প্রকাশ: ২৫ মার্চ ২০২৫, ০৪:০৫ পিএম

পবিত্র রমজান মাসে মুসলমানরা আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের উদ্দেশ্যে বিশেষ ইবাদত ও পুণ্য কর্মে লিপ্ত আছেন। এই মাসে রোজা রাখা একটি ফরজ ইবাদত, যা আল্লাহ তাআলা মুসলমানদের জন্য বছরে একবার পালন করতে নির্দেশ দিয়েছেন। রোজা মানুষের মধ্যে বিনয়, ধৈর্য ও সহনশীলতা গড়ে তোলে এবং তার অন্তরকে পবিত্র করে। তবে, রোজার প্রকৃত উদ্দেশ্য থেকে গাফেল হলে, রোজা শুধুমাত্র খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন হয়ে দাঁড়ায় এবং তার কোনো মূল্য থাকে না।
মহানবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “যে ব্যক্তি মিথ্যা কথা বলা এবং তার উপর আমল করা থেকে বিরত থাকে না, আল্লাহ তায়ালার জন্য তার উপবাস থাকা এবং পিপাসার্ত থাকার কোনো প্রয়োজন নেই” (বুখারি)। এর মানে, যদি কেউ রোজা রেখে মিথ্যা কথা বলে, ধোঁকা দেয় বা অন্য কোনো পাপ কাজে লিপ্ত থাকে, তবে তার রোজা শুধুমাত্র উপবাস হয়ে থাকে, যা আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।
হাদিসে আরো বলা হয়েছে, “প্রত্যেক আমলের একটি কাফফারা রয়েছে, তবে সাওম (রোজা) হচ্ছে একমাত্র আমার জন্য। আমি তার প্রতিদান দেব” (বুখারি, মুসনাদে আহমদ)। এ থেকে স্পষ্ট যে, রোজা একটি বিশেষ ইবাদত, যার প্রতিদান শুধুমাত্র আল্লাহ তাআলা দিবেন। রোজা তার প্রকৃত উদ্দেশ্য অনুযায়ী পালন করতে হবে, যাতে তা মানুষের পাপ মোচন করতে পারে এবং তার আত্মা পবিত্র হতে পারে।
রোজার উদ্দেশ্য শুধুমাত্র খাওয়া-দাওয়া থেকে বিরত থাকা নয়, বরং মন্দ কাজ থেকে বিরত থাকা, পাপের পথ থেকে আলাদা থাকা, এবং আল্লাহর কাছে তওবা করা। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “যে রমজানের রোজা পালন করল এবং তা সঠিকভাবে পালন করল, তার আগের সব পাপ মাফ করা হবে” (মুসনাদে আহমদ, বায়হাকি)।
রমজান মাসে রোজা রাখার জন্য প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ মুসলমানের উপর এটি ফরজ, তবে সফরে থাকা বা অসুস্থ ব্যক্তির জন্য রোজা ছাড় দেওয়া হয়েছে। তারা পরবর্তীতে এটি পূর্ণ করতে হবে। এছাড়া, যেসব মহিলার জন্য রোজা রাখা অসম্ভব, যেমন গর্ভবতী বা দুধপান করানো মা, তাদেরকে ফিদিয়া প্রদান করতে হবে।
হাদিসে উল্লেখ আছে, “রমজান মাসে জান্নাতের দরজা খুলে দেওয়া হয়, আর জাহান্নামের দরজা বন্ধ করা হয়, এবং শয়তান শিকলাবদ্ধ হয়” (বুখারি)। কিন্তু যারা এই মাসে ইবাদতের মাধ্যমে নিজেদের আত্মাকে পরিশুদ্ধ করতে সক্ষম হয় না, তাদের জন্য রোজা কোনো কাজের হবে না।
মহানবী (সা.) আমাদেরকে অধিক থেকে অধিক তওবা, ইস্তেগফার এবং যিকরে এলাহি করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “যিকরে এলাহি করা এবং যিকরে এলাহি না করা ব্যক্তির উদাহরণ জীবিত এবং মৃত ব্যক্তির ন্যায়” (বুখারি)।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলকে সঠিকভাবে রোজা পালনের তৌফিক দিন, আমিন।
অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন
© thegalaxynews.com
























