প্রকাশ: ৩ মার্চ ২০২৫, ০৫:৫৫ পিএম

ইফতারের দোয়া:
আরবি:
بِسْمِ اللّهِ اَللّهُمَّ لَكَ صُمْتُ وَ عَلَى رِزْقِكَ اَفْطَرْتُ
উচ্চারণ:
“বিসমিল্লাহি আল্লাহুম্মা লাকা ছুমতু ওয়ালা রিজকিকা আফতারতু”
অর্থ:
হে আল্লাহ! আমি তোমার সন্তুষ্টির জন্য রোজা রেখেছি এবং তোমার দেয়া রিজিকের মাধ্যমে ইফতার করছি।
(মুয়াজ ইবনে জাহরা থেকে বর্ণিত, আবু দাউদ, হাদিস : ২৩৫৮)
ইফতার ও দোয়ার গুরুত্ব:
ইফতার হল রোজা ভঙ্গের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও পবিত্র মুহূর্ত, যেটি সারা দিনের ক্ষুধা ও তৃষ্ণা থেকে মুক্তি দেয়। রোজা রাখার মূল উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন, আত্মসংযম ও আত্মশুদ্ধি। ইফতার করা সঠিক সময়ে এবং আল্লাহর নামে এই দোয়া পাঠ করা রোজাদারের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, কারণ এই মুহূর্তে দোয়া কবুল হওয়ার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। ইসলামী বিশ্বাস অনুযায়ী, ইফতারের সময় দোয়া কবুল হয়, তাই মুসলমানরা সাধারণত এই সময়টিতে আল্লাহর কাছে বিভিন্ন প্রার্থনা ও দোয়া করেন।
দোয়ার ব্যাখ্যা:
بِسْمِ اللّهِ (বিসমিল্লাহি):
“বিসমিল্লাহ” শব্দটির অর্থ হলো “আল্লাহর নামের সাথে।” ইসলামের প্রতিটি কাজের শুরুতে আল্লাহর নাম নেওয়া মুসলমানদের অভ্যাস। এটি কাজের মধ্যে আল্লাহর সাহায্য এবং বরকত কামনা করে।اَللّهُمَّ (আল্লাহুম্মা):
“আল্লাহুম্মা” শব্দটি এক প্রকার দোয়ার আহ্বান। এটি আল্লাহর প্রতি আবেদন বা প্রার্থনা প্রকাশ করে। এখানে এটা দ্বারা আল্লাহকে আহ্বান করা হচ্ছে যাতে তিনি রোজাদারের দোয়া কবুল করেন।لَكَ صُمْتُ (লাকা ছুমতু):
“লাকা ছুমতু” শব্দের অর্থ হল “আমি তোমার জন্য রোজা রেখেছি।” এখানে রোজাদার আল্লাহর উদ্দেশে বলছেন যে তিনি শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য রোজা রেখেছেন, কারও জন্য নয়।وَعَلَى رِزْقِكَ (ওয়া আলা রিজকিকা):
“ওয়া আলা রিজকিকা” মানে “এবং তোমার দেওয়া রিজিক (খাদ্য) দিয়ে ইফতার করছি।” এখানে রোজাদার আল্লাহকে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন যে, ইফতার করতে যে খাদ্য বা পানীয় পাওয়া যায় তা শুধুমাত্র আল্লাহর রহমত ও দয়া থেকে এসেছে।اَفْطَرْتُ (আফতারতু):
“আফতারতু” শব্দের অর্থ হল “আমি ইফতার করেছি,” যা রোজা ভঙ্গ করার প্রক্রিয়া প্রকাশ করে। এখানে রোজাদার আল্লাহর দেয়া রিজিক দিয়ে ইফতার করছে বলে জানাচ্ছে।
হাদিসের ব্যাখ্যা:
এই দোয়া মুআজ ইবনে জাহরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত হাদিসের মাধ্যমে প্রমাণিত। হাদিসটি আবু দাউদে পাওয়া যায়, এবং এটি ইসলামী শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে গণ্য করা হয়। এই দোয়া ইসলামী রীতি অনুযায়ী ইফতারের সময় বলা উচিত, কারণ ইফতার করার সময় আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা গুরুত্বপূর্ণ।
সুন্নত সম্পর্কিত নির্দেশনা:
খেজুর দিয়ে ইফতার করা:
রসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাধারণত খেজুর দিয়ে ইফতার করতেন। যদি কাঁচা খেজুর না পাওয়া যেত, তবে শুকনো খেজুর দিয়ে ইফতার করতেন। যদি তাও না থাকত, তবে এক চুমুক পানি দিয়ে ইফতার করতেন। (তিরমিজি)দ্রুত ইফতার করা:
রোজাদারের জন্য এটি সুন্নত যে তারা দ্রুত ইফতার করবে। সাহল ইবনে সাদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত হাদিসে রসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যতদিন মানুষ দ্রুত ইফতার করবে, ততদিন তারা কল্যাণের মধ্যে থাকবে।” (বুখারি)
এভাবে, ইফতার সময়ের দোয়া আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা এবং তার রহমত কামনা করে। আল্লাহর নামে এই দোয়া পাঠ করার মাধ্যমে রোজাদার তার সমস্ত কর্মকে আল্লাহর প্রতি একান্ত আনুগত্য ও সন্তুষ্টি প্রকাশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে
অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন
© thegalaxynews.com
























