আগামী মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ নেবেন। একই দিন সন্ধ্যায় শপথ গ্রহণ করবে নতুন মন্ত্রিসভাও। দেশে জাতীয় সংসদের সদস্যরা আইন প্রণয়ন ও জনগণের প্রতিনিধিত্বের পাশাপাশি রাষ্ট্র নির্ধারিত বিভিন্ন আর্থিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা পেয়ে থাকেন। এসব সুবিধা নির্ধারিত হয়েছে Members of Parliament (Remuneration and Allowances) Order, 1973 অনুযায়ী, যা সময় সময় সংশোধিত হয়েছে।
নিচে এমপিদের প্রধান সুবিধাগুলো সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো—
মাসিক সম্মানী
সংসদ সদস্যরা প্রতি মাসে ৫৫ হাজার টাকা সম্মানী পান। এটি তাদের মূল পারিশ্রমিক।
নির্বাচনী এলাকা ভাতা
নির্বাচনী এলাকায় দাপ্তরিক ও সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য মাসিক ১২ হাজার ৫০০ টাকা দেওয়া হয়।
আপ্যায়ন ভাতা
সামাজিক যোগাযোগ ও অতিথি আপ্যায়নের জন্য মাসিক ৫ হাজার টাকা বরাদ্দ রয়েছে।
শুল্কমুক্ত গাড়ি সুবিধা
দায়িত্বকালীন একটি গাড়ি/জিপ/মাইক্রোবাস শুল্ক ও করমুক্তভাবে আমদানির সুযোগ পান এমপিরা। পাঁচ বছর পর একই শর্তে নতুন গাড়ি আমদানির সুযোগও রয়েছে।
পরিবহন ভাতা
যাতায়াত, জ্বালানি, রক্ষণাবেক্ষণ ও চালকের বেতন মিলিয়ে মাসিক ৭০ হাজার টাকা পরিবহন ভাতা দেওয়া হয়।
অফিস ব্যয়
নির্বাচনী এলাকায় অফিস পরিচালনার জন্য মাসিক ১৫ হাজার টাকা বরাদ্দ থাকে।
লন্ড্রি ও আনুষঙ্গিক খরচ
প্রতি মাসে লন্ড্রি বাবদ ১ হাজার ৫০০ টাকা এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয়ে ৬ হাজার টাকা পান।
ভ্রমণ ভাতা (অধিবেশন ও কমিটি)
সংসদ অধিবেশন বা কমিটির বৈঠকে অংশ নিতে বিমান, রেল বা জাহাজের সর্বোচ্চ শ্রেণির ভাড়ার দেড়গুণ পর্যন্ত ভাতা এবং সড়কপথে কিলোমিটারপ্রতি ১০ টাকা হারে ভ্রমণ ভাতা দেওয়া হয়।
দৈনিক ভাতা
দায়িত্ব পালনের সময় দৈনিক ৭৫০–৮০০ টাকা অবস্থান ভাতা এবং ৭৫–২০০ টাকা যাতায়াত ভাতা প্রযোজ্য (উপস্থিতির ভিত্তিতে)।
অভ্যন্তরীণ ভ্রমণ সুবিধা
প্রতি বছর ১ লাখ ২০ হাজার টাকা ভ্রমণ ভাতা অথবা সমপরিমাণের অ-হস্তান্তরযোগ্য ট্রাভেল পাস পাওয়া যায়।
চিকিৎসা সুবিধা
এমপি ও তাদের পরিবারের সদস্যরা প্রথম শ্রেণির সরকারি কর্মকর্তাদের সমমানের চিকিৎসা সুবিধা এবং মাসিক ৭০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা পান।
টেলিফোন সুবিধা
বাসভবনে সরকারি খরচে টেলিফোন সংযোগসহ কল ও ভাড়া বাবদ মাসিক ৭ হাজার ৮০০ টাকা বরাদ্দ রয়েছে।
বীমা সুবিধা
দায়িত্বকালীন দুর্ঘটনায় মৃত্যু বা স্থায়ী পঙ্গুত্বের ক্ষেত্রে ১০ লাখ টাকার বীমা সুবিধা প্রযোজ্য।
ঐচ্ছিক অনুদান
জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যয়ের জন্য বছরে সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।
কর সুবিধা
উল্লিখিত ভাতাগুলো আয়করমুক্ত।
আইন অনুযায়ী এসব সুবিধা এমপিদের দায়িত্ব পালনে সহায়তা, নির্বাচনী এলাকায় সক্রিয় উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম সহজ করার উদ্দেশ্যে নির্ধারিত। তবে ভাতা ও সুবিধার পরিমাণ, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিয়ে জনপরিসরে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

























