প্রকাশ: ২৪ মে ২০২৫, ০৫:৪৫ পিএম

কোরবানি শুধু একটি ধর্মীয় ইবাদত নয়; এটি সমাজ ও অর্থনীতিতেও ব্যাপক প্রভাব ফেলে। এর ইহকালীন উপকারিতাগুলোর মধ্যে কয়েকটি নিচে উল্লেখ করা হলো:
১. অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা:
গ্রামগঞ্জের খামারিরা কোরবানির পশু লালনপালন করে এ সময় বিক্রি করে আর্থিক স্বচ্ছলতা লাভ করেন। এটি তাদের জীবিকার একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস।
২. কর্মসংস্থান:
কোরবানির পশুর হাট ও সংক্রান্ত কাজে অনেক মানুষের অস্থায়ী কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়, যা তাদের জীবনে তাৎক্ষণিক স্বস্তি আনে।
৩. রাজস্ব আয়:
পশুর হাট থেকে সরকার হাসিল বাবদ বিপুল পরিমাণ অর্থ পায়, যা জাতীয় কোষাগারে জমা হয়।
৪. দরিদ্র মানুষের উপকার:
কোরবানির পশুর চামড়া বিক্রির অর্থ এবং গোশত দরিদ্রদের মাঝে বণ্টন হয়, যা তাদের আর্থিক ও পুষ্টি চাহিদা পূরণে সহায়ক হয়।
৫. চামড়া শিল্পের বিকাশ:
পশুর চামড়া দিয়ে তৈরি হয় ব্যাগ, জুতা, আসবাবপত্র ইত্যাদি। এর ওপর নির্ভর করে গড়ে উঠেছে বহু ট্যানারি ও শিল্প প্রতিষ্ঠান, যা ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করেছে।
৬. প্রোটিনের উৎস:
গরুর মাংস সাধারণত অনেক গরিব মানুষের নাগালের বাইরে। কোরবানির মাধ্যমে তাদের ঘরেও গোশত পৌঁছে যায়, যা পুষ্টির ঘাটতি পূরণে সহায়ক।
৭. সম্পদের অপচয় নয়:
পশুর প্রতিটি অংশ—গোশত, চামড়া, হাড্ডি, গোবর এমনকি পশম পর্যন্ত ব্যবহার হয়। কিছুই নষ্ট হয় না।
৮. খাদ্যতত্ত্ব ও মানব শরীর:
মানুষের দাঁতের গঠন এবং শারীরিক গঠনের ভিত্তিতে বোঝা যায়, মানুষ মাংস ও শাকসবজি—উভয় ধরনের খাদ্য গ্রহণের জন্যই উপযোগী। শুধু একটি ধরনের খাদ্য গ্রহণ করলে অপুষ্টি দেখা দিতে পারে।
৯. প্রকৃত ইনসাফ:
যেভাবে গাছপালা কেটে আমরা ব্যবহার করি, তেমনি আল্লাহ যাদের নির্দিষ্ট কাজে সৃষ্টি করেছেন, সেইভাবে ব্যবহার করাই ইনসাফ। নির্ধারিত কাজে ব্যবহার না করা জুলুম।
১০. পক্ষপাতমূলক সমালোচনা:
বিশ্বের বিভিন্ন ধর্ম ও জাতিতে প্রাণী উৎসর্গের নানা প্রথা থাকলেও, শুধুমাত্র মুসলমানদের কোরবানি নিয়ে সমালোচনা করা হয়। এটি প্রকৃতপক্ষে ইসলামের বিরুদ্ধেই এক ধরনের পক্ষপাতদুষ্ট মনোভাব।
কোরবানির ইবাদতের মাধ্যমে আমরা শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করি না, বরং সমাজ, অর্থনীতি ও মানবিকতার দিক থেকেও উপকৃত হই। কোরবানির পরিবর্তে দান বা টাকা বিতরণ ইসলামি শরিয়তের নির্দেশনার বিকল্প নয়। তাই আমাদের উচিত আল্লাহর এই হুকুম আন্তরিকতার সাথে পালন করা।
লেখক:
শিক্ষক, জামিয়া কোরআনিয়া আরাবিয়া লালবাগ, ঢাকা;
খতিব, আজিমপুর ছাপড়া মসজিদ;
পরিচালক, দাওয়াতুস সুন্নাহ বাংলাদেশ।
অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন
© thegalaxynews.com
























