প্রকাশ: ৯ জুলাই ২০২৫, ০৪:৫৮ পিএম

প্রাক্তন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক খ্যাতনামা বিনিয়োগ ব্যাংক গোল্ডম্যান শ্যাক্সে সিনিয়র উপদেষ্টা হিসেবে খণ্ডকালীন দায়িত্ব নিয়েছেন। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর পর এটি তার নতুন পেশাগত ভূমিকা।
ব্যাংকটি জানিয়েছে, সুনাকের বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতি সম্পর্কে “অনন্য দৃষ্টিভঙ্গি ও অন্তর্দৃষ্টি” তাদের গ্রাহকদের পরামর্শ দিতে কাজে লাগানো হবে। তিনি শুধু ক্লায়েন্টদের সঙ্গে কাজ করবেন না, পাশাপাশি ব্যাংকের কর্মীদের সঙ্গেও যুক্ত থাকবেন। এছাড়া, প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা ও প্রশিক্ষণমূলক কার্যক্রমেও তিনি অংশ নেবেন।
গোল্ডম্যান শ্যাক্সের চেয়ারম্যান ও সিইও ডেভিড সলোমন বলেন, “আমরা ঋষিকে আবার আমাদের মধ্যে পেয়ে আনন্দিত।”
সুনাক জানিয়েছেন, এই উপদেষ্টা পদের জন্য পাওয়া পারিশ্রমিক তিনি দান করবেন ‘দ্য রিচমন্ড প্রজেক্ট’ নামের একটি অলাভজনক সংস্থায়। এটি তিনি ও তার স্ত্রী অক্ষতা মূর্তি ২০২৪ সালে প্রতিষ্ঠা করেন, যা যুক্তরাজ্যজুড়ে গণিত শিক্ষার মান উন্নয়নে কাজ করে।
সরকারি পদ থেকে অবসর নেওয়ার পর সাবেক কর্মকর্তারা নতুন চাকরি গ্রহণ করলে তার উপর নজর রাখে যুক্তরাজ্যের একটি বিশেষ সংস্থা ACoBA (Advisory Committee on Business Appointments)। তাদের মতে, সুনাকের এই নতুন পদে কিছু ঝুঁকি থাকতে পারে।
বিশেষ করে আশঙ্কা করা হচ্ছে, তিনি প্রধানমন্ত্রী থাকার সময় যে গোপন বা সংবেদনশীল তথ্য জানতেন, তা ব্যবহার করে ব্যাংকটিকে বিশেষ সুবিধা দিতে পারেন কি না।
এই কারণে ACoBA সুনাকের জন্য কিছু কঠোর শর্ত দিয়েছে:
তিনি গোল্ডম্যান শ্যাক্সের পক্ষে যুক্তরাজ্য সরকারের সঙ্গে কোনো ধরনের লবিং করতে পারবেন না।
প্রধানমন্ত্রী থাকা অবস্থায় যেসব ক্লায়েন্টের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন, তাদের কোনো ধরনের পরামর্শ দিতে পারবেন না।
তিনি কোনো বিদেশি সরকার বা ব্যাংকের সার্বভৌম তহবিল ব্যবস্থাপনায় কোনো সহায়তা করতে পারবেন না।
রাজনীতিতে আসার আগে সুনাক দীর্ঘদিন আর্থিক খাতে কাজ করেছেন। তিনি ২০০০ সালে গোল্ডম্যান শ্যাক্সে ইন্টার্ন হিসেবে যোগ দেন এবং ২০০১ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত বিশ্লেষক হিসেবে কাজ করেন। এরপর তিনি একটি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেন।
২০১৫ সালে তিনি প্রথমবার এমপি নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে কোভিড মহামারির সময় বরিস জনসনের অধীনে চ্যান্সেলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। লকডাউনের সময় তার অর্থনৈতিক সহায়তা কর্মসূচি ব্যাপকভাবে পরিচিতি পায়।
২০২২ সালের জুলাই মাসে চ্যান্সেলরের পদ থেকে পদত্যাগ করেন, যা বরিস জনসনের সরকারের পতনের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এরপর লিজ ট্রাসের স্বল্পস্থায়ী প্রধানমন্ত্রিত্বের পর তিনি ২০২২ সালের অক্টোবর মাসে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী হন। তবে ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে কনজারভেটিভ পার্টির ঐতিহাসিক পরাজয়ের পর তিনি পদত্যাগ করেন।
প্রধানমন্ত্রিত্ব ছাড়ার পর সুনাক কয়েকটি শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত হন। তিনি যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্লাভাটনিক স্কুল অফ গভর্নমেন্ট এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের হুভার ইনস্টিটিউশন-এ অবৈতনিকভাবে দায়িত্ব পালন করছেন।
এছাড়া তিনি ২০২৫ সালের এপ্রিল পর্যন্ত তিনটি বক্তৃতা দিয়ে ৫ লাখ পাউন্ডের বেশি আয় করেছেন। উল্লেখযোগ্য যে, সাবেক প্রধানমন্ত্রীদের মাঝে বড় করপোরেট সংস্থা ও আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দিয়ে আয় করা একটি প্রচলিত রীতি।
অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন
© thegalaxynews.com
























