প্রকাশ: ১৩ এপ্রিল ২০২৫, ১০:৩৩ এএম

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র পরমাণু আলোচনায় প্রথম ধাপ সম্পন্ন, সামনে আরও বৈঠকের ইঙ্গিত
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে উচ্চপর্যায়ের প্রথম দফা আলোচনা শেষ হয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আলোচনা হয়েছে একটি গঠনমূলক পরিবেশে এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে। বৈঠকের পর দুই দেশের প্রধান আলোচকদের মধ্যে ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর উপস্থিতিতে সংক্ষিপ্ত কথোপকথন হয়।
তেহরান ও ওয়াশিংটন আগামী সপ্তাহগুলোতে আবার আলোচনায় বসবে বলে উভয়পক্ষ সম্মত হয়েছে। স্থানীয় সময় শনিবার (১২ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বৈঠকটি শুরু হয়, যা চলে প্রায় দুই ঘণ্টা। তবে আলোচনার স্থান সম্পর্কে কোনো নির্দিষ্ট তথ্য জানানো হয়নি। আলোচনা শেষ হলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফকে বহনকারী গাড়িবহরটি ওমানের রাজধানী মাসকাটে ফিরে যায়।
এই দীর্ঘ বৈরী সম্পর্কের পটভূমিতে সরাসরি বা পরোক্ষ এমন আলোচনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে, যদিও এতে কিছু ঝুঁকিও রয়েছে। একদিকে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, চুক্তি না হলে সামরিক হামলার পথও খোলা থাকবে। অপরদিকে ইরানও জানিয়ে দিয়েছে, তাদের কাছে এমন ইউরেনিয়াম মজুদ রয়েছে, যা দিয়ে চাইলে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করা সম্ভব।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়ি জানান, ওমানের মধ্যস্থতায় পরোক্ষ আলোচনা শুরু হয়েছে এবং তাতে উভয় পক্ষ নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছে। ইরানের অবস্থান পরিষ্কার—তারা চায় জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষিত হোক, এবং সেই লক্ষ্যে কূটনৈতিক পথেই সমাধান খোঁজার চেষ্টা চলছে।
তিনি আরও বলেন, এই আলোচনার প্রথম ধাপে মূলত উভয় পক্ষ নিজেদের নীতিগত অবস্থান উপস্থাপন করেছে, এবং এ ধাপে দীর্ঘ আলোচনা প্রত্যাশিত নয়।
ইরানি কূটনীতিক আব্বাস আরাঘচি জানান, আলোচনায় অগ্রগতি ঘটলে ভবিষ্যতে একটি সময়সূচি নির্ধারণ করা হতে পারে, তবে এখনই সে বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।
মূল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম এবং যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা। ২০১৫ সালের চুক্তি অনুযায়ী, ইরান ৩.৬৭ শতাংশ পর্যন্ত ইউরেনিয়াম মজুত করতে পারত। কিন্তু এখন তাদের মজুদ এমন মাত্রায় পৌঁছেছে যে, তা দিয়ে কয়েকটি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করা সম্ভব। ইরান বর্তমানে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত ইউরেনিয়াম সংরক্ষণ করছে, যা অস্ত্র-গ্রেড মান থেকে খুব বেশি দূরে নয়।
বিশ্লেষকদের মতে, নতুন আলোচনায় ইরান ইউরেনিয়াম মজুদের সীমা বাড়াতে চাইবে, তবে তারা তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ করবে না, এটাই বাস্তবতা।
অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন
© thegalaxynews.com
























