প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৫, ০৫:৪৩ পিএম

যুক্তরাজ্যের হাইকোর্ট বেসরকারি স্কুলের ফিতে ভ্যাট আরোপের বিরুদ্ধে দায়ের করা একাধিক আইনি চ্যালেঞ্জ খারিজ করে দিয়েছে। আদালত জানিয়েছে, এই সিদ্ধান্ত সংসদের নীতিনির্ধারণী স্বাধীনতার মধ্যে পড়ে এবং ব্রেক্সিট-পরবর্তী স্বাধীনতার একটি বাস্তব উদাহরণ।
২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে লেবার পার্টি তাদের ইশতেহারে বেসরকারি স্কুলের ফিতে ২০% ভ্যাট আরোপের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। এ বছরের জানুয়ারি থেকে তা বাস্তবায়ন শুরু হয়। সরকারের দাবি, এই রাজস্ব ব্যবহার করে রাজ্য স্কুলে অতিরিক্ত ৬,৫০০ শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে।
হাইকোর্টের বিচারক ডেম ভিক্টোরিয়া শার্প, লর্ড জাস্টিস গাই নিউই ও মিস্টার জাস্টিস চেম্বারলেইন যৌথভাবে রায় দেন, যেখানে অভিভাবক ও স্কুলগুলোর ধর্মীয় স্বাধীনতা, পিতামাতার পছন্দ এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের সমস্যা উল্লেখ করে আনা আপত্তিগুলো খারিজ করা হয়।
আদালত জানায়, যদিও আইনটি কিছু ক্ষেত্রে মানবাধিকার হস্তক্ষেপ করে, তবুও সরকার জনসাধারণের বৃহত্তর স্বার্থে সিদ্ধান্ত নিতে ব্যাপক নীতিগত স্বাধীনতা ভোগ করে। ইউরোপীয় মানবাধিকার কনভেনশন অনুযায়ী সরকার বেসরকারি শিক্ষায় প্রবেশ সহজ করার বাধ্যবাধকতায় নেই, এমনকি তা ধর্মীয় কারণেও হলেও।
আইনজীবী রবার্ট লুইস বলেন, এই রায় প্রত্যাশিত ছিল এবং এটি একটি গণতান্ত্রিকভাবে গৃহীত নীতির বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ ছিল, যা সংসদে অনুমোদিত হয়ে আইনে পরিণত হয়েছে। তবে তিনি বলেন, রায়ে কিছু মৌলিক ইঙ্গিত রয়েছে যে, ভবিষ্যতে স্বাধীন স্কুলের ওপর সরাসরি নিষেধাজ্ঞা মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল হতে পারে।
ইন্ডিপেন্ডেন্ট স্কুল কাউন্সিলের প্রধান নির্বাহী জুলি রবিনসন বলেন, “এই কর শিক্ষাক্ষেত্রে নজিরবিহীন এবং এর মানবাধিকার সম্মততা যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। আমরা রায়ের পরবর্তী পদক্ষেপ ভেবে দেখছি।”
খ্রিস্টান লিগ্যাল সেন্টার জানিয়েছে, তারা আপিল প্রক্রিয়ায় তাদের সমর্থন অব্যাহত রাখবে, কারণ তাদের মতে এই ভ্যাট ধর্মীয় শিক্ষা গ্রহণের অধিকারকে খর্ব করছে।
অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন
© thegalaxynews.com
























