প্রকাশ: ২৪ মার্চ ২০২৫, ০৫:৪৫ পিএম

রমজান মাস হলো আল্লাহর অসীম নেয়ামতের একটি সময়, যেখানে বান্দা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য রোজা রাখে। তবে, মানুষ যেহেতু ভুল করতে পারে বা বিভিন্ন কারণে সমস্যা হতে পারে, তাই রোজা ভেঙে ফেললে তা সংশোধন করার জন্য কাজা ও কাফফারা আদায় করতে হয়।
রোজার কাফফারা কী?
রোজার কাফফারা হলো, রোজা ভেঙে ফেলার জন্য একটি অতিরিক্ত ক্ষতিপূরণ। এর মানে হলো, যাদের রোজা ভেঙে যায় তাদেরকে কিছু পরিমাণ ক্ষতিপূরণ হিসেবে নির্দিষ্ট কাজ করতে হবে। কাফফারা আদায়ের তিনটি বিকল্প রয়েছে:
- একটি দাস মুক্ত করা।
- অক্ষম হলে ধারাবাহিকভাবে ৬০ দিন রোজা রাখা।
- এবং তাও সম্ভব না হলে, ৬০ জন মিসকিনকে দুই বেলা খাবার খাওয়ানো।
কাফফারা আদায়ের নিয়ম: বেশিরভাগ ফকিহ বলেন, কাফফারা আদায় করতে হলে ধারাবাহিকতা রক্ষা করা আবশ্যক। অর্থাৎ:
- যদি কোনো ব্যক্তি দাস মুক্ত করতে অক্ষম থাকে, তাহলে তাকে ধারাবাহিকভাবে ৬০ দিন রোজা রাখতে হবে।
- যদি সে ৬০ দিন রোজা রাখতে ব্যর্থ হয়, তাহলে তাকে ৬০ জন মিসকিনকে খাবার খাওয়াতে হবে।
কাজা ও কাফফারা: যে ব্যক্তি রোজা ভেঙে ফেলবে, তার জন্য কাজা এবং কাফফারা উভয়টি আদায় করতে হবে। এক রোজা ভেঙে ফেললে তার জন্য একটি কাজা এবং একটি কাফফারা (মোট ৬১ রোজা) আদায় করতে হবে। যদি দুটি রোজা ভাঙে, তাহলে ৬২ রোজা আদায় করতে হবে এবং তেমনি অন্যান্য সংখ্যার জন্যও প্রযোজ্য।
ধারাবাহিকতা:
কাফফারার ৬০টি রোজা একত্রে ধারাবাহিকভাবে রাখতে হবে। যদি কোনো কারণে এই রোজাগুলোর মধ্যে বিরতি হয় বা ভাঙে, তাহলে নতুন করে আবার ৬১টি রোজা রাখতে হবে। এই রোজাগুলো নফল হিসেবে গণ্য হবে।
বিশেষ কিছু নির্দেশনা:
- যদি কোনো কারণে রোজা ভাঙা হয়, তবে গ্রহণযোগ্য ওজরের কারণে তা ক্ষমার যোগ্য হতে পারে।
- নারীরা তাদের বিশেষ বিরতির সময় বাদ দিয়ে ধারাবাহিকভাবে কাফফারা আদায় করবে।
- শিশু বা নাবালেগদের রোজা রাখা ফরজ নয়, তবে তারা ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃতভাবে রোজা ভাঙলে তাদের কোনো কাজা বা কাফফারা প্রয়োজন হয় না।
এভাবে, রোজার কাফফারা আদায়ের নিয়মাবলী মুসলিম সমাজের মধ্যে সঠিকভাবে পালন করা উচিত, যাতে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ করা যায় এবং পাপমুক্ত হওয়া যায়।
অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন
© thegalaxynews.com
























