন্ডন শহর (৮৪.৪%), ব্রেন্ট, নিউহ্যাম, হ্যারো, ইলিং এবং ওয়েস্টমিনস্টার।
সবচেয়ে বেশি জন্ম হয়েছে ভারতীয় মায়েদের ঘরে (৪.৪%), এরপর পাকিস্তানি (৩.৬%), নাইজেরিয়ান (২.৫%) এবং রোমানিয়ান (২%) মায়েদের ঘরে।
অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইগ্রেশন অবজারভেটরির গবেষক নুনি জর্গেনসেন জানান, ব্রিটেনে অভিবাসন বৃদ্ধির ফলেই এই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। অধিকাংশ অভিবাসী তরুণ বয়সে যুক্তরাজ্যে আসায় তাদের সন্তান জন্মদানের হার তুলনামূলক বেশি।
২০২৩ সালের জরিপ অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যে ২৫-৩৪ বছর বয়সী নারীদের ২৫ শতাংশই বিদেশে জন্মগ্রহণ করেছেন। বর্তমানে ব্রিটেনে সব জন্মের এক-তৃতীয়াংশই বিদেশি মায়েদের ঘরে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী ৪০ বছরের মধ্যে শ্বেতাঙ্গ ব্রিটিশরা যুক্তরাজ্যের জনসংখ্যায় সংখ্যালঘুতে পরিণত হতে পারেন। এক গবেষণায় দেখা গেছে, ২০৫০ সালের মধ্যে শ্বেতাঙ্গ ব্রিটিশদের অনুপাত কমে ৫৭ শতাংশে নেমে আসবে এবং ২০৬৩ সালের মধ্যে তারা সংখ্যালঘুতে পরিণত হবেন।
ব্রেক্সিটের পর অভিবাসন নীতির শিথিলতায় গত বছর ব্রিটেনে অভিবাসনের হার রেকর্ড ৯ লাখ ছাড়ায়।
বাকিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ম্যাট গুডউইন বলেন, “এই পরিসংখ্যান দেখায় কীভাবে অনিয়ন্ত্রিত অভিবাসন ও দ্রুত জনসংখ্যাগত পরিবর্তন যুক্তরাজ্যের সমাজ, সংস্কৃতি এবং জাতিগত ভারসাম্যের উপর গভীর প্রভাব ফেলছে।”
অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন
© thegalaxynews.com
























