প্রকাশ: ১০ মার্চ ২০২৫, ০৪:৪৩ পিএম

রমজান একটি অত্যন্ত পবিত্র মাস, যেখানে আল্লাহ তায়ালার বিশেষ রহমত ও মাগফিরাত বর্ষিত হয়। এই মাসে মুমিনদের জন্য পাপমোচন ও আত্মশুদ্ধির সুযোগ থাকে। আল্লাহ তায়ালা ও রসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নির্দেশনা মেনে চলা আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি আমাদের আমলগুলোকে গ্রহণযোগ্য করে তোলে। তবে, রমজানে কিছু কাজ রয়েছে যা থেকে আমাদের বিরত থাকা জরুরি।
কোরআন ও হাদিসে এমন কিছু বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে, যেগুলো থেকে আমাদের বিরত থাকা অত্যন্ত জরুরি। সেগুলো হল:
- শিরক (অল্লাহর সাথে অংশীদারিত্ব সৃষ্টি করা):
শিরক ইসলাম ধর্মের সবচেয়ে বড় গুনাহ এবং এটি আল্লাহ তায়ালার কাছে অত্যন্ত ঘৃণ্য। শিরক করা কখনোই ক্ষমা করা হয় না, কোরআনে এসেছে, “নিশ্চয়ই আল্লাহ শিরককে ক্ষমা করেন না।” (সুরা: নিসা, আয়াত: ৪৮) - মিথ্যা অপবাদ দেওয়া (জিনা বা ব্যভিচারের অপবাদ):
কাউকে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে তার মান-সম্মান ক্ষুন্ন করা অত্যন্ত নিন্দনীয়। কোরআনে সুরা নূরে এর বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি উল্লেখ করা হয়েছে, “যারা সতী নারীদের অপবাদ দেয়, তারা দুনিয়া ও আখিরাতে অভিশপ্ত।” (সুরা: নূর, আয়াত: ২৩) - অন্যায়ভাবে খুন করা:
অবিচারের মাধ্যমে কাউকে হত্যা করা ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। কোরআনে বলা হয়েছে, “তোমরা কখনো অন্যায়ভাবে কাউকে হত্যা করো না।” (সুরা: ইসরা, আয়াত: ৩৩) - বাবা-মাকে কষ্ট দেওয়া:
মা-বাবা তাদের সন্তানদের জন্য অনেক কষ্ট করেন, তাদের প্রতি সৎব্যবহার অত্যন্ত জরুরি। কোরআনে বলা হয়েছে, “তোমরা পিতা-মাতার সাথে সৎব্যবহার করবে, তাদেরকে উফ পর্যন্ত বলো না।” (সুরা: ইসরা, আয়াত: ২৩) - মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া:
মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া বড় গুনাহ। হাদিসে এসেছে, “আমি কি তোমাদেরকে সবচেয়ে বড় গুনাহ সম্পর্কে জানিয়ে দেবো না?” তিনবার নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিথ্যা কথা বলা ও মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ার ব্যাপারে সতর্ক করেছেন। (মুসলিম, হাদিস: ৮৭) - সুদ ভক্ষণ:
সুদ মানুষের অধিকার ক্ষুন্ন করে এবং এটি ইসলামে নিষিদ্ধ। কোরআনে ঘোষণা করা হয়েছে, “আল্লাহ তায়ালা বেচাকেনাকে হালাল করেছেন এবং সুদকে হারাম করেছেন।” (সুরা: বাকারা, আয়াত: ২৭৫) - গিবত (পিছন কথা বলা):
অন্যের দোষ গোপনে বলা বা গিবত করা অত্যন্ত গুনাহ। কোরআনে বলা হয়েছে, “তোমরা একে অপরের গিবত করো না, যেমন তুমি নিজের মৃত ভাইয়ের মাংস খেতে চাও না।” (সুরা: হুজুরাত, আয়াত: ১২) - মদ ও নেশা জাতীয় বস্তু ব্যবহার:
মদ ও নেশা মানুষের মেধা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা নষ্ট করে, এটি ইসলামিকভাবে নিষিদ্ধ। কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, “তারা তোমাকে মদ ও জুয়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। বলো, এগুলোর মধ্যে রয়েছে বড় পাপ এবং মানুষের জন্য কিছু উপকারিতা। কিন্তু তাদের পাপ উপকারিতার চেয়ে বেশি।” (সুরা: বাকারা, আয়াত: ২১৯) - জুয়া খেলা:
এটি অর্থনৈতিক দুরাবস্থা সৃষ্টি করে এবং সমাজে অস্থিরতা তৈরি করে। ইসলাম এ থেকে বিরত থাকতে নির্দেশ দিয়েছে। (সুরা: বাকারা, আয়াত: ২১৯) - মিথ্যা বলা:
মিথ্যা বলা বিশ্বাসের দুর্বলতা সৃষ্টি করে এবং সমাজে অস্থিরতা সৃষ্টি করে। হাদিসে বলা হয়েছে, “মুনাফিকের তিনটি আলামত: মিথ্যা বলা, ওয়াদা ভঙ্গ করা, আমানের খেয়ানত করা।” (বুখারি, হাদিস: ৬০৯৫)
এইসব গুনাহ থেকে বিরত থাকতে পারলে, রমজান আমাদের জন্য সত্যিকারের আত্মশুদ্ধির মাস হয়ে উঠবে। মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের সকলকে এসব নিষিদ্ধ কাজ থেকে রক্ষা করুন এবং আমাদের আমলগুলো কবুল করুন। আমিন।
অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন
© thegalaxynews.com
























