প্রকাশ: ১২ মে ২০২৫, ০৫:৪০ পিএম

যুক্তরাজ্যের অভিবাসন নীতিতে বড় পরিবর্তন আসছে। আজ সোমবার ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এক নতুন পরিকল্পনা ঘোষণা করবেন, যেখানে বিদেশি নাগরিকদের জন্য স্থায়ী বসবাস বা নাগরিকত্বের আবেদন করার সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে।
নতুন নীতির আওতায়, এখন থেকে অধিকাংশ অভিবাসীকে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে হলে ১০ বছর অপেক্ষা করতে হবে। তবে, যাঁরা প্রমাণ করতে পারবেন যে তারা যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি ও সমাজে ‘বাস্তব ও স্থায়ী অবদান’ রেখেছেন, তাঁরা ১০ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই আবেদন করতে পারবেন। উদাহরণস্বরূপ, যারা নিয়মিত আয়কর দেন, ন্যাশনাল হেলথ সেন্টারে (এনএইচএস) চিকিৎসক, নার্স বা হাসপাতালের কর্মী হিসেবে কাজ করেন, বা ব্যতিক্রমী স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজে যুক্ত আছেন—তাঁদের জন্য এই সুযোগ থাকবে।
এছাড়া, নতুন নিয়মে নাগরিকত্ব পাওয়ার পর ব্যক্তিরা কল্যাণ ভাতা, বিনা মূল্যে স্বাস্থ্যসেবা, ভোটাধিকার এবং ব্রিটিশ পাসপোর্টের জন্য আবেদন করতে পারবেন।
এই নতুন নীতি অনেকটা ডেনমার্কের অভিবাসন নীতির মতো, যেখানে অভিবাসীদের সমাজের সঙ্গে মিশে গিয়ে দায়িত্বশীল নাগরিক হতে নানা শর্ত দেওয়া হয়। ডেনমার্কে নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রক্রিয়াও দীর্ঘ ও কঠিন।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই পদক্ষেপগুলো নিট অভিবাসনের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে নেওয়া হচ্ছে। ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত ১২ মাসে নিট অভিবাসনের সংখ্যা ছিল ৭ লাখ ২৮ হাজার।
ভিসা পেতে ইংরেজি দক্ষতায় বাড়ছে শর্ত
নতুন অভিবাসন নীতিতে বিদেশি কর্মীদের জন্য ইংরেজি ভাষার দক্ষতার মানদণ্ড আরও কঠোর করা হয়েছে। এখন থেকে এ-লেভেল সমমানের ইংরেজি জানতে হবে, যাতে তারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে সামাজিক, একাডেমিক ও পেশাগত পরিবেশে কথা বলতে পারেন। আগে শুধুমাত্র জিসিএসই সমমানের ইংরেজি জানলেই চলত, যা দৈনন্দিন বিষয়গুলি বুঝতে এবং ভ্রমণের সময় পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে সহায়তা করত।
এ ছাড়া, স্থায়ী বসবাস বা নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে হলে, বিদেশি শিক্ষার্থীদেরও বি-২ লেভেলের ইংরেজি জানার শর্ত প্রযোজ্য হবে। যারা ভিসা আবেদনকারীর সঙ্গী, সন্তান বা অভিভাবক হিসেবে যুক্তরাজ্যে যেতে চান, তাদেরও এ-১ স্তরের ইংরেজি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। পরে, যুক্তরাজ্যে আরও দুই বছর থাকতে চাইলে এ-২ স্তরের ইংরেজি দক্ষতা অর্জন করতে হবে।
বিদেশি কেয়ার কর্মী নিয়োগ বন্ধ
এ বছরের শেষ থেকে যুক্তরাজ্যের কেয়ার হোমগুলো আর সরাসরি বিদেশি কর্মী নিয়োগ করতে পারবে না। এখন থেকে তাঁদের দেশীয় কর্মী বা যুক্তরাজ্যে থাকা বিদেশি নাগরিকদের নিয়োগ করতে হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপার এই ঘোষণা দেন এবং জানান, বর্তমানে প্রায় ৪০ হাজার বিদেশি কেয়ার কর্মী রয়েছেন, যাঁরা কেয়ার ভিসায় এসেছেন, কিন্তু তাঁদের স্পনসরশিপ বাতিল হয়েছে। এখন তাঁদের থেকেই কর্মী নিয়োগ দিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, “এই সিদ্ধান্তের পাশাপাশি কেয়ার সেক্টরে কর্মীদের ‘ন্যায্য মজুরি’ নিশ্চিতকরণের বিষয়টি নিয়েও আমরা কাজ করছি।”
অপরাধীদের দেশে ফেরত পাঠানো
নতুন নিয়মে, যুক্তরাজ্যে বসবাসরত অভিবাসীদের জন্য কঠোর শর্ত আরোপ করা হয়েছে। ছোটখাটো অপরাধও এখন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জানানো হবে। এর আগে এক বছরের বেশি কারাদণ্ড হলে ভিসা বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু করা হতো, কিন্তু এখন ছোট অপরাধের ক্ষেত্রেও তা কার্যকর হবে। যৌন অপরাধের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে কঠোর শর্ত প্রযোজ্য হবে এবং অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত হলে তাঁকে দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হবে।
বিদেশি কর্মীদের শিক্ষাগত যোগ্যতার মানদণ্ড বৃদ্ধি
ব্রিটিশ সরকার দক্ষ বিদেশি কর্মীদের জন্য স্নাতক যোগ্যতার মানদণ্ড পুনর্বহাল করতে যাচ্ছে। বরিস জনসনের সরকার পূর্বে এটি বাতিল করলেও, এখন পয়েন্টভিত্তিক ব্যবস্থা চালু রয়েছে, যার মাধ্যমে কিছু নির্দিষ্ট খাতে বিদেশি কর্মী নিয়োগ করা যাবে।
বিদেশি গ্র্যাজুয়েটদের জন্য নতুন বাধা
যুক্তরাজ্যে গ্র্যাজুয়েট ভিসার মেয়াদেও পরিবর্তন আনা হচ্ছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, বিদেশি গ্র্যাজুয়েটদের জন্য ভালো বেতনের দক্ষতা-ভিত্তিক চাকরি আবশ্যক হবে।
অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন
© thegalaxynews.com
























