প্রকাশ: ৭ এপ্রিল ২০২৫, ০৫:০৭ পিএম

সিলেট অঞ্চলের পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে ঈদের ছুটিতে দেশ-বিদেশের বিপুলসংখ্যক পর্যটকের আগমন ঘটেছে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং মনোমুগ্ধকর পরিবেশে ভ্রমণপিপাসুরা মুগ্ধ হয়ে সিলেটের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এ বছর আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি পর্যটক সিলেটে ভিড় করেছেন, এবং ধারণা করা হচ্ছে ১০ লাখেরও বেশি পর্যটক সিলেটের পর্যটন স্পটগুলো পরিদর্শন করেছেন।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক অপূর্ব ভাণ্ডার সিলেট। এখানে রয়েছে সাদা পাথরের রাজ্য, নয়নাভিরাম জাফলং, বিছানাকান্দি, রাতারগুলের জলাবন, এবং বিস্তীর্ণ চা বাগান—সবকিছু মিলিয়ে সিলেট এখন পর্যটকদের প্রিয় গন্তব্য হয়ে উঠেছে। সম্প্রতি সিলেটের পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে ঘুরে দেখা গেছে, কোম্পানীগঞ্জের ভোলাগঞ্জে সাদা পাথরের উপর দিয়ে প্রবাহিত স্বচ্ছ জলধারা আর পর্যটকদের জলকেলি ছিল চোখে পড়ার মতো। অন্যদিকে, সুউচ্চ পাহাড়ের মাঝে জাফলংয়ের অপরূপ দৃশ্য এবং ভারতের ডাউকি শহরের পাশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এক স্বপ্নলোকের মতো।
চট্টগ্রাম থেকে আসা পর্যটক সাব্বির আহমেদ বলেন, “অনেক দিন ধরেই সিলেটে আসার ইচ্ছে ছিল, কিন্তু ছুটি পাওয়া যাচ্ছিল না। এবার ঈদের ছুটিতে সেই সুযোগটা কাজে লাগিয়েছি। গতকাল ঘুরেছি রাতারগুল, আজ জাফলংয়ে, কাল যাবো সাদা পাথরে।”
সিলেটের রাতারগুল জলাবন বেড়াতে আসা পর্যটকরা নৌকায় ভেসে ঘুরে দেখছেন। পাশাপাশি, অনেকেই লাক্কাতুরা চা বাগানসহ অন্যান্য স্পটেও ভ্রমণ করছেন। এসব পর্যটন স্পটের দোকানিদের মুখে হাসি ফুটেছে, কারণ বিক্রি আগের বছরের তুলনায় কয়েকগুণ বেড়েছে। স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী তোফাজ্জল জানান, “করোনার সময় লোকজন আসেনি, কিন্তু এবার অনেক বেশি পর্যটক এসেছে। আমরা খুব খুশি, ৪-৫ গুণ বেশি বিক্রি হচ্ছে।”
তবে, কিছু পর্যটক সৌন্দর্য থাকা সত্ত্বেও মৌলিক সুবিধার অভাব নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন। নাবিল হোসেন নামে এক দর্শনার্থী বলেন, “জাফলংয়ে নেটওয়ার্ক নেই, ফলে কেউ হারিয়ে গেলে খোঁজার উপায় থাকে না। সাদা পাথরের নৌকা ঘাটের অবস্থা ভালো না। পাবলিক টয়লেটের অভাব, বিশেষ করে নারীদের জন্য এটি খুবই কষ্টকর।”
পর্যটন খাতের উন্নয়ন সম্পর্কে সিলেট হোটেল অ্যান্ড গেস্ট হাউজ ওনার্স গ্রুপের সাবেক সভাপতি খন্দকার শিপার আহমেদ বলেন, “আবহাওয়া এবং পরিবেশ অনুকূল থাকায় এবারের ঈদে পর্যটক সংখ্যা অনেক বেশি ছিল। এত বেশি ভিড়, যে হোটেলে জায়গা নেই। আমরা আলাদা দিনে বুকিং নিচ্ছি। আমাদের ধারণা, এই ঈদ মৌসুমে অন্তত ১০ লাখের বেশি পর্যটক সিলেটে এসেছেন।”
এ বিপুল সংখ্যক পর্যটকের নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে। জাফলং টুরিস্ট পুলিশের ইনচার্জ মো. শাহাদৎ হোসেন জানান, “পর্যটকরা শতভাগ নিরাপদ পরিবেশে ঘুরে বেড়াতে পারবেন। আমাদের ট্যুরিস্ট পুলিশ, বিজিবি, পুলিশ এবং সাদা পোশাকের সদস্যরা সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রয়েছেন।”
পর্যটন সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ঈদের পরেও সিলেটের পর্যটন স্পটগুলোতে পর্যটকদের আগমন অব্যাহত থাকবে, বিশেষ করে অনুকূল আবহাওয়ার কারণে। তারা মনে করেন, সঠিক পরিকল্পনা ও অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে এই খাত থেকে বিপুল রাজস্ব আয় করা সম্ভব।
অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন
© thegalaxynews.com
























