প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৫, ০৩:৫৫ পিএম

ইংল্যান্ডে জলাধারগুলোর পানি বর্তমানে গত দশ বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম পর্যায়ে পৌঁছেছে, নতুন তথ্য অনুযায়ী। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন এবং পানি সংস্থাগুলিকে অবিলম্বে হোসপাইপ ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানিয়েছেন।
২০২৫ সালের জুন মাসে জলাধারগুলো মাত্র ৭৬% পূর্ণ ছিল, যা ২০২২ সালের খরা বছরের থেকেও কম। গরম আবহাওয়া এবং অল্প বৃষ্টিপাতের কারণে পানি ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় এই অবস্থা তৈরি হয়েছে।
রিডিং বিশ্ববিদ্যালয়ের ডঃ জেস নিউম্যান বলেন, “অমৌসুমী খরার কারণে বসন্তেই জলাধারগুলো খালি হয়ে পড়েছে। হোসপাইপ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হলে প্রতিদিন ৩-৭% পানি সাশ্রয় সম্ভব, যা সচেতনতা বৃদ্ধিতেও সাহায্য করবে।”
লন্ডনের রয়্যাল হলোওয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডঃ জোনাথন পল জানান, বৃষ্টিপাতের ঘাটতির কারণে স্থানীয়ভাবে পানি ব্যবহার সীমিত করতে হতে পারে।
ইতোমধ্যে ইয়র্কশায়ার ও সাউথ ইস্ট ইংল্যান্ডে হোসপাইপ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে। তবে অনেক পানি সংস্থা এখনও সিদ্ধান্ত নিতে দেরি করছে, কারণ গ্রাহক সন্তুষ্টির উপর প্রভাব পড়তে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছে।
জাতীয় কৃষক ইউনিয়নের সভাপতি টম ব্র্যাডশ বলেন, কৃষকদের বিনা নোটিশে পানি উত্তোলন নিষিদ্ধ করা হয়েছে, যা খাদ্য উৎপাদনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ, বিশেষ করে পূর্ব ইংল্যান্ডে।
ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরশীল অঞ্চলেও সমস্যা দেখা দিচ্ছে। দেশের বিভিন্ন অংশে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক নিচে। সেন্টার ফর ইকোলজি অ্যান্ড হাইড্রোলজি জানিয়েছে, জুলাই মাসে অনেক অঞ্চলে পানির স্তর আরও কমে যেতে পারে।
মধ্য ও উত্তর ইংল্যান্ডে কিছু জলাধার ইতোমধ্যে অস্বাভাবিকভাবে খালি হয়ে পড়েছে। যেমন ইউনাইটেড ইউটিলিটিস-এর পানি মজুদ এক বছরে ৮৪.৫% থেকে কমে ৬৫%-এ পৌঁছেছে।
গত বছর সরকার এবং পানি কোম্পানিগুলি ২০৫০ সালের মধ্যে নয়টি নতুন জলাধার নির্মাণের পরিকল্পনা প্রকাশ করে। ইংল্যান্ডে সর্বশেষ বড় জলাধার নির্মাণ হয়েছিল ১৯৯২ সালে।
ওয়াটার ইউকে বলেছে, পানি সংস্থাগুলি যতটা সম্ভব নিষেধাজ্ঞা এড়ানোর চেষ্টা করছে, তবে প্রয়োজন হলে অস্থায়ী ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করতে হবে।
পরিবেশ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জনসংখ্যা বৃদ্ধি, পুরনো অবকাঠামো এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে পানীয় জলের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। এজন্য তারা জলাধার ও নতুন পাইপ নির্মাণে ১০৪ বিলিয়ন পাউন্ড বিনিয়োগ নিশ্চিত করেছে।
অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন
© thegalaxynews.com
























