ধর্ম

রমজানে মুমিনের কর্মসূচি যেমন হওয়া চাই

Icon

দ্যা গ্যালাক্সি নিউজ ডেস্ক

প্রকাশ: ৫ মার্চ ২০২৫, ০৪:৩৭ পিএম

রমজানে মুমিনের কর্মসূচি যেমন হওয়া চাই

রমজান মাস হলো সবচেয়ে বরকতময় মাস, যার মধ্যে রয়েছে রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের অফুরন্ত সুযোগ। এই মাসকে পবিত্র আত্মশুদ্ধি, গুনাহ মাফের এবং সৌভাগ্যের মাস হিসেবে বিবেচনা করা হয়। রমজানে নেক আমলগুলো পরিকল্পনা অনুযায়ী করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখানে রমজানের সময় যেসব কর্মসূচি অনুসরণ করা উচিত, সেগুলো তুলে ধরা হলো:

  1. রোজা পালন করা: রমজানের মূল এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি হলো রোজা পালন করা। প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ মুসলিম পুরুষ-মহিলার ওপর রোজা রাখা ফরজ। মহান আল্লাহ বলেন, “হে মুমিনরা! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেভাবে ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর, যাতে তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করো।” (সুরা বাকারা, আয়াত ১৮৩)

  2. তারাবি নামাজ পড়া: রমজান মাসে তারাবি নামাজ আদায় করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যে ব্যক্তি ইমানসহ সওয়াবের আশায় তারাবি নামাজ পড়বে, তার পূর্ববর্তী সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে। (সহিহ বুখারি)

  3. কোরআন পাঠ করা: রমজান মাস হলো কোরআনের মাস। এই মাসে কোরআন বেশি বেশি পড়া উচিত। আল্লাহতায়ালা বলেন, “রমজান মাস, যে মাসে বিশ্বমানবের জন্য পথপ্রদর্শন, সুপথের উজ্জ্বল নিদর্শন এবং হক ও বাতিলের প্রভেদকারী কোরআন অবতীর্ণ হয়েছে।” (সুরা বাকারা, আয়াত ১৮৫)

  4. নেক আমল বৃদ্ধি করা: রমজানে নেক আমলগুলোর সওয়াব অনেক বেশি। এক হাদিসে বলা হয়েছে, রমজান মাসে যে ব্যক্তি একটি নফল আদায় করল, সে যেন অন্য মাসে একটি ফরজ আদায় করল।

  5. তওবা ও ইস্তেগফার করা: আল্লাহতায়ালা বান্দার তওবায় খুশি হন। কোরআনে বলা হয়েছে, “তবে কেউ তওবা করলে, ইমান আনলে এবং সৎকর্ম করলে, আল্লাহ এরূপ লোকদের পাপরাশিকে পুণ্য দ্বারা পরিবর্তন করে দেবেন।” (সুরা ফুরকান, আয়াত ৭০)

  6. অধিক দোয়া করা: রমজান মাসে বেশি বেশি দোয়া করা উচিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “রোজা পালনকারী, মুসাফির এবং মজলুম ব্যক্তি, তাদের দোয়া কবুল হয়।” (আবু দাউদ)

  7. ইফতারের আয়োজন করা: অন্যদের ইফতার করানোও রমজানে একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “কোনো রোজা পালনকারীকে যে ইফতার করায়, সে লোকের জন্যও রোজা পালনকারীর সমপরিমাণ সওয়াব রয়েছে।” (ইবনে মাজাহ)

  8. শেষ দশকের ইবাদত: রমজানের শেষ দশকে বেশি বেশি ইবাদত করা উচিত। আয়েশা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) এত বেশি ইবাদত করতেন যে, অন্য কোনো সময়ে এ রকম ইবাদত করতেন না।

এছাড়া, রমজানে কদরের রাতের প্রতি মনোযোগ দিতে হবে, কারণ এ রাতটি হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, “যে ব্যক্তি কদরের রাতে ইমানের সঙ্গে সওয়াবের আশায় রাত জেগে ইবাদত করবে, তার পেছনের সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।” (সহিহ বুখারি)

লেখক: শিক্ষার্থী: মাথিয়া ই. ইউ. ফাজিল (স্নাতক), মাদ্রাসা, কিশোরগঞ্জ

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

© thegalaxynews.com

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

ধর্ম থেকে আরো

রোজার কাফফারা: কী এবং কিভাবে আদায় করবেন

রোজার কাফফারা: কী এবং কিভাবে আদায় করবেন

হিন্দু ধর্ম অবমাননার অভিযোগে মদনে যুবক গ্রেপ্তার

হিন্দু ধর্ম অবমাননার অভিযোগে মদনে যুবক গ্রেপ্তার

ওমরাহ ভিসার মেয়াদে নতুন নিয়ম চালু করল সৌদি আরব

ওমরাহ ভিসার মেয়াদে নতুন নিয়ম চালু করল সৌদি আরব

মাহে রমজানে কর্মঘণ্টা কমানোর ঘোষণা

মাহে রমজানে কর্মঘণ্টা কমানোর ঘোষণা

সম্পাদক : মো নুরুজ্জামান মনি

অনুসরণ করুন