প্রকাশ: ২৯ এপ্রিল ২০২৫, ০৫:২৯ পিএম

যুক্তরাজ্যে ঘরসংকটের মতো মানবিক সমস্যাকে কেন্দ্র করে এক শ্রেণির বাড়ির মালিক ও বেসরকারি হোটেল মালিকরা বিপুল অর্থ উপার্জন করছেন—এমন তথ্য উঠে এসেছে সাম্প্রতিক একটি অনুসন্ধানে। গার্ডিয়ানের এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ইংল্যান্ডের বহু স্থানীয় কাউন্সিল এখন ঘরহীন পরিবারের জন্য অস্থায়ী বাসস্থান ভাড়া নিতে প্রচলিত বাজারমূল্যের চেয়ে দ্বিগুণ পর্যন্ত খরচ করছে।
সরকারি তথ্যমতে, বর্তমানে শুধু ইংল্যান্ডেই এক লাখেরও বেশি পরিবার অস্থায়ী আবাসনে বাস করছে। এই সংকট মোকাবিলায় স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে প্রতিবছর গুণতে হচ্ছে প্রায় £২.১ বিলিয়ন, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বেশি। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে, লন্ডনের কিছু কাউন্সিল এখন তাদের মোট হাউজিং বাজেটের ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত খরচ করছে শুধু অস্থায়ী ঘর ভাড়া দিতেই। প্রতিদিনের হিসেবে শুধুমাত্র লন্ডনেই ব্যয় হচ্ছে প্রায় £৪ মিলিয়ন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই খাতে প্রায় £২ বিলিয়ন মূল্যের একটি বেসরকারি আবাসন বাজার গড়ে উঠেছে, যার অনেকাংশই অনিয়ন্ত্রিত, ঝুঁকিপূর্ণ এবং অস্বাস্থ্যকর। বহু অস্থায়ী বাসস্থানে বাসিন্দারা স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ, ইঁদুরের উপদ্রব এবং মৌলিক সুযোগ-সুবিধার অভাবে বসবাস করছেন।
শেল্টার সংস্থার পরিচালক মেরি ম্যাক্রে এই পরিস্থিতিকে “সমাজের লজ্জা” বলে অভিহিত করে বলেন, “পরিবারগুলো বছরের পর বছর অপমানজনক পরিবেশে বাস করতে বাধ্য হচ্ছে, আর এই দুর্বল অবস্থার সুযোগ নিয়ে কেউ কেউ বিপুল মুনাফা করছে।”
অনুসন্ধানে জানা গেছে, কিছু পরিবার পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে এই অস্থায়ী বাসস্থানে থাকতে বাধ্য হচ্ছে। গত পাঁচ বছরে এসব বাসস্থানে কমপক্ষে ৭৪ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যাদের মধ্যে ৫৮ জনের বয়স ছিল এক বছরের নিচে।
হেস্টিংস কাউন্সিল জানিয়েছে, তাদের বার্ষিক বাজেটের অর্ধেকেরও বেশি এখন ব্যয় হচ্ছে অস্থায়ী আবাসনের পেছনে। ক্রলি কাউন্সিলের মতে, এই ব্যয়বৃদ্ধি ভবিষ্যতে তাদের আর্থিক স্থিতিশীলতাকেই হুমকির মুখে ফেলতে পারে।
এদিকে সংসদের হাউজিং কমিটি এই পরিস্থিতিকে “চরম লজ্জাজনক” বলে মন্তব্য করেছে এবং দ্রুত সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে।
ন্যাশনাল হাউজিং ফেডারেশনের প্রধান নির্বাহী কেট হেন্ডারসন বলেন, “২০১০ সালে সামাজিক আবাসন খাতে সরকারি বরাদ্দ প্রায় ৬৩ শতাংশ কমিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তার ফলেই আজ এই সংকট সৃষ্টি হয়েছে এবং সরকার এখন প্রতিবছর £১৩ বিলিয়ন পাউন্ড অতিরিক্ত ব্যয় করতে বাধ্য হচ্ছে।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংকট সমাধানে একমাত্র কার্যকর উপায় হলো টেকসই ও পর্যাপ্ত সামাজিক বাসস্থান নির্মাণ। এখনই যদি সরকার বড় পরিসরে এই খাতে বিনিয়োগ করে, তাহলে ভবিষ্যতে সরকারের ব্যয় হ্রাস পাবে এবং লক্ষাধিক পরিবারের জন্য নিরাপদ আবাসন নিশ্চিত করা যাবে।
অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন
© thegalaxynews.com
























