প্রকাশ: ২৫ জুন ২০২৫, ০৪:৫১ পিএম

বিশ্বের মেধাবী গবেষক, উদ্ভাবক, প্রকৌশলী এবং সৃজনশীল পেশাজীবীদের আকৃষ্ট করতে যুক্তরাজ্য নতুন একটি উচ্চাভিলাষী প্রকল্প চালু করেছে। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে ৫৪ মিলিয়ন পাউন্ডের ‘গ্লোবাল ট্যালেন্ট ফান্ড’ এবং একটি বিশেষ ‘গ্লোবাল ট্যালেন্ট টাস্কফোর্স’ গঠন করা হয়েছে।
যুক্তরাজ্যের বিজ্ঞান, উদ্ভাবন ও প্রযুক্তি বিভাগ (DSIT) এই প্রকল্প চালু করেছে। এর উদ্দেশ্য হচ্ছে বিশ্বজুড়ে মেধাবী মানুষদের ব্রিটেনে এনে উদ্ভাবন খাতে এগিয়ে যাওয়া এবং অর্থনীতিকে চাঙ্গা করা। বাংলাদেশসহ উন্নয়নশীল দেশগুলোর দক্ষ পেশাজীবীরা এই প্রকল্পের মাধ্যমে যুক্তরাজ্যে কাজ ও বসবাসের সুযোগ পেতে পারেন।
এই তহবিল ২০২৫ সাল থেকে শুরু হয়ে পাঁচ বছরব্যাপী চলবে। এর আওতায় গবেষণা, স্থানান্তরের খরচ ও সংশ্লিষ্ট ব্যয়ভার বহন করা হবে। প্রকল্পটি পরিচালনা করবে ইউকে রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশন (UKRI)।
যুক্তরাজ্যের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলো এই উদ্যোগে অংশ নেবে এবং প্রয়োজনীয় দক্ষতা সম্পন্ন মেধাবীদের নির্বাচন করবে। ‘গ্লোবাল ট্যালেন্ট টাস্কফোর্স’ সরাসরি ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এবং অর্থমন্ত্রী রাচেল রিভসকে রিপোর্ট করবে, যা এর গুরুত্ব নির্দেশ করে।
গ্লোবাল ট্যালেন্ট ভিসা: বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা
বাংলাদেশের প্রযুক্তিনির্ভর, সৃজনশীল ও উচ্চশিক্ষিত পেশাজীবীদের জন্য যুক্তরাজ্যে অভিবাসনের একটি সম্ভাবনাময় পথ হলো ‘গ্লোবাল ট্যালেন্ট ভিসা’। এটি পূর্বের ‘টিয়ার ১ (এক্সেপশনাল ট্যালেন্ট)’ ভিসার উন্নত সংস্করণ।
এই ভিসার জন্য চাকরির অফার থাকার প্রয়োজন নেই। আবেদনকারীর পেশাগত কৃতিত্ব, সম্ভাবনা এবং আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির ভিত্তিতে আবেদন বিবেচনা করা হয়। প্রথমে সর্বোচ্চ ৫ বছর পর্যন্ত যুক্তরাজ্যে বসবাসের অনুমতি মেলে এবং পরে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদন করা যায়।
আবেদন প্রক্রিয়া: দুইটি ধাপ
১. এন্ডোর্সমেন্ট (প্রত্যয়ন) অর্জন:
আবেদনকারীকে প্রমাণ করতে হবে তিনি অসাধারণ মেধাবান বা সম্ভাবনাময়। বিজ্ঞান, প্রকৌশল ও চিকিৎসা ক্ষেত্রে রয়্যাল সোসাইটি, রয়্যাল অ্যাকাডেমি অব ইঞ্জিনিয়ারিং, ব্রিটিশ অ্যাকাডেমি বা ইউকেআরআই প্রত্যয়ন দেয়।
শিল্প-সংস্কৃতি ও ডিজিটাল প্রযুক্তির জন্য প্রত্যয়ন দেয় আর্টস কাউন্সিল ইংল্যান্ড, বিএফআই, টেক ন্যাশন ইত্যাদি।
প্রত্যয়নের জন্য প্রয়োজন:
হালনাগাদ সিভি
অন্তত ৩টি সুপারিশপত্র (একটি হতে পারে যুক্তরাজ্যের প্রতিষ্ঠান থেকে)
জাতীয় বা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত কাজের প্রমাণ
২. ভিসা আবেদন:
প্রত্যয়ন পাওয়ার ৩ মাসের মধ্যে ভিসার জন্য আবেদন করতে হয়। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র:
বৈধ পাসপোর্ট
অনুমোদনপত্র
টিবি (যক্ষা) পরীক্ষার সনদ
আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ
ইমিগ্রেশন হেলথ সারচার্জ ও আবেদন ফি
আবেদন করতে হয় অনলাইনে UKVI ওয়েবসাইটে। এরপর ঢাকার (বা সিলেট/চট্টগ্রামের) ভিসা সেন্টারে বায়োমেট্রিক তথ্য ও নথিপত্র জমা দিতে হয়। সাধারণত ৩ সপ্তাহের মধ্যে সিদ্ধান্ত আসে।
প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা
এই ভিসার বিশেষ দিক হলো—ইংরেজি ভাষা পরীক্ষার প্রয়োজন নেই। আবেদনকারীর সঙ্গী ও সন্তানদের জন্যও ভিসার সুযোগ আছে। তবে এটি একটি প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়া, যেখানে প্রতিভা প্রমাণ করতে উপযুক্ত ডকুমেন্টেশন দরকার। তাই অভিজ্ঞ ইমিগ্রেশন পরামর্শকের সহায়তা নেওয়া হতে পারে গুরুত্বপূর্ণ।
যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ইতোমধ্যে বিশ্বমুখী প্রতিভা আকর্ষণে সক্রিয় হয়েছে। ইউনিভার্সিটিজ ইউকে-এর প্রধান ভিভিয়েন স্টার্ন জানিয়েছেন, এই তহবিল ভবিষ্যৎ প্রযুক্তির উন্নয়ন ও দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এই উদ্যোগ যুক্তরাজ্যের বৈশ্বিক উদ্ভাবন হাব হিসেবে অবস্থান মজবুত করবে এবং বাংলাদেশিদের জন্য একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যতের দ্বার খুলে দেবে।
অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন
© thegalaxynews.com























