প্রকাশ: ৯ জুলাই ২০২৫, ০৪:২৫ পিএম

যুক্তরাজ্যের জ্বালানিমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড বিতর্কিত ‘জোনাল প্রাইসিং’ (অঞ্চলভিত্তিক বিদ্যুৎ মূল্য নির্ধারণ) পরিকল্পনা বাতিল করেছেন। এই পরিকল্পনার মাধ্যমে স্কটল্যান্ডসহ বিদ্যুৎ-সমৃদ্ধ অঞ্চলে বিদ্যুতের দাম কমানোর প্রস্তাব ছিল, তবে তা দক্ষিণাঞ্চলের ভোক্তাদের জন্য বেশি খরচের কারণ হত বলে আশঙ্কা করা হচ্ছিল।
সরকারের ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমার এবং ডাউনিং স্ট্রিটের অন্যান্য কর্মকর্তারা সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব বিবেচনায় রেখে এই পরিকল্পনার বিরোধিতা করেন। মন্ত্রিসভার আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের পর এই সিদ্ধান্ত শিগগিরই প্রকাশ্যে জানানো হবে।
‘জোনাল প্রাইসিং’ কী?
এই নীতির অধীনে, যেসব এলাকায় বিদ্যুৎ উৎপাদন বেশি কিন্তু চাহিদা কম (যেমন স্কটল্যান্ড), সেখানে বিদ্যুতের দাম কমানো হতো। এতে শিল্প-কারখানাগুলিকে ওইসব অঞ্চলে স্থানান্তরে উৎসাহ দেওয়া হতো এবং গ্রিডে অতিরিক্ত চাপ কমত। বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রেই বায়ু খামারগুলোকে বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ করতে অর্থ দেওয়া হয়, কারণ চাহিদা না থাকায় বিদ্যুৎ নষ্ট হয়।
বিনিয়োগকারীদের শঙ্কা এবং বিদ্যুৎ কোম্পানিগুলোর আপত্তি
যদিও এই নীতি অক্টোপাস এনার্জির প্রতিষ্ঠাতা গ্রেগ জ্যাকসন সমর্থন করেছিলেন, অন্যান্য বড় বিদ্যুৎ কোম্পানি – যেমন SSE, স্কটিশ পাওয়ার, এবং RWE – এর বিরোধিতা করে। তারা আশঙ্কা করে, এতে বিদ্যুৎ খাতে বিনিয়োগকারীরা নিরুৎসাহিত হবেন এবং নতুন প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব হবে।
SSE-এর বিদায়ী সিইও অ্যালিস্টার ফিলিপস-ডেভিস এই পরিকল্পনাকে “একটি বিশাল ভুল” বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, এতে “পোস্টকোড লটারি” তৈরি হবে – যেখানে মানুষ কেবল তাদের বাসস্থানের ভিত্তিতে বছরে £২০০ থেকে £৩০০ বেশি বিদ্যুৎ বিল দেবে।
সরকারি ব্যাখ্যা ও পরবর্তী পদক্ষেপ
একজন সরকারি সূত্র জানায়, “পরিকল্পনাটি পর্যালোচনার পর দেখা গেছে, নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প বাস্তবায়ন, আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের আস্থা এবং গ্রিড আপগ্রেডের গতি ধরে রাখতে এই নীতি থেকে সরে আসা অধিক যুক্তিসঙ্গত।”
সরকার এখন বিকল্প পন্থা খুঁজছে যাতে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে বিদ্যুৎ-সমৃদ্ধ এলাকায় স্থানান্তরের জন্য উৎসাহ দেওয়া যায়। এর মধ্যে রয়েছে স্কটল্যান্ডে ব্যাটারি স্টোরেজ প্রকল্পে বিনিয়োগ বাড়ানো এবং উচ্চ উৎপাদনের দিনে বিদ্যুৎ ধারণক্ষমতা বাড়াতে বিশেষ প্রণোদনা দেওয়া।
রাজনৈতিক চাপ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
ডাউনিং স্ট্রিট ইতোমধ্যে এই বিষয়ে ‘রাইটিং রাউন্ড’ নামক অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনা শুরু করেছে, যেখানে শীর্ষ মন্ত্রীরা তাদের মতামত দেবেন। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আগস্টের শুরুতে আসন্ন নবায়নযোগ্য শক্তি নিলামের আগে জানানো হবে।
এদিকে প্রধানমন্ত্রী স্টারমার সরকারকে জ্বালানি বিল কমানোর প্রতিশ্রুতি পূরণের চাপের মুখে ফেলেছে রিফর্ম ইউকে-এর মতো দলের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা। সরকার চায়, বিদ্যুৎ ব্যবস্থার সংস্কার সাধারণ জনগণের খরচ কমাক – শুধু শিল্প খাত নয়।
অন্যদিকে বিনিয়োগের সুখবর
এদিনই ফরাসি বিদ্যুৎ কোম্পানি EDF নিশ্চিত করেছে, তারা সাইজওয়েল সি পারমাণবিক প্রকল্পে ১২.৫% মালিকানা নেবে। এই প্রকল্প সরকারের “পারমাণবিক স্বর্ণযুগ” বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন
© thegalaxynews.com
























