প্রকাশ: ২৮ মে ২০২৫, ০৪:৪১ পিএম

কিডনির ক্ষতি প্রাথমিক অবস্থায় সাধারণত লক্ষ করা যায় না। কিন্তু কিছু সতর্কতা সংকেত আগে থেকেই দেখা দিতে পারে, যেগুলো চিনতে পারলে বড় ধরনের জটিলতা, এমনকি কিডনি ফেইলিওর পর্যন্ত এড়ানো সম্ভব। নিচে এমন ৬টি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ তুলে ধরা হলো, যেগুলো অবহেলা করা উচিত নয়:
১. ফেনা বা বুদবুদযুক্ত প্রস্রাব
প্রস্রাবে অতিরিক্ত ফেনা বা বুদবুদের উপস্থিতি কিডনির সমস্যার একটি প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে। এ অবস্থাকে প্রোটিনুরিয়া বলা হয়, যেখানে কিডনি প্রোটিনকে ঠিকভাবে ফিল্টার করতে ব্যর্থ হয়, ফলে প্রোটিন প্রস্রাবের সঙ্গে বেরিয়ে আসে। এ ধরনের প্রস্রাব দেখে নিয়মিত পরীক্ষা করানো জরুরি।
২. পা, গোড়ালি বা চোখের চারপাশে ফোলাভাব
যখন কিডনি শরীর থেকে অতিরিক্ত পানি ও লবণ বের করতে অক্ষম হয়, তখন শরীরের নিচের অংশে বিশেষ করে গোড়ালি ও পায়ে এবং চোখের চারপাশে ফোলাভাব দেখা দেয়। সকালে এ ধরনের ফোলাভাব বেশি চোখে পড়ে, যা কিডনির কার্যকারিতা হ্রাসের ইঙ্গিত দিতে পারে।
৩. ঘন ঘন প্রস্রাব, বিশেষ করে রাতে
রাতে বারবার প্রস্রাব করতে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা (নকটুরিয়া) কিডনির সমস্যার একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত। যখন কিডনি ঠিকভাবে তরল ঘনীভূত করতে পারে না, তখন প্রস্রাবের পরিমাণ বেড়ে যায় এবং ঘন ঘন প্রস্রাবের তাগিদ তৈরি হয়।
৪. অতিরিক্ত ক্লান্তি ও দুর্বলতা
কিডনি হরমোন ‘এরিথ্রোপয়েটিন’ তৈরি করে, যা রক্তে লোহিত কণিকার উৎপাদনে সাহায্য করে। কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হলে এই হরমোনের নিঃসরণ কমে যায়, ফলে শরীরে অক্সিজেন পরিবহন কমে গিয়ে রক্তস্বল্পতা হয়। এর ফলে স্থায়ী ক্লান্তি, দুর্বলতা ও মনোযোগে ঘাটতি দেখা দিতে পারে।
৫. চুলকানি (প্রুরিটাস)
রক্তে বর্জ্য জমা হলে তা ত্বকে চুলকানি সৃষ্টি করতে পারে। এই চুলকানি দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং সাধারণ লোশন বা ক্রিমে উপশম হয় না। বিশেষ করে রাতে এটি বেড়ে যায় এবং কিডনি সমস্যার একটি সুস্পষ্ট লক্ষণ হতে পারে।
৬. ক্ষুধামন্দা ও হজমে সমস্যা
কিডনির সমস্যার কারণে শরীরে জমা হওয়া টক্সিন হজমব্যবস্থাকে প্রভাবিত করে। এর ফলে ক্ষুধা কমে যায়, বমি বমি ভাব বা মুখে দুর্গন্ধ তৈরি হয় এবং মাঝে মাঝে বমিও হতে পারে। এগুলো কিডনির কার্যকারিতা হ্রাসের স্পষ্ট লক্ষণ।
অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন
© thegalaxynews.com
























