প্রকাশ: ৩ জুন ২০২৫, ০৫:৩১ পিএম

প্রযুক্তির প্রসার ও গণমাধ্যমের সীমাবদ্ধতার সুযোগে বাংলাদেশে অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টরা দিন দিন রাজনীতির প্রভাবশালী খেলোয়াড় হয়ে উঠছেন। মূলধারার গণমাধ্যম যখন নিয়ন্ত্রিত ও দুর্বল হয়ে পড়ে, তখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মতামত, বিশ্লেষণ ও প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর নিয়ে হাজির হন অনলাইন কনটেন্ট ক্রিয়েটররা। এদের কেউ সাংবাদিক, কেউ লেখক, কেউবা সাবেক রাজনৈতিক কর্মী। তাদের অনেকের কণ্ঠস্বর জনমত গঠনে বড় ভূমিকা রাখছে।
পিনাকী ভট্টাচার্য
বাম রাজনৈতিক আদর্শ থেকে লেখক হয়ে ওঠা পিনাকী ভট্টাচার্য বর্তমানে ফ্রান্সে রাজনৈতিক আশ্রয়ে রয়েছেন। ইউটিউব ও ফেসবুকে তার রাজনৈতিক বিশ্লেষণ ব্যাপক জনপ্রিয়। তার আহ্বানে ‘ধানমন্ডি ৩২’ ঘিরে ছাত্র-জনতার বিক্ষোভ ছিল আলোচিত। আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবি, সেনাপ্রধান ও রাষ্ট্রপতির পদত্যাগসহ নানা ইস্যুতে সরব থেকেছেন তিনি।
ইলিয়াস হোসেন
চুয়াডাঙ্গা জন্ম, সাংবাদিকতা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাসনে যাওয়া ইলিয়াস হোসেন বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে ভিডিও কনটেন্ট তৈরি করে আলোচিত হয়েছেন। বনজ কুমারের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন এবং শেখ মুজিব হত্যা মামলার আসামি ডালিমের সাক্ষাৎকার তাকে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে আসে।
জুলকারনাইন সায়ের খান (সামি)
আল জাজিরার ‘অল দ্য প্রাইম মিনিস্টার্স মেন’ প্রতিবেদনের অন্যতম তথ্যসূত্র ছিলেন সামি। সাবেক সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদের দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরা প্রতিবেদনটির মাধ্যমে তিনি অনলাইন জনপ্রিয়তা পান। সেনা অভ্যন্তরে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন বিষয় নিয়েও তিনি তথ্য তুলে ধরেন।
তাসনিম খলিল
সুইডেনে অবস্থানরত সাবেক সাংবাদিক তাসনিম খলিল তার পরিচালিত নিউজ পোর্টাল ‘নেত্র নিউজ’-এর মাধ্যমে ‘আয়নাঘর’ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে আলোচনায় আসেন। নিখোঁজ, গুম ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে তার প্রতিবেদন আন্তর্জাতিক মনোযোগ আকর্ষণ করে।
মতানৈক্য ও বিতর্ক
জুলাই আন্দোলনের সময় একত্র থাকলেও পরবর্তীতে এসব অ্যাক্টিভিস্টদের মধ্যে মতপার্থক্য প্রকাশ্যে আসে। সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামানকে ঘিরে পিনাকী ও ইলিয়াসের সমালোচনা, বিপরীতে সামির সমর্থন—এই বিভাজন পরিষ্কার হয়। একইভাবে উপদেষ্টা আসিফ নজরুল ও বিএনপির মির্জা আব্বাসকে ঘিরে বিভিন্ন বক্তব্য নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়।
ভবিষ্যতের সম্ভাবনা
সব বিতর্ক সত্ত্বেও, এসব অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টরা বিকল্প গণমাধ্যম এবং বিকল্প রাজনৈতিক কণ্ঠ হিসেবে জনমতের উপর প্রভাব বিস্তার করছেন। প্রযুক্তিনির্ভর এই মিডিয়া যোদ্ধারা ভবিষ্যতের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠতে পারেন—যদি তাদের ভূমিকা গঠনমূলক ও দায়িত্বশীল থাকে।
অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন
© thegalaxynews.com
























