প্রকাশ: ২৭ মার্চ ২০২৫, ০৫:০৮ পিএম

দ্রুত চলে আসছে রমজান মাসের শেষ সময়। বিদায়ের প্রাক্কালে দাঁড়িয়ে আছে, কেবল বিদায় নেওয়ার পালা। হ্যাঁ, রমজান মাস এসেছিল গুনাহ বর্জন ও সংযমের অনুশীলন শেখানোর জন্য। এখন সময় চলে আসছে সেই শিক্ষা অর্জনের, আর মাত্র কিছু দিন বাকি।
পবিত্র মাহে রমজানে রোজা রাখা, পূর্ণ ত্রিশটি রোজা পালন করা, সকল মুসলমানের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ফরজ আমল। আল্লাহ তায়ালা আল কুরআনে বলেন, “হে মুমিনগণ! তোমাদের জন্য রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর, যাতে তোমরা মুত্তাকি হতে পারো।” (সুরা বাকারা: ১৮৩)
প্রতি বছর রমজান মাস ফিরে আসে আমাদের তাকওয়া তথা আল্লাহভীতি অনুশীলন করার মহান শিক্ষা দিয়ে। এই মাস আমাদের অন্তরে আল্লাহর প্রকৃত ভয় জাগ্রত করতে সাহায্য করে এবং গুনাহমুক্ত জীবন যাপনে উদ্বুদ্ধ করে। রমজান মাসে যাবতীয় ঝগড়া-বিবাদ, মারামারি, অন্যায়, অশ্লীলতা এবং গুনাহের কাজ পরিহার করা হয়, যা এই মাসের প্রকৃত শিক্ষা। মন্দ কাজ থেকে বিরত থাকলেই প্রকৃত সংযম এবং সিয়াম সাধনা অর্জিত হয়।
সাহাবি হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, “রোজা হচ্ছে ঢাল স্বরূপ। সুতরাং, রোজাদার কখনও অশ্লীলতা করবে না এবং মূর্খের মতো কোনো কাজ করবে না। যদি কেউ তার সঙ্গে ঝগড়া করতে চায়, তাকে গালি দেয়, তবে সে যেন দুবার বলে, ‘আমি রোজা রেখেছি।’ ঐ সত্তার শপথ, যার হাতে আমার প্রাণ, অবশ্যই একজন রোজাদারের মুখের গন্ধ আল্লাহর কাছে মেশককের সুগন্ধির চাইতেও উত্তম।” (সহিহ বুখারি: ১৮৯৪)
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা হলো, রমজানে সর্বপ্রকারের মন্দ কাজ ত্যাগ করতে হবে, বিশেষত ঝগড়া-বিবাদ, গালাগাল এবং অন্যায় অশ্লীল কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে। আল্লাহর ভয় তথা তাকওয়া অর্জন করতে হবে, যা মন্দ আচরণ এবং গুনাহ বর্জন থেকে আসে।
আরেকটি হাদিসে সাহাবি হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে আরও বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি মিথ্যা বলা ও সে অনুযায়ী আমল করা বর্জন করেনি, তাঁর এ পানাহার পরিত্যাগ করাতে আল্লাহর কোনো প্রয়োজন নেই।” (সহিহ বুখারি: ১৯০৩)
এ হাদিস থেকে আমরা বুঝতে পারি যে, রোজাদার ব্যক্তির জন্য আবশ্যক হলো, মিথ্যা বলা এবং মিথ্যা কাজে লিপ্ত হওয়া থেকে বিরত থাকা। এমনকি যারা নিয়মিত রোজা রাখেন, তবে মিথ্যা কথা বলেন বা কর্মক্ষেত্রে মিথ্যার আশ্রয় নেন, তাদের রোজা আল্লাহ তায়ালার কাছে কোনো মূল্যই নেই।
এই জন্য রোজাদার ব্যক্তির জন্য প্রয়োজনীয় হলো, যাবতীয় অন্যায় আচরণ, মন্দ কথা ও মিথ্যা বলা থেকে বিরত থাকার মাধ্যমে আল্লাহর ভয় অন্তরে জাগ্রত রাখা। এইভাবে একজন রোজাদার ব্যক্তি প্রকৃত তাকওয়া অর্জন করতে পারবেন, যা তাকে মন্দ আচরণ ও গুনাহ থেকে মুক্তি প্রদান করবে এবং তাকে সত্যিকার সংযমী ও মুত্তাকি করে তুলবে।
আসুন, রমজান মাস আমাদের বিদায় নেওয়ার আগেই, এই রমজান আমাদের ত্যাগ, সংযম ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের মাধ্যমে সফল হোক। আমিন।
লেখক: খতিব, ভবানীপুর মাইজপাড়া হক্কানি জামে মসজিদ, গাজীপুর
অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন
© thegalaxynews.com
























