প্রকাশ: ১২ এপ্রিল ২০২৫, ০৫:৩৩ পিএম

রাঙামাটির পাহাড়ি জনপদে শুরু হয়েছে বৈসাবির মূল উৎসব—হ্রদের শান্ত জলে ফুল ভাসিয়ে নতুন বছরকে বরণ ও পুরনো বছরকে বিদায় জানানোর মধ্য দিয়ে। পাহাড়ের নানা জাতিগোষ্ঠীর মানুষের জন্য এটি সবচেয়ে বড় সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আয়োজন।
শনিবার (১২ এপ্রিল) ভোরের নরম আলোয়, সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গে হ্রদের পাড়ে জড়ো হন রাঙামাটির পাহাড়ি নারীরা। কলা পাতায় সাজানো রক্তজবা, গাঁদা, রঙ্গন ও বুনো ফুল নিয়ে তারা গঙ্গা দেবীর উদ্দেশে ফুল নিবেদন করেন, পুরনো বছরের গ্লানি ও দুঃখ মুছে ফেলে নতুনের আশায়।
নারীরা ঐতিহ্যবাহী রঙিন পিনোন-হাদি পরে, আর ছেলেরা ফতুয়া কিংবা পাঞ্জাবিতে অংশ নেন এই আয়োজনে। উৎসবটি যেন পুরো পাহাড়কে রঙিন করে তোলে। এমন দৃশ্য প্রতিটি পাহাড়ি পল্লিতেই চোখে পড়ে।
এই উৎসব ত্রিপুরাদের কাছে ‘বৈসুক’, মারমাদের কাছে ‘সাংগ্রাই’, চাকমাদের কাছে ‘বিজু’, তঞ্চঙ্গ্যাদের কাছে ‘বিষু’ এবং অহমিয়াদের কাছে ‘বিহু’ নামে পরিচিত। একত্রে এটি পরিচিত ‘বৈসাবি’ নামে। এটি বাংলা নববর্ষ বরণ ও পুরনো বছরকে বিদায় জানানোর এক মিলিত আনন্দোৎসব।
একটি উৎসব, একটি প্রার্থনা—সুখময় আগামীর প্রত্যাশা
ফুল ভাসানোর মাধ্যমে পাহাড়িরা কামনা করেন যেন পুরনো বছরের সব হিংসা, বিভেদ ও দুঃখ নদীর জলে মিলিয়ে যায়, আর নতুন বছর বয়ে আনে সুখ-শান্তি ও সম্প্রীতি।
রাজবাড়ি ঘাটে আসা অমিও চাকমা বলেন, “বিজুর মূল আয়োজন আজ থেকে শুরু হলো। আমরা ফুল ভাসিয়ে গঙ্গা দেবীর কাছে প্রার্থনা করেছি যেন গত বছরের সব ভুল ক্ষমা হয়ে যায়।”
দূর গাজীপুর থেকে আসা পর্যটক সাদেকুর ইসলাম বলেন, “এতোদিন শুধু টিভিতে দেখেছি। এবার সামনে থেকে দেখলাম—এত প্রাণবন্ত, রঙে ভরা উৎসব না দেখলে জীবনটাই অপূর্ণ থেকে যেত।”
রাঙামাটি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হাবিব উল্লাহসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারাও বিভিন্ন সম্প্রদায়ের আয়োজনে অংশ নেন। ‘হারি বৈসু’ উৎসবে যোগ দিয়ে তিনি বলেন, “রাঙামাটি এখন যেন এক উৎসবের শহর। বৈচিত্র্যময় এই আয়োজন পাহাড়িদের বন্ধন আরও দৃঢ় করবে এবং সবাই মিলে শান্তিময় বছর কাটাবে—এটাই আমাদের কামনা।”
অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন
© thegalaxynews.com























