যুক্তরাজ্যে ৭টি গৃহনির্মাতা কোম্পানি সাশ্রয়ী মূল্যের আবাসনের জন্য দেবে ১০০ মিলিয়ন পাউন্ড
প্রকাশ: ৯ জুলাই ২০২৫, ০৪:০৯ পিএম

যুক্তরাজ্যের প্রতিযোগিতা ও বাজার কর্তৃপক্ষ (CMA) এক তদন্তে জানতে পেরেছে যে, সাতটি বড় গৃহনির্মাতা কোম্পানি এমন কিছু তথ্য আদান-প্রদান করেছে যা বাড়ির দামকে প্রভাবিত করতে পারে। এসব তথ্যের মধ্যে ছিল দাম নির্ধারণ, কতজন ক্রেতা বাড়ি দেখতে আসছে এবং ক্রেতাদের জন্য অফার যেমন রান্নাঘর আপগ্রেড বা স্ট্যাম্প শুল্কে ছাড়।
তবে এই কোম্পানিগুলো—ব্যারেট ডেভেলপমেন্টস, বেলওয়ে, বার্কলে গ্রুপ, ব্লুর হোমস, পার্সিমন, টেলর উইম্পি এবং ভিস্ট্রি—কোনো অন্যায় স্বীকার করেনি। তারা বলেছে, ভবিষ্যতে তারা আর এই ধরনের সংবেদনশীল তথ্য অন্য গৃহনির্মাতাদের সঙ্গে ভাগ করবে না, এবং বিশেষ কিছু পরিস্থিতি ছাড়া বাড়ির বিক্রয়মূল্য সম্পর্কেও তথ্য আদান-প্রদান করবে না।
CMA-এর এই তদন্তের পর, এই সাতটি কোম্পানি মিলে ১০০ মিলিয়ন পাউন্ড দিতে সম্মত হয়েছে, যা যুক্তরাজ্যের চারটি দেশের বিভিন্ন সাশ্রয়ী মূল্যের আবাসন প্রকল্পে ব্যয় করা হবে। এই অর্থ দিয়ে নিম্ন আয়ের পরিবার, প্রথমবারের মতো বাড়ি কিনতে ইচ্ছুক ক্রেতা এবং দুর্বল জনগণের জন্য শত শত নতুন বাড়ি নির্মাণে সাহায্য করা হবে।
CMA জানিয়েছে, যদি তারা এই কোম্পানিগুলোর দেওয়া প্রতিশ্রুতি গ্রহণ করে, তাহলে এসব প্রতিশ্রুতি আইনত বাধ্যতামূলক হয়ে যাবে এবং আর এদের বিরুদ্ধে প্রতিযোগিতা আইন লঙ্ঘনের বিষয়ে আলাদা করে তদন্ত করতে হবে না। বর্তমানে এই প্রস্তাব নিয়ে ২৪ জুলাই পর্যন্ত পরামর্শ প্রক্রিয়া চলছে।
CMA-এর প্রধান নির্বাহী সারা কার্ডেল বলেন, “আবাসন খাত যুক্তরাজ্যের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এখানকার প্রতিযোগিতা ঠিকভাবে না চললে, মানুষ বেশি দাম দিতে বাধ্য হয় এবং তাদের পছন্দ কমে যায়। তাই এই পদক্ষেপগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ।”
২০২৪ সালে CMA গৃহনির্মাণ খাতে একটি বিস্তৃত বাজার গবেষণা শুরু করে, যাতে দেখা যায় নতুন বাড়ির সরবরাহ কেন কম হচ্ছে। এর ভিত্তিতেই এই তদন্ত শুরু হয়।
এদিকে, লেবার পার্টি তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষণা দিয়েছে, তারা এই সংসদীয় মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই ইংল্যান্ডে ১৫ লাখ নতুন বাড়ি নির্মাণ করবে। এই লক্ষ্য পূরণ করতে প্রতি বছর ৩ লাখ নতুন বাড়ি নির্মাণ করতে হবে, যা এর আগে কখনও অর্জিত হয়নি।
সরকারের কিছু মন্ত্রী বলেছেন, তারা পরিকল্পনা ব্যবস্থায় সংস্কার এনে গৃহনির্মাণ বাজারে গতি আনতে চান, যাতে বেসরকারি ডেভেলপাররা আরও বেশি বিনিয়োগ করতে আগ্রহী হয়।
তবে চ্যালেঞ্জ এখনো রয়ে গেছে। কোভিড মহামারির সময় কাঠ, কংক্রিটের ব্লকসহ নির্মাণসামগ্রীর দাম অনেক বেড়ে যায়। এখনও নির্মাণ শিল্প পুরোপুরি সেই ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে পারেনি। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে বাড়ি তৈরির খরচ কিছুটা কমেছে, তবে কাঁচামাল এবং দক্ষ শ্রমিকের চাহিদা ও খরচ এখনও বেশি।
অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন
© thegalaxynews.com
























