প্রকাশ: ৩ জুন ২০২৫, ০৫:৪২ পিএম

আসন্ন এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বে সিঙ্গাপুর ও একটি প্রীতি ম্যাচে ভুটানের বিপক্ষে লড়াইয়ের জন্য বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনকে (বাফুফে) ৬০ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)। এই অর্থ মূলত থিম সং ও টিভিসি (টেলিভিশন কমার্শিয়াল) নির্মাণে ব্যয় করা হবে।
গত ২৬ মে বাফুফের সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসেন তুষার ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর ৬৫ লাখ টাকা চেয়ে একটি চিঠি দেন। এরপর ২৮ মে এনএসসি ‘তারুণ্যের উৎসব’-এর অংশ হিসেবে থিম সং ও প্রচারণার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়ে চিঠি পাঠায়। ২৯ মে এনএসসির পরিচালক (ক্রীড়া) মো. হুমায়ুন কবির স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে বাফুফেকে ৬০ লাখ টাকা বরাদ্দের সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
তবে এই বরাদ্দ নিয়ে ক্রীড়াঙ্গনে প্রশ্ন উঠেছে— একটি প্রীতি ম্যাচ এবং একটি বাছাইপর্বের ম্যাচের জন্য এত ব্যয়বহুল থিম সং ও টিভিসির যৌক্তিকতা কতটা? এখন পর্যন্ত গণমাধ্যমে বা সামাজিক মাধ্যমে সেই থিম সং বা টিভিসি দৃশ্যমান হয়নি, যা বিতর্ককে আরও উসকে দিচ্ছে।
থিম সং, অথচ মাঠে সাড়া কম
সাধারণত আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট বা বড় ক্রীড়া উৎসব উপলক্ষে থিম সং তৈরি হয়। কিন্তু একটি বাছাই ম্যাচ ও একটি প্রস্তুতি ম্যাচ ঘিরে থিম সং তৈরি এবং তাতে এত বড় অঙ্কের সরকারি অর্থ ব্যয়ের নজির বাংলাদেশে নতুন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যেখানে দেশের ঐতিহ্যবাহী ক্রীড়াসঙ্গীত প্রায় বিলুপ্ত, সেখানে থিম সং তৈরিতে মোটা অঙ্কের বরাদ্দ ক্রীড়া সংস্কৃতির যথাযথ বিকাশে অনুপযোগী সিদ্ধান্ত।
১৯৭৮ সালে প্রণীত বাংলাদেশের জাতীয় ক্রীড়াসঙ্গীত এক সময় বিভিন্ন আসরে নিয়মিত বাজানো হতো, কিন্তু বর্তমানে সেটি কেবল কাগজে-কলমেই রয়ে গেছে। অনেকেই মনে করেন, নতুন থিম সংয়ের পরিবর্তে ক্রীড়াসঙ্গীতকে পুনরায় জনপ্রিয় করার উদ্যোগ নেওয়া যেত।
স্পন্সর থাকা সত্ত্বেও কেন সরকারি অনুদান?
বাফুফে ইতিমধ্যে সিঙ্গাপুর ম্যাচকে ঘিরে বেশ কিছু স্পন্সর সংগ্রহ করেছে। তারপরও তারা এনএসসির কাছ থেকে সরকারি সহায়তা নিয়েছে। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ দেশের ক্রীড়াঙ্গনের কেন্দ্রীয় অভিভাবক সংস্থা হলেও, ম্যাচ আয়োজনের ক্ষেত্রে টিকিট বিতরণ সংক্রান্ত বিষয়েও বাফুফের পক্ষ থেকে তাদের কোনও স্পষ্টতা দেওয়া হয়নি। অথচ যেকোনো আন্তর্জাতিক বা ঘরোয়া ম্যাচে এনএসসি’র জন্য নির্দিষ্টসংখ্যক আসন সংরক্ষণের বিধান রয়েছে।
অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন
© thegalaxynews.com
























