প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৫, ০৬:০২ পিএম

লেবার পার্টি ক্ষমতায় আসার পর থেকে দক্ষিণ ইউরোপের দেশগুলোতে ব্রিটেন ছেড়ে যাওয়া মধ্যবিত্ত পরিবারের সংখ্যা বাড়ছে বলে রিপোর্টে উঠে এসেছে।
সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গ্রিস ও পর্তুগালের মতো দেশে ‘গোল্ডেন ভিসা’ পাওয়ার জন্য যুক্তরাজ্যের নাগরিকদের মধ্যে আবেদন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করের চাপ বৃদ্ধির আশঙ্কায় অনেকেই ব্রিটেন ত্যাগ করার চিন্তা করছেন, এবং এটি এই প্রবণতার অন্যতম প্রধান কারণ।
বিশেষ করে গ্রিস এখন ব্রিটিশদের কাছে একটি জনপ্রিয় গন্তব্য হয়ে উঠেছে। দেশটিতে গোল্ডেন ভিসার আবেদন গত গ্রীষ্মের পর থেকে প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়েছে। মাত্র ২৫০,০০০ ইউরোর কম মূল্যের বিনিয়োগেই পাঁচ বছরের আবাসিক পারমিট এবং ইউরোপীয় নাগরিকত্বের পথ মেলে সেখানে।
গ্রিস সরকারের তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত যুক্তরাজ্য থেকে ৬২৬টি গোল্ডেন ভিসার আবেদন জমা পড়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৪৭ শতাংশ বেশি। একই ধরণের চিত্র দেখা গেছে পর্তুগালেও – যেখানে ২০২৪ সালে ব্রিটেন থেকে ৩৮৯টি আবেদন এসেছে, যা গত বছরের তুলনায় ৬৬ শতাংশ বেশি।
বিনিয়োগভিত্তিক অভিবাসন সংস্থা অ্যাস্টন্সের বিশ্লেষক আলেনা লেসিনা জানিয়েছেন, তারা গত এক বছরে ব্রিটিশ নাগরিকদের মধ্যে আবাসিক ভিসা প্রোগ্রামে আগ্রহের “স্পষ্ট বৃদ্ধি” দেখেছেন। তার মতে, “এই প্রোগ্রাম এখন শুধু উচ্চ বিত্তদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং মধ্যবিত্ত, রিমোট কর্মজীবী এবং অবসরপ্রাপ্তদের মধ্যেও আগ্রহ বাড়ছে।”
তিনি আরও বলেন, “অনেকের জন্য এটা শুধু কর বাঁচানোর ব্যাপার নয়, বরং জীবনের মান উন্নয়ন, ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায়।”
এদিকে, ইউরোপের বাইরেও যেমন সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো দেশে ব্রিটিশ নাগরিকদের আগ্রহ বাড়ছে, মূলত সেখানকার কম খরচের জীবনধারা এবং কর সুবিধার কারণে।
ছায়া বাণিজ্যমন্ত্রী অ্যান্ড্রু গ্রিফিথ মন্তব্য করেছেন, “এই তরুণ, উচ্চাকাঙ্ক্ষী মানুষেরা যখন যুক্তরাজ্য ছেড়ে চলে যাচ্ছে, তখন সেটা দেশের জন্য একটি হতাশাজনক বার্তা। এটি র্যাচেল রিভসের কর নীতির নেতিবাচক প্রভাবের প্রমাণ।”
চ্যান্সেলর র্যাচেল রিভস ধনীদের উপর অতিরিক্ত কর আরোপ, নন-ডোম স্ট্যাটাস বাতিল এবং উত্তরাধিকার কর কঠোর করার মাধ্যমে শরৎকালীন বাজেটে রাজস্ব বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছেন। কিন্তু অনেক ধনী নাগরিক দেশ ছেড়ে যাওয়ায় এখন কর আদায়ের লক্ষ্য পূরণে বাধার মুখে পড়তে পারেন বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।
তবে ট্রেজারি বিভাগ দাবি করেছে, যুক্তরাজ্যের কর ব্যবস্থা “ন্যায্য ও প্রগতিশীল” এবং এটি দেশটিকে বসবাসের জন্য আকর্ষণীয় রাখে। তারা আরও জানিয়েছে, যুক্তরাজ্যের মূলধন লাভ করের হার জি৭ ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে সর্বনিম্ন, এবং সরকার শ্রমজীবী মানুষের ওপর করের চাপ কম রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন
© thegalaxynews.com
























