প্রকাশ: ১১ মে ২০২৫, ০৪:৩৩ পিএম

ইসলামের আগমনের পূর্বে নারীর সামাজিক অবস্থান ছিল অত্যন্ত করুণ। উত্তরাধিকার, মতামত বা সম্মানের অধিকার তাদের ছিল না। এমনকি কন্যাশিশুদের জীবন্ত কবর দেওয়া হতো। এমন বর্বর সমাজে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) নারীকে, বিশেষ করে মাকে, যে মর্যাদা দিয়েছেন তা মানব ইতিহাসে বিরল।
তিনি বলেছেন, “জান্নাত মায়ের পায়ের নিচে”—এ বাক্যই মায়ের মর্যাদা ও সন্তানের দায়িত্বকে সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরে। হাদিসে বারবার মা’কে প্রাধান্য দিয়ে বলা হয়েছে, “তোমার মা, তোমার মা, তোমার মা, তারপর তোমার পিতা।” এমনকি জিহাদের চেয়েও মায়ের খেদমতকে অগ্রাধিকার দিতে বলা হয়েছে।
ইসলামে মাকে ভালোবাসার জন্য কোনো নির্দিষ্ট দিনের প্রয়োজন নেই। প্রতিটি দিনই মা দিবস হওয়া উচিত। অথচ আজ অনেক সন্তান তাদের বৃদ্ধ মাকে বৃদ্ধাশ্রমে রেখে আসে, যেখানে তারা একাকিত্বে ভোগেন, সন্তানদের জন্য অপেক্ষা করেন, কিন্তু তারা আর ফিরে আসে না। এ মর্মান্তিক বাস্তবতা ইসলাম সমর্থন করে না।
পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে,
“তোমার প্রভু আদেশ দিয়েছেন শুধু তাঁরই ইবাদত কর এবং পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার কর। যদি তারা বার্ধক্যে উপনীত হন, তবে ‘উহ’ শব্দটিও তাদের প্রতি উচ্চারণ করো না।” (সুরা বনি ইসরাঈল: ২৩-২৪)
ইসলাম নারী ও পুরুষ উভয়কে সমান মর্যাদা দিয়েছে—অর্থনৈতিক, সামাজিক ও আধ্যাত্মিক দিক থেকেও। নারী উত্তরাধিকার লাভের অধিকারী, মোহর প্রাপ্য, ব্যবসা-বাণিজ্যে অংশগ্রহণকারী, এমনকি নিজের অর্জিত সম্পদের পূর্ণ মালিক। কুরআনের ভাষায়,
“পুরুষ যা অর্জন করে তার জন্য তাদের অংশ রয়েছে, আর নারী যা অর্জন করে তার জন্যও তাদের অংশ রয়েছে।” (সুরা আন-নিসা: ৩৩)
নারী-পুরুষ একে অপরের অবিচ্ছেদ্য অংশ, যেমন কুরআনে বলা হয়েছে, “তোমরা তাদের পোশাক, তারা তোমাদের পোশাক।” (সুরা বাকারা: ১৮৭)
ইসলাম নারীকে শুধুমাত্র সামাজিক অবস্থানই দেয়নি, দিয়েছে আত্মিক উন্নতির সমান সুযোগ ও সম্মান। এ মর্যাদা পৃথিবীর আর কোনো ধর্ম বা সমাজে এত স্পষ্টভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
আল্লাহ আমাদেরকে এই শিক্ষার আলোকে মা ও নারীর প্রতি যথাযথ সম্মান ও দায়িত্ব পালনের তাওফিক দিন—আমিন।
অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন
© thegalaxynews.com
























