প্রকাশ: ৯ মার্চ ২০২৫, ০৩:৫৫ পিএম

ইসলামে ধর্ষণ একটি জঘন্য এবং মারাত্মক গুনাহ, যা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এর বিরুদ্ধে ইসলামে কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে, কারণ এটি মানবতা ও নৈতিকতার প্রতি এক ভয়াবহ আঘাত। ধর্ষণ শুধু ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকে বিপন্ন করে না, বরং সমাজে বিশৃঙ্খলা এবং নৈতিক অবক্ষয় সৃষ্টি করে।
কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, “ব্যভিচারিণী নারী এবং ব্যভিচারী পুরুষ, তাদের প্রত্যেককে ১০০ বেত্রাঘাত কর। আল্লাহর বিধান কার্যকরে তাদের প্রতি যেন তোমাদের মনে দয়ার উদ্রেক না হয়, যদি তোমরা আল্লাহ এবং পরকালের প্রতি বিশ্বাসী হয়ে থাকো। মুসলমানদের একটি দল যেন তাদের শাস্তি প্রত্যক্ষ করে।” (সুরা নূর)
রাসূল সা. বলেছেন, “অবিবাহিত পুরুষ-নারীর ক্ষেত্রে শাস্তি ১০০ বেত্রাঘাত এবং এক বছরের জন্য দেশান্তর। বিবাহিত পুরুষ-নারীর ক্ষেত্রে শাস্তি ১০০ বেত্রাঘাত এবং রজম (পাথর মেরে মৃত্যুদণ্ড)।” (সহিহ মুসলিম)
ইসলামে, যদি একজন পুরুষ বা নারী স্বেচ্ছায় ব্যভিচারে লিপ্ত হন, তাহলে উভয়কেই শাস্তি ভোগ করতে হবে। তবে, ধর্ষণের শিকার ব্যক্তির জন্য ইসলামে কোনো শাস্তির বিধান নেই, বরং শুধুমাত্র ধর্ষকই অপরাধী এবং তার বিরুদ্ধে শাস্তি কার্যকর হবে। ইসলামি আইন অনুযায়ী, ধর্ষণের জন্য মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে, বিশেষ করে যদি ধর্ষক বিবাহিত হয়। অবিবাহিত ধর্ষকের শাস্তি হতে পারে ১০০ বেত্রাঘাত এবং এক বছরের জন্য নির্বাসন।
ইসলামী আইনশাস্ত্রে বলা হয়েছে যে, ধর্ষণের প্রমাণ হিসেবে চারজন সাক্ষীর উপস্থিতি প্রয়োজন। তবে আধুনিক প্রযুক্তি যেমন ডিএনএ টেস্টও প্রমাণ হিসেবে গ্রহণযোগ্য হতে পারে। ইসলাম ধর্ষণ প্রতিরোধে নৈতিক শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেয়, এবং সমাজে সতর্কতা ও নৈতিকতা বৃদ্ধির জন্য ইসলামের শিক্ষাগুলি গ্রহণ এবং অনুসরণ করার জন্য উৎসাহিত করে।
বিশ্বব্যাপী, বিশেষ করে বাংলাদেশে ধর্ষণের ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে চলেছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় অপরাধীদের দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদি ধর্ষণের শাস্তি দ্রুত বাস্তবায়িত হয়, তবে তা সমাজে আতঙ্ক সৃষ্টি করবে, যা অপরাধীদের প্রতিরোধ করতে সহায়তা করবে। এটি অপরাধীদের জন্য একটি শক্তিশালী বার্তা হবে যে, সমাজে ধর্ষকের কোন স্থান নেই।
বর্তমান সমাজে পোশাকের শালীনতার গুরুত্ব অপরিসীম। ইসলাম পুরুষ-নারীকে একে অপরের পোশাক পরিধান করার অনুমতি দেয় না, কারণ এটি সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে। ইসলাম স্বল্প পোশাক বা অশ্লীলতা উসকে দেয় এমন পোশাককে নিষিদ্ধ করেছে, এবং এর মাধ্যমে ইসলামের উদ্দেশ্য হলো একটি শালীন, পবিত্র, সুশৃঙ্খল এবং ধর্ষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা করা।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে ইসলামের উপর যথাযথভাবে আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।
অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন
© thegalaxynews.com
























