প্রকাশ: ৭ এপ্রিল ২০২৫, ০৫:২৯ পিএম

গাজায় ইসরাইলের চলমান হামলার প্রতিবাদে মরক্কোয় ব্যাপক বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (৬ এপ্রিল) মরক্কোর রাজধানী রাবাতে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে ইসরাইলের আক্রমণ এবং যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান। এটি ছিল কয়েক মাসের মধ্যে মরক্কোয় সবচেয়ে বড় বিক্ষোভের একটি।
বিক্ষোভকারীরা রাবাতের বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান নিয়ে ইসরাইলি পতাকা পদদলিত করেন এবং নিহত হামাস নেতাদের ব্যানার উড়াতে দেখা যায়। তারা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের ছবি সংযুক্ত করে পোস্টার প্রদর্শন করেন।
গত মাসে গাজায় ইসরাইলের তীব্র বিমান ও স্থল হামলার মাধ্যমে যুদ্ধবিরতি ভঙ্গ করে এবং নতুন অভিযানে ১,০০০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত ও লক্ষ লক্ষ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়। গাজার যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ৫০,৭০০ এরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১,১৫,৩০০ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন।
গাজায় ইসরাইলের হামলার প্রতিবাদে মরক্কোর এই বিক্ষোভ মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। তিউনিসিয়া, ইয়েমেন এবং মরক্কোর অর্থনৈতিক কেন্দ্র কাসাব্লাঙ্কাতেও ফিলিস্তিনপন্থি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
কয়েক মাস আগে, গাজার পুনর্গঠন জন্য ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক স্থানান্তরের প্রস্তাব দিয়েছিলেন ট্রাম্প, যা বিশ্বজুড়ে ব্যাপক সমালোচনা সৃষ্টি করে। আরব দেশগুলো এই পরিকল্পনাটি নিন্দা জানায় এবং অধিকার গোষ্ঠীগুলো এটিকে জাতিগত ‘নির্মূল’ বলে অভিহিত করে।
মরক্কোর বিক্ষোভকারীরা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ফিলিস্তিনপন্থি আন্দোলনকারীদের ওপর মার্কিন দমন-পীড়নও নিন্দা করেন। অনেক বিক্ষোভকারী ট্রাম্পের নীতি এবং তার পূর্বসূরি সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের নীতির মধ্যে কোনো পার্থক্য দেখেননি।
বিক্ষোভকারী মোহাম্মদ তৌসি বলেন, “ট্রাম্প এই যুদ্ধকে আরও খারাপ অবস্থায় নিয়ে গেছেন।” তিনি আরও বলেন, “বাইডেন কিছু জিনিস লুকিয়েছিলেন, কিন্তু ট্রাম্প সব দেখিয়ে দিয়েছেন। তারা ভিন্ন ভিন্নভাবে একই পলিসি তুলে ধরেছেন।”
মরক্কোর সাবেক রক্ষণশীল প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা আবদেলহাক এল আরাবি বলেন, “যুদ্ধ যত দীর্ঘ হচ্ছে, জনসাধারণের ক্ষোভ ততই বাড়ছে।”
এদিকে, তামেসনার ৬২ বছর বয়সী বাসিন্দা মন্তব্য করেন, “এটি কোনো যুদ্ধ নয় – গাজাকে মানচিত্র থেকে মুছে ফেলা হচ্ছে।”
২০২০ সালে ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার সিদ্ধান্তে মরক্কো। তখন থেকে অনেক বিক্ষোভকারী এই পদক্ষেপে ক্ষুব্ধ।
অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন
© thegalaxynews.com























