প্রকাশ: ৩ মে ২০২৫, ০৪:৪৩ পিএম

হজ পালনের জন্য বৈধ অনুমতি না থাকলে কেউ যদি হজের উদ্দেশ্যে পবিত্র স্থানগুলোতে প্রবেশ বা অবস্থান করে, তাহলে তাকে সৌদি আরব থেকে বহিষ্কার করা হবে এবং পরবর্তী দশ বছরে দেশটিতে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে—এমন কঠোর নিয়ম চালু করেছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।
এই প্রেক্ষাপটে, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় বাংলাদেশি নাগরিকদের হজ পারমিট ছাড়া হজে অংশ না নিতে অনুরোধ জানিয়েছে। সৌদি আরব এবং বাংলাদেশের মধ্যে সুসম্পর্ক রক্ষা, হজযাত্রীদের কল্যাণ ও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনার স্বার্থে দেশ ও প্রবাসে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের উদ্দেশ্যে এই সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
চলতি হজ মৌসুমে যারা ভিজিট ভিসায় সৌদি আরব গেছেন, তাদের মক্কা ও আশপাশের পবিত্র স্থানগুলোতে না যাওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কেউ হজ বিধিমালা লঙ্ঘনকারীকে সহযোগিতা করলে বা আবাসন, পরিবহন বা প্রবেশে সহায়তা করলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
সৌদি সরকার নতুন নীতিমালায় স্পষ্ট করেছে—মক্কায় প্রবেশ করতে হলে হজ পারমিট, বৈধ ইকামা এবং অনুমোদিত কাজের প্রমাণ থাকতে হবে। এসব নথি ছাড়া কেউ পবিত্র নগরীতে প্রবেশ করলে ২০ হাজার সৌদি রিয়াল পর্যন্ত জরিমানা, এমনকি ১০ বছরের নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি হতে পারেন। সহায়তাকারীর বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ১ লাখ রিয়াল পর্যন্ত জরিমানা এবং যানবাহন বাজেয়াপ্ত করার বিধানও রয়েছে।
এই নিয়ম কার্যকর থাকবে জিলকদ মাসের ১ তারিখ থেকে জিলহজ মাসের ১৪ তারিখ পর্যন্ত (২৯ এপ্রিল থেকে ১০ জুন)। এই সময়ে ভিজিট ভিসাধারীদের ওপর থাকবে কড়া নজরদারি।
ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন জানিয়েছেন, হজ ব্যবস্থাপনার শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সৌদি আরবের আইনের প্রতি শ্রদ্ধা দেখানো জরুরি। বাংলাদেশের প্রবাসী অর্থনীতির অন্যতম উৎস এই দেশ, যেখানে প্রায় ৩৫ লাখ বাংলাদেশি কর্মরত। অতএব, অননুমোদিত হজ পালনের মতো কর্মকাণ্ড সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
ধর্ম সচিব একেএম আফতাব হোসেন প্রামানিক বলেন, হজ একটি দ্বিপাক্ষিক ও যৌথ ব্যবস্থাপনা যার নেতৃত্বে সৌদি সরকার থাকে। এর সফল বাস্তবায়নে অংশীজনদের সহযোগিতা এবং আইন-কানুন মেনে চলাই হজ ব্যবস্থাপনার মূল চাবিকাঠি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশ ২০২৫ সালে একটি সফল ও সুশৃঙ্খল হজ আয়োজন করতে পারবে।
অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন
© thegalaxynews.com
























