প্রকাশ: ১ অগাস্ট ২০২৫, ১০:৩২ পিএম

নিউইয়র্কে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত পুলিশ কর্মকর্তা দিদারুল ইসলাম (৩৬)-এর প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে জড়ো হয়েছিলেন হাজারো মানুষ—প্রিয় সহকর্মী, সরকারি কর্মকর্তা, প্রবাসী বাংলাদেশি এবং সাধারণ নিউইয়র্কবাসী।
পার্চেস্টার এলাকায় অনুষ্ঠিত এই আনুষ্ঠানিক বিদায়ে দিদারুলকে ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ (NYPD)। একই সঙ্গে তাঁকে মরণোত্তর ‘ডিটেকটিভ ফার্স্ট গ্রেড’ পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়—যা পুলিশ বিভাগে এক সম্মানজনক স্বীকৃতি।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের গভর্নর, নিউইয়র্ক সিটির মেয়র এরিক অ্যাডামস, NYPD কমিশনার জেসিকা টিশ, বিভিন্ন সংস্থার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, সহকর্মী, প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্য এবং নিউইয়র্কবাসী—সবাই শ্রদ্ধা ও শোকে একত্রিত হন দিদারুলের আত্মত্যাগ স্মরণে।
পুলিশের ভাষ্যে ‘নিঃস্বার্থ বীর’
অনুষ্ঠানে NYPD কমিশনার জেসিকা টিশ বলেন,
“দিদারুল একজন নিঃস্বার্থ বীর। তিনি নিজের জীবন দিয়ে অন্যদের বাঁচানোর জন্য যা করেছেন, তা নিউইয়র্ক পুলিশের ইতিহাসে গর্বের অংশ হয়ে থাকবে।”
জানাজা ও দাফন
শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে দিদারুলের মরদেহ নেওয়া হয় পার্চেস্টার জামে মসজিদে, যেখানে হাজারো মানুষ অংশ নেন তার জানাজায়। জানাজা শেষে তাঁকে দাফন করা হয় নিউজার্সির টোটোওয়া ইসলামিক কবরস্থানে।
কীভাবে ঘটেছিল দিদারুলের মৃত্যু?
ঘটনাটি ঘটে গত সোমবার, নিউইয়র্কের ম্যানহাটানের পার্ক অ্যাভিনিউ এলাকায়।
এক তরুণ বন্দুকধারী একটি বহুতল ভবনে ঢুকে রাইফেল দিয়ে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়তে থাকে। আশপাশের মানুষজন আতঙ্কে ছুটোছুটি শুরু করে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান পুলিশ কর্মকর্তা দিদারুল ইসলাম।
জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তিনি বন্দুকধারীকে থামাতে এগিয়ে যান। এ সময় হামলাকারীর গুলিতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। তার এই সাহসী পদক্ষেপে অসংখ্য নিরীহ মানুষের প্রাণ রক্ষা পায়।
কমিউনিটির প্রতিক্রিয়া
প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির অনেকেই শোকে স্তব্ধ। নিউইয়র্কের বাংলাদেশি সংগঠনগুলো দিদারুলের স্মৃতিতে শোকসভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করছে।
এক প্রবাসী নাগরিক বলেন,
“আমরা গর্বিত, দিদারুল আমাদের সন্তান। তাঁর বীরত্ব শুধু আমেরিকার নয়, আমাদের দেশেরও গৌরব।”
পরিবারকে সহায়তা
দিদারুলের স্ত্রী ও সন্তানদের সহায়তায় একটি তহবিল গঠন করা হয়েছে। এতে ইতিমধ্যে ৬৫ হাজার ডলারের বেশি অর্থ জমা পড়েছে। পুলিশ বিভাগ এবং বাংলাদেশি কমিউনিটির পক্ষ থেকে এ সহায়তা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

দিদারুল ইসলাম ছিলেন শুধুই একজন পুলিশ অফিসার নন, তিনি ছিলেন একজন সাহসী মানবিক মানুষ—যিনি দায়িত্ববোধের জায়গা থেকে নিজের জীবন বিলিয়ে দিয়েছেন অন্যদের বাঁচাতে। তাঁর আত্মত্যাগ শুধু নিউইয়র্ক নয়, সারা বিশ্বের পুলিশ বাহিনী ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের কাছে অনুপ্রেরণার এক নতুন অধ্যায় রচনা করলো।
তার জীবনের গল্প, আত্মত্যাগ এবং দায়িত্বশীলতা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে।
অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন
© thegalaxynews.com




























