প্রকাশ: ২৪ মার্চ ২০২৫, ০৫:৩২ পিএম

শবে কদর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রাত, যা মুসলিম উম্মাহর জন্য এক বিশেষ মর্যাদা ও গুরুত্ব বহন করে। “শবে কদর” ফারসি শব্দ, যেখানে ‘শব’ অর্থ রাত এবং ‘কদর’ অর্থ সম্মান, মর্যাদা। আরবিতে একে লাইলাতুল কদর বলা হয়, যেখানে ‘লাইলাতুন’ মানে রাত এবং ‘কদর’ মানে সম্মান ও মর্যাদা। এর আরও একটি অর্থ হলো, ভাগ্য নির্ধারণ এবং তকদির নির্ধারণের রাত।
এই রাতে মুসলমানরা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য সারা রাত নফল নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, হাদিস অনুযায়ী জিকির, কবর জিয়ারত এবং গুনাহ মাফের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
তবে কোরআন ও হাদিসে রমজানের কোন রাতটি শবে কদর, তা সুনির্দিষ্টভাবে বলা হয়নি। তবে কিছু নিদর্শন রয়েছে। হজরত মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমজানের শেষ দশকের বেজোড় রাতে শবে কদরের খোঁজ নিতে বলেছেন। সুতরাং, রমজানের শেষ দশকের যেকোনো বেজোড় রাত শবে কদর হতে পারে। প্রতিটি বেজোড় রাতে ইবাদত করা উচিত। এ ছাড়াও, এই রাতে হাদিসে বর্ণিত একটি বিশেষ দোয়া পাঠ করতে বলা হয়েছে।
আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: “রমজানের শেষ দশ রাত শুরু হলে নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোমর বেঁধে ইবাদত করতেন এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদেরও ইবাদতের জন্য জাগিয়ে তুলতেন।” (বুখারি, হাদিস: ২০২৪)
লাইলাতুল কদরে যে আমলগুলো করা যায়:
- নফল নামাজ আদায় করা
- কোরআন তিলাওয়াত করা
- কবর জিয়ারত করা
- জিকির-আজকারে মগ্ন থাকা
- আল্লাহর সৃষ্টি নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করা
- গরিবদের অন্নদান করা
- ইস্তেগফার ও তওবা করা
শবে কদরে পড়নীয় দোয়া:
উম্মুল মুমিনিন আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি একদিন নবীজির কাছে জানতে চেয়েছিলেন: “হে আল্লাহর রসুল, আমি যদি জানতে পারি কোন রাতটি লাইলাতুল কদর, তবে আমি কী দোয়া পড়ব?” তখন নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:
“তুমি বলো, اللَّهمَّ إنَّك عفُوٌّ كريمٌ تُحِبُّ العفْوَ، فاعْفُ عنِّي”
অর্থ: “হে আল্লাহ, আপনি মহানুভব এবং ক্ষমাশীল। আপনি ক্ষমা করতে পছন্দ করেন, অতএব আমাকে ক্ষমা করুন।” (তিরমিজি, হাদিস: ৩৫১৩)
এভাবে, শবে কদর অতীব গুরুত্বপূর্ণ একটি রাত। এই রাতের ইবাদত ও দোয়া আমাদের জীবনের গুনাহ মাফের এবং আল্লাহর কাছ থেকে বিশেষ বরকত লাভের এক সুবর্ণ সুযোগ।
অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন
© thegalaxynews.com
























