প্রকাশ: ১৯ এপ্রিল ২০২৫, ০৪:৪০ পিএম

যুক্তরাজ্যে কাজ করা বিদেশি সেবা কর্মীদের শোষণ রোধ ও ভিসা-সংক্রান্ত সমস্যায় সহায়তার জন্য সরকার পুনরায় চালু করেছে একটি বিশেষ তহবিল। ‘আন্তর্জাতিক নিয়োগ তহবিল’ নামে পরিচিত এই সহায়তা প্রকল্পের আওতায় চাকরি হারানো, কাজ না পাওয়া, বা অনৈতিক নিয়োগদাতার কারণে সমস্যায় পড়া কর্মীরা সাহায্য চাইতে পারবেন।
তবে পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় এবার তহবিলের পরিমাণ কমানো হয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এই খাতে ১৬ মিলিয়ন পাউন্ড বরাদ্দ থাকলেও, নতুন অর্থবছরে তা কমিয়ে ১২.৫ মিলিয়ন পাউন্ড করা হয়েছে। এই অর্থ ইংল্যান্ডের ১৫টি আঞ্চলিক অংশীদারদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হবে, যেখানে স্থানীয় কাউন্সিল এবং বিভিন্ন সেবা সংস্থা কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।
গত কয়েক বছর ধরে অভিযোগ উঠছে, বহু বিদেশি কর্মীকে অতিরিক্ত কাজ করতে বাধ্য করা হচ্ছে, ন্যায্য বেতন দেওয়া হচ্ছে না, এবং অনেককে অনুপযুক্ত পরিবেশে রাখা হচ্ছে। এমনকি অনেককে চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভিসা এনে কাজ না দিয়ে ফেলে রাখা হয়েছে।
সরকারের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের মাঝামাঝি থেকে ২০২৪ সালের শেষ পর্যন্ত ৪৭০টির বেশি স্পনসরশিপ লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। ফলে বিপাকে পড়েছেন সেইসব কর্মী, যাদের মাত্র ৬০ দিনের মধ্যে নতুন স্পনসর না পেলে দেশে ফিরে যেতে হয়।
২০২৪ সালের জুলাই থেকে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে ৮,৮০০ জন কর্মী এই তহবিল থেকে সহায়তা চেয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত মাত্র ৫৫০ জনকে নতুন চাকরির ব্যবস্থা করে দেওয়া সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছেন কেয়ার মন্ত্রী স্টিফেন কিনক। তিনি বলেন, সবাই সরাসরি স্পনসরশিপ বাতিলের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত না হলেও, সহায়তা প্রদান অব্যাহত রাখা জরুরি।
নতুন নীতিমালায় বলা হয়েছে, বিদেশ থেকে নতুন কর্মী নেওয়ার আগে দেশীয় বেকার বা বাস্তুচ্যুত কর্মীদের অগ্রাধিকার দিতে হবে। এই লক্ষ্যে পুনরায় চালু হওয়া তহবিল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
স্বাস্থ্য ও সমাজসেবা বিভাগ (DHSC) জানিয়েছে, ২০২৫-২৬ সালের মধ্যে তারা বাস্তুচ্যুত কর্মীদের বড় একটি অংশকে নতুন কর্মসংস্থান দিতে, সচেতনতা বাড়াতে এবং অসাধু নিয়োগদাতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে চায়। পাশাপাশি, নির্ভরযোগ্য নিয়োগদাতাদের তালিকা তৈরি ও তথ্য ভাগাভাগির মাধ্যমে শোষণ প্রতিরোধে কাজ চলবে।
এই তহবিলের আওতায় রয়েছে ইমেইলের মাধ্যমে যোগাযোগ ব্যবস্থা, সিভি প্রস্তুতিতে সহায়তা, সাক্ষাৎকারের প্রশিক্ষণ এবং ভালো নিয়োগদাতাদের সঙ্গে সংযুক্ত হওয়ার সুযোগ।
যদিও বিদেশি সেবা কর্মীরা যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য ও সমাজসেবায় অপরিহার্য অবদান রাখছেন, বাস্তবতা হলো—তাদের অনেকেই শোষণ ও অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। তাই এই উদ্যোগ প্রশংসনীয় হলেও, সহায়তা কতটা কার্যকর হবে, সেটাই এখন মূল প্রশ্ন।
অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন
© thegalaxynews.com
























