প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৫, ০৮:৫৯ পিএম

ইসলামের দৃষ্টিতে প্রত্যেক মানুষের সম্মান, মর্যাদা ও অধিকার অপরিহার্য। শরিয়ত কাউকে তার ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করার অনুমতি দেয় না। কেউ যদি কারও হক নষ্ট করে বা অন্যায়ভাবে অধিকার হরণ করে, তবে তাকে শুধু পরকালের কঠিন শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে না—দুনিয়াতেও সেই পাপের ফল ভোগ করতে হতে পারে।
কোরআনের নির্দেশনা:
পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা বলেন,
“তোমরা একে অপরের সম্পদ অন্যায়ভাবে ভোগ করো না। মানুষের ধন-সম্পদ থেকে একাংশ জেনে-শুনে অন্যায়ভাবে গ্রহণের উদ্দেশ্যে বিচারকের কাছে পেশ করো না।”
— সুরা বাকারা, আয়াত: ১৮৮
আরও বলা হয়েছে:
“নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের নির্দেশ দেন যে, তোমরা আমানত তার মালিকের কাছে ফিরিয়ে দাও।”
— সুরা নিসা, আয়াত: ৫৮
হাদিসের সতর্কবাণী:
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন,
“যে ব্যক্তি অন্যের ক্ষতি করে, আল্লাহ তাকে ক্ষতিগ্রস্ত করবেন। যে অন্যকে কষ্ট দেয়, আল্লাহ তাকে কষ্টে ফেলবেন।”
— তিরমিজি, হাদিস: ১৯৪০
আরেক হাদিসে তিনি বলেন,
“যে অন্যের বিরুদ্ধে অন্যায়ভাবে দাঁড়ায়, আল্লাহ তার বিরোধিতা করবেন।”
— আবু দাউদ, হাদিস: ৩৬৩৫
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হাদিসটি হলো:
“যে ব্যক্তি কারও ওপর জুলুম করেছে, সে যেন কেয়ামতের আগেই তার থেকে ক্ষমা চেয়ে নেয়। কারণ সেদিন তার কাছে কোনো দিনার-দিরহাম থাকবে না। তখন তার নেক আমল থেকে কেটে নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিকে দেওয়া হবে। আর যদি তার কোনো নেক আমল না থাকে, তবে ওই ব্যক্তির গুনাহ তার ওপর চাপিয়ে দেওয়া হবে।”
— বুখারি, হাদিস: ২২৪০
অন্যের হক ফিরিয়ে দেওয়া শুধু ন্যায় প্রতিষ্ঠার কাজ নয়, বরং এটি জান্নাতের পথে এক বিশাল সওয়াবের কাজ। আজই নিজেকে প্রশ্ন করুন: কার হক আমার কাছে আছে? তা ফিরিয়ে দিন, ক্ষমা চেয়ে নিন—আল্লাহ আপনার জন্য জান্নাতের পথ সুগম করে দেবেন, ইনশাআল্লাহ।
অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন
© thegalaxynews.com
























