প্রকাশ: ২৮ এপ্রিল ২০২৫, ০৪:৪৯ পিএম

২০২৫ সালের মার্চ মাসে বাংলাদেশে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা বেড়েছে উদ্বেগজনক হারে। একটি প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, এ সময় ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ১৬৩ জন, আর মোট নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ৪৪২ জন নারী ও শিশু।
সোমবার (২৮ এপ্রিল) ঢাকার জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য তুলে ধরে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ। সংগঠনটি জানায়, ১৫টি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে তারা প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করেছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ধর্ষণের শিকার ১৬৩ জনের মধ্যে ১২৫ জনই শিশু। এর মধ্যে ১৮ জন শিশুসহ ৩৬ জন দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। দুজন শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে, এবং ধর্ষণের কারণে আত্মহত্যা করেছে আরও দুজন শিশু। এছাড়া, ৭০ জন নারী ও শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে, যাদের মধ্যে ৫৫ জনই শিশু।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা জানান, নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতার ঘটনা দিন দিন বেড়েই চলেছে। বিশেষ করে ১৮ বছরের নিচের মেয়েশিশুদের প্রতি সহিংসতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। তারা অভিযোগ করেন, এসব ঘটনার দ্রুত ও কার্যকর বিচার হচ্ছে না, ফলে অপরাধীরা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না পেয়ে আরও সাহস পেয়ে যাচ্ছে।
এ সময় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগে নারী কোটা বাতিলের প্রস্তাব নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। বক্তারা বলেন, নারীর ক্ষমতায়নে ৬০ শতাংশ কোটা ছিল, যা খসড়া প্রজ্ঞাপনে বাতিল করা হয়েছে—এটি নারী উন্নয়নের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ সাতটি দাবিও তুলে ধরে, যার মধ্যে রয়েছে: ১. নারীবিদ্বেষী প্রচার বন্ধে রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপ, ২. নারী নির্যাতনের দ্রুত বিচার, ৩. গণপিটুনির মতো সহিংসতা বন্ধে ব্যবস্থা, ৪. শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, ৫. গণমাধ্যমকে তথ্য উপস্থাপনে আরও সক্রিয় করা, ৬. মৌলবাদী ও সাম্প্রদায়িক উস্কানি প্রতিহত করা, ৭. সমতাভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনে সকল বাধা মোকাবিলা করা।
সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন মহিলা পরিষদের সভাপতি ফওজিয়া মোসলেম। বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের সম্পাদক রাবেয়া খাতুন শান্তি। আরও উপস্থিত ছিলেন সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু, যুগ্ম সম্পাদক সীমা মোসলেম ও সদস্য মাসুদা রেহানা বেগম। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন জনা গোস্বামী।
অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন
© thegalaxynews.com
























