প্রকাশ: ৮ মার্চ ২০২৬, ১২:০৩ এএম

সিলেটে যুব রেড ক্রিসেন্টের নতুন কমিটি ঘিরে বিতর্ক
সিনিয়র স্বেচ্ছাসেবকদের বাদ দেওয়ার অভিযোগ, রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা ও পরিবারতন্ত্র নিয়ে প্রশ্ন
সিলেট রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের যুব সংগঠন যুব রেড ক্রিসেন্টের নতুন কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে সংগঠনের ভেতরে ব্যাপক বিতর্ক ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, দীর্ঘদিন ধরে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও সক্রিয় সিনিয়র স্বেচ্ছাসেবকদের বাদ দিয়ে নতুন ও অনিয়মিত সদস্যদের গুরুত্বপূর্ণ পদে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। পাশাপাশি রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা, তদন্তাধীন ব্যক্তিকে নেতৃত্বে আনা এবং একই পরিবারের একাধিক সদস্যকে কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগও সামনে এসেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রোববার (৮ মার্চ) নতুন কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হতে পারে। তবে ঘোষণার আগেই সম্ভাব্য কমিটি নিয়ে নানা অভিযোগ সামনে আসায় সংগঠনের ভেতরে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।
স্বেচ্ছাসেবকদের একটি অংশের দাবি, প্রায় দুই বছর ধরে সিলেট ইউনিটে কার্যকর কোনো যুব কমিটি না থাকলেও নতুন কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি। বরং গোপনে পক্ষপাতমূলকভাবে একটি কমিটি তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তাদের।
তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ৫ থেকে ৮ বছর ধরে মাঠপর্যায়ে কাজ করা অভিজ্ঞ স্বেচ্ছাসেবকদের উপেক্ষা করে নতুন ও অনিয়মিত সদস্যদের গুরুত্বপূর্ণ পদে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে, যা সংগঠনের ভেতরে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
এদিকে সম্ভাব্য কমিটিতে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নাদেল গ্রুপের নেতা আলী মুনসী সুলতান–কে দুর্যোগ ও সাড়াদান বিভাগের প্রধান হিসেবে মনোনয়ন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর বিভিন্ন পর্যায়ের স্বেচ্ছাসেবকদের মধ্যে সমালোচনা শুরু হয়েছে।
অন্যদিকে নারী স্বেচ্ছাসেবীদের হয়রানির অভিযোগে পূর্বে বহিষ্কৃত হাবিবুর রশিদ জনি–কেও নতুন কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নারী স্বেচ্ছাসেবক সংক্রান্ত একটি ঘটনার জেরে তাকে আগে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল।
নতুন কমিটিতে একই পরিবারের একাধিক সদস্যকে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, হাবিবুর রশিদ জনি, তার পরিবারের সদস্য মুনায়েম রশীদ মুন্না এবং কুলসুমা আক্তার সাথী—এই তিনজনই একই পরিবারের সদস্য হয়েও কমিটিতে স্থান পাচ্ছেন বলে আলোচনা চলছে। বিষয়টি সংগঠনের স্বচ্ছতা ও নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।
এছাড়া একটি অরাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে যুব পলিসিতে রাজনৈতিক পদবীধারীদের নেতৃত্বে না রাখার বিধান থাকলেও ছাত্রদলের পদবীধারী একজনকে কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। এতে সংগঠনের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
এদিকে নতুন কমিটিতে যুব প্রধান হওয়ার আলোচনায় রয়েছেন চৌধুরী লাবিব ইয়াসির। তার বিরুদ্ধে কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট অতিরিক্ত বিল উত্তোলন, নারী স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে অসদাচরণ এবং সাংগঠনিক শৃঙ্খলাবিরোধী আচরণের অভিযোগ রয়েছে বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন।
জানা গেছে, এসব অভিযোগের বিষয়ে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির জাতীয় সদর দপ্তরের নির্দেশনায় তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ইতোমধ্যে সদর দপ্তরের একটি প্রতিনিধি দল সিলেট ইউনিটে এসে বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধানও করেছে।
স্বেচ্ছাসেবকদের অভিযোগ, অতীতেও সাংগঠনিক পদোন্নতি নিয়ে বিতর্কে জড়িয়েছিলেন চৌধুরী লাবিব ইয়াসির। তাদের দাবি, পূর্ববর্তী এক কমিটি গঠনের সময় বিভাগীয় উপ-প্রধানদের তালিকায় তিনি ১৪ নম্বরে থাকলেও পরে প্রভাব খাটিয়ে ২ নম্বর অবস্থানে উঠে আসেন এবং উপযুব প্রধান–১ পদে দায়িত্ব নেন। সে সময়ও বিষয়টি নিয়ে সংগঠনের ভেতরে আলোচনা-সমালোচনা হয়েছিল বলে জানা যায়।
এছাড়া রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের নির্বাচনে সেক্রেটারি ভিপি মাহবুব–এর প্যানেলের পক্ষে সক্রিয়ভাবে কাজ করার কারণেই তাকে যুব প্রধান করার আলোচনা চলছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
যুব রেড ক্রিসেন্টের কয়েকজন সিনিয়র স্বেচ্ছাসেবক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও মাঠপর্যায়ে সক্রিয় কর্মীদের বাদ দিয়ে নতুন ও বিতর্কিত ব্যক্তিদের দিয়ে কমিটি গঠন করা হলে তা সংগঠনের নীতিমালা ও আদর্শের পরিপন্থী হবে।
তাদের মতে, মানবিক সংগঠন হিসেবে যুব রেড ক্রিসেন্টের নেতৃত্বে অভিজ্ঞ ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের থাকা জরুরি। অন্যথায় সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন
© thegalaxynews.com
























